মতামত/সম্পাদকীয়
দেশে আইন আছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আছে, আদালত আছে,তারপরও সাধারণ মানুষ কেন ন্যায়বিচার পাবে না? কেন অপরাধের শিকার মানুষকে বিচারের আশায় দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হবে?
মাদক ব্যবসায়ীদের হাতেনাতে ধরার পরও তারা জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। শিশু বলাৎকারের মতো জঘন্য অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত ও কার্যকর বিচারের আওতায় আনা না হলে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলে পারিবারিক বিরোধসহ নানা ঘটনায় অসহায় ও দরিদ্র মানুষ অনেক সময় প্রভাবশালীদের চাপের মুখে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। কোথাও কোথাও অর্থের প্রভাব ও রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
যেখানে টাকার দাপট আর ক্ষমতার প্রভাব চলে, সেখানে একজন নিরপরাধ ও অসহায় মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ও শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, তা আমাদের বিচারব্যবস্থা ও আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। গাজীপুরের শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগসহ এ ধরনের ঘটনায় মানুষ ক্ষুব্ধ হচ্ছে। রুমির সন্তানের ওপর নির্যাতনের ঘটনায়ও মানুষের আবেগ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, কোনো অপরাধের বিচার না হওয়া যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।** কারণ, বিচারবহির্ভূত প্রতিশোধের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলে নিরপরাধ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
প্রশ্ন হলো, মানুষ কেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চায়? এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা দেয় বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, অপরাধীদের প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এবং প্রশাসনের ওপর আস্থার সংকট। যখন মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে অর্থ ও ক্ষমতার কাছে আইন অসহায়, তখনই আইনের শাসনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
তাই সরকারের দায়িত্ব শুধু আইন প্রণয়ন করা নয়; বরং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। শিশু বলাৎকার ও যৌন নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযোগের দ্রুত তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন মিথ্যা অভিযোগের শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
মনে রাখতে হবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে মানুষ প্রতিশোধ নয়, বিচারের ওপর আস্থা রাখবে।
আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে অপরাধীর পরিচয়, রাজনৈতিক অবস্থান কিংবা অর্থবিত্ত বিবেচনায় নয়—প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে বিচার হবে। যেখানে একজন দরিদ্র মানুষও প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার চাইতে ভয় পাবেন না। যেখানে কোনো শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারকে আতঙ্কে থাকতে হবে না।
প্রশ্ন একটাই,আইন কি শুধু দুর্বল মানুষের জন্য, নাকি সবার জন্য সমান?
সরকার, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—কথায় নয়, কাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করুন। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন এবং মানুষের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনুন।
মোহাম্মদ রবিউল হোসেন (সম্রাট)
লেখক ও সাংবাদিক।
আইন আছে, কিন্তু আইনের যথাযথ প্রয়োগ কোথায়?
EDITOR
|
28 October, 2026, 09:48 AM
|
68 বার পঠিত
আরও সংবাদ
আপনার মতামত দিন
পাঠকের মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

