Logo
শিরোনাম

লাইভ টিভি

বিজ্ঞাপন স্থান (ফিচার অ্যাড)

জাতীয়

সব খবর

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পেছনে

বিশেষ প্রতিনিধি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পেছনে অসুস্থতাকে কারণ দেখানো হয়েছে। আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদে সংবাদ সম্মেলন করে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কথা জানান। স্পিকার বলেন, তিনি গুরুতর অসুস্থ। বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেছেন। মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন। গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। এর ফলে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের রাজনৈতিক পটভূমিতে ভিন্নতা তৈরি হয়। মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলটির মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও সরকার গঠনের পর বিএনপি তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে সরানোর পথে যায়নি। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ছিল। তবে সরকার বা বিএনপি প্রকাশ্যে কখনো তাঁর পদত্যাগ দাবি করেনি। মো. সাহাবুদ্দিনফাইল ছবি: বাসস সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে গত মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়ে গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনা শুরু হয়। কয়েক দিন ধরে আলোচনার মধ্যে গতকাল সচিবালয়ে এক বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। রাষ্ট্রপতি লন্ডনে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বলে প্রকাশিত খবর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, এ বিষয়ে তাঁদের কিছু জানা নেই। পরে গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয় থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ দেশে ফিরছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই তিনি ব্যাংককে গিয়েছিলেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী রোববার তাঁর ফেরার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে আজ তিনি দেশে ফেরেন। দুপুর ১২টার দিকে ঢাকায় পৌঁছান স্পিকার। বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কথা জানালেন তিনি। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে। সূত্র:দৈনিক প্রথম আলো  

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

রাজনীতি

সব খবর

৬ নং পূর্ব ষোলশহর ওর্য়াডে রাহাত্তারপুল এলাকায় অসহায় ও দুস্থদের মাঝে সরকারি চাল বিতরণ করলেন এমপি এরশাদ উল্লাহ

মোহাম্মদ রবিউল হোসেন : চট্টগ্রাম / চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁও আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে সরকারি খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণ করেছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৬নং পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডের রাহাত্তারপুল এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে এ চাল বিতরণ করা হয়। এ সময় সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার হলো অসহায়, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো। মানবিক সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজসেবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। খাদ্য সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৬নং পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক হাসান লিটন, সদস্য সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ, বিএনপি নেতা হারুন সওদাগর, মোহাম্মদ আবদুল আজিজ, আনোয়ার হোসেন লিপু, মোহাম্মদ জাফর আহমেদ, মোহাম্মদ বখতেয়ার, মো. জাকির হোসেন, মোহাম্মদ হামিদসহ ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।    

মিডিয়া

সব খবর

জীবনের মোড় ঘোরানো সময়ে যারা পথ দেখিয়েছেন বোমান ইরানি

স্বাধীন বাংলা নিউজ: বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা বোমান ইরানি সম্প্রতি কলকাতার একটি পাঁচতারকা হোটেলে ‘ফিকি ফ্লো’র অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে ফিল্মি কোনো আড্ডা ছিল না। ছিল নারী উদ্যোক্তা ও পেশাদার অনুষ্ঠান।   'ফিকি ফ্লো' হচ্ছে— ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নারী শাখা। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সর্বভারতীয় ফোরামটি নারী উদ্যোক্তা ও পেশাদারদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নেতৃত্ব বিকাশ এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে কাজ করা একটি সংগঠন। সেই অনুষ্ঠানে অভিনেতা ইরানি জানালেন তার জীবনযুদ্ধের কথা। মায়ের উৎসাহই তার জীবনের টার্নিং পয়েন্টের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে নেন। বোমান ইরানি বলেন, জীবনের মোড় ঘোরানো সময়ে যারা পথ দেখিয়েছেন, তারা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের কথা বলতে চাই। আমি ১৯৫৯ সালের ডিসেম্বরে জন্মেছি। পরের বছরের মে মাসে আমার বাবা মারা যান। তাই আমি বাবাকে কোনো  দিন কাছ থেকে দেখিনি।  তিনি বলেন, আমার বড় হওয়া নারীদের ঘিরে। আমার মা, তিন বোন আর আত্মীয়দের মাঝেই আমার শৈশব কেটেছে। তারাই আমাকে বড় করে তুলেছেন। সে কারণে আমি নারীদের বোঝার এক ধরনের ক্ষমতা পেয়েছি।  এ অভিনেতা বলেন, ছোটবেলায় আমি খুব লাজুক ছিলাম। তোতলাতাম। কথা জড়িয়ে যেত। অনেকেই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করতেন। ধীরে ধীরে আমি ভয় পেতে শুরু করি। মনে হতো আমি কথা বললে মানুষ আমাকে জাজ করবেন। একসময়ে আমি কথা বলাই বন্ধ করে দিই। কিন্তু পরে আমি গান গাইতে শুরু করি এবং মঞ্চে উঠি। সেখানেই আমি প্রথম নিজের ভেতরের আনন্দ খুঁজে পাই।  বোমান ইরানি বলেন, সেদিন আমার মা আমাকে মঞ্চে দেখে হেসেছিলেন। পরে বলেছিলেন— প্রথমবার আমাকে সত্যিকারের আনন্দে হাসতে দেখেছিলেন। মা বুঝেছিলেন আমি কোথায় স্বচ্ছন্দবোধ করি। তাই তিনি আমাকে গান, নাটক, বক্তৃতার ক্লাসে পাঠাতে শুরু করেন। প্রতিদিন আমাকে সিনেমা দেখতেও পাঠাতেন। ধীরে ধীরে আমি আত্মবিশ্বাস ফিরে পাই। এ বর্ষীয়ান অভিনেতা বলেন, আমি জীবনে অনেক দৌড়েছি। অনেকবার পড়ে গেছি। আবার উঠে দাঁড়িয়েছি। কোথাও আটকে থাকিনি। কোনো খাঁচার মধ্যে বন্দি ছিলাম না। জীবন দিয়ে বুঝেছি— টাকা বা সাফল্যের চেয়ে নৈতিকতার মূল্য অনেক বেশি। এ কথাই আমি আজও মানুষকে বলি।  তিনি বলেন, আমার সন্তানদের বলি— আমার নাতি-নাতনিদেরও বলি। জীবনে সাফল্য পাওয়ার কোনো শর্টকাট হয় না। কোনো সহজ পথ নেই। আমার কাছে জীবন মানে হলো ব্যর্থতা থেকে শেখা এবং ভুল শুধরে নেওয়া। কেউ আপনাকে সংশোধন করলে সেটা খারাপভাবে নেওয়া উচিত নয়। মানুষকে উৎসাহ দিন, তাদের শক্তি দিন, ভালোবাসা দিন। তাদের ভুল খুঁজে বের করবেন না। বোমান ইরানি বলেন, নিখিল শর্মার ‘লেটস টক’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলাম। সিনেমাটা কেউ দেখেননি। নিখিল কেন ফিল্মটা বানিয়েছিলেন জানি না। সেই ফিল্ম দেখে একদিন বিধু বিনোদ চোপড়া ফোন করেন। উনি আমাকে একটা ফিল্মের জন্য দুই লাখ টাকা অ্যাডভান্স দেন। আমি জানতে চাই— ফিল্মের বিষয় কী? কে কে আছেন? উনি বললেন— কিছু ঠিক হয়নি। কিন্তু পরে তুমি ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তাই এই টাকাটা দিয়ে রাখলাম, যাতে পরে ডেট পাই।  এ অভিনেতা বলেন, সেই ফিল্মটাই ছিল ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’। রাজকুমার হিরানির সঙ্গেও প্রথম সাক্ষাৎ সেই ফিল্মের সূত্রেই। এই ফিল্মে সব অভিনেতা পরিবর্তিত হয়েছেন। শুধু আমার কাস্টিং প্রথম থেকে ঠিক ছিল। সঞ্জয় দত্তের প্রথমে জিমি শেরগিলের চরিত্রটা করার কথা ছিল। আর শাহরুখ খানের মুন্নাভাইয়ের চরিত্রটা। শাহরুখ সেই সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। নায়ক-নায়িকা বদলে যায় সিনেমার। বোমান ইরানি বলেন, আমি ছবি তুলতে খুব পছন্দ করি। এ কাজ করতে আমার খুব ভালো লাগে। কিন্তু কোনো কাজ পাচ্ছিলাম না। অনেক টাকা দিয়ে ফটোগ্রাফির সরঞ্জাম কিনে ফেলেছিলাম। কিন্তু হাতে কোনো কাজ ছিল না। শেষে অভিনেত্রী সুস্মিতা সেনের টিমের তরফ থেকে কল পাই। ওর ফটোশুট করার পর আর পেছনে ফিরে তাকাইনি। যে সময়ে আমি খুব স্ট্রাগল করেছিলাম, একটি বিদেশি পত্রিকা আমার ছবি ছাপার জন্য ৯০০ ডলার দিত। যতবার রি-প্রিন্ট করত, ততবার ওই পরিমাণ টাকা দিত। আমাকে তারা কোনো দিন দেখেননি। আমার ছবি ছাপলে জানতেও পারব না। কিন্তু তবু সেই পত্রিকা প্রতিবার টাকা দিত। তাতে আমি শিখেছিলাম নৈতিকতা কতটা জরুরি।

মতামত/সম্পাদকীয়

সব খবর

প্রবীণরা পরিচিত পরিবেশেই বেশি ভালো থাকেন

হাসান আলী : জীবনের শেষ অধ্যায়টি যেন এক নীরব নদীর মতো যেখানে স্রোত ধীর, কিন্তু গভীরতা অপরিসীম। এই সময়টায় মানুষ আর নতুন কিছুর প্রতি তেমন আগ্রহী থাকে না, বরং ফিরে যেতে চায় তার চেনা পৃথিবীতে, পরিচিত আকাশের নিচে, স্মৃতিমাখা সেই আপন ঠিকানায়।  প্রবীণদের মনোজগৎ তখন আবেগ, স্মৃতি আর সম্পর্কের সূক্ষ্ম সুতোয় বোনা এক অনন্য জগত। একটি পুরোনো বাড়ি যার দেয়ালে হয়তো রং চটে গেছে, ছাদে কিছু ফাটল তবুও সেটিই প্রবীণের কাছে স্বর্গসম। কারণ সেই বাড়ির প্রতিটি কোণেই জড়িয়ে থাকে তার জীবনের গল্প। সন্তানদের শৈশব, পরিবারের হাসি-কান্না, উৎসবের আনন্দ কিংবা দুঃসময়ের সংগ্রাম সবকিছু যেন নিঃশব্দে কথা বলে সেই দেয়ালগুলোর সঙ্গে। এই স্মৃতিগুলোই প্রবীণদের বেঁচে থাকার প্রেরণা, মানসিক আশ্রয় এবং একান্ত সঙ্গী।  অপরদিকে, যখন এই পরিচিত পরিবেশ থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করে নতুন কোনো স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তাদের ভেতরে এক ধরনের অজানা শূন্যতা জন্ম নেয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও সেখানে থাকে না সেই পরিচিতির উষ্ণতা, নেই চেনা মুখগুলোর সান্নিধ্য। ফলে প্রবীণরা অনেক সময় নিজেদের অপ্রাসঙ্গিক, একাকী এবং অনিরাপদ মনে করতে থাকেন। ধীরে ধীরে তাদের জীবনের প্রতি আগ্রহ কমে যায়, মন হয়ে পড়ে বিষণ্ণ। বর্তমান সমাজব্যবস্থায় আমরা একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি জীবিকার প্রয়োজনে সন্তানরা দূরে চলে যায়, কেউ শহরে, কেউ বিদেশে। এতে করে বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের একসঙ্গে বসবাস করা অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। আবার কখনো পারিবারিক মতবিরোধ, দায়িত্ববোধের ঘাটতি কিংবা স্বার্থের সংঘাতে প্রবীণ মা-বাবাকে আলাদা করে রাখার প্রবণতাও দেখা যায়। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য তখনই তৈরি হয়, যখন মা ও বাবাকে আলাদা করে রাখা হয় একজন এক সন্তানের কাছে, অন্যজন আরেক সন্তানের কাছে। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের শেষে এসে এই বিচ্ছিন্নতা শুধু শারীরিক দূরত্ব নয়, এটি গভীর মানসিক আঘাত। জীবনের শেষ সময়ে এসে যারা একে অপরের আশ্রয় হওয়ার কথা, তারা যদি আলাদা হয়ে যান, তবে সেই কষ্ট নিঃশব্দেই তাদের ভেতরে ক্ষত তৈরি করে। প্রবীণদের চাহিদা খুবই সামান্য। তারা বিলাসিতা চান না, চান না আড়ম্বরপূর্ণ জীবন। তারা শুধু চান একটু আন্তরিকতা, কিছুটা সময়, আর প্রিয়জনদের পাশে থাকার নিশ্চয়তা। একটি পরিচিত উঠান, একটি পুরোনো গাছের ছায়া, কিংবা পাশের প্রতিবেশীর সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প এসব ছোট ছোট বিষয়ই তাদের জীবনে গভীর আনন্দ এনে দেয়। আমাদের উচিত এই বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করা যে, প্রবীণরা আমাদের জীবনের মূলভিত্তি। তাদের ত্যাগ, ভালোবাসা এবং সংগ্রামের উপর দাঁড়িয়ে আমাদের বর্তমান। তাই তাদের জীবনের শেষ সময়টুকু যেন হয় সম্মানজনক, শান্তিময় এবং ভালোবাসায় পূর্ণ এটি নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

ত্রয়োদশ নির্বাচন

সব খবর

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করবো

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।  

অপরাধ

সব খবর

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে টেম্পারিং করা বিষাক্ত মদ পান করে এক সাংবাদিক-সহ দুইজনের মৃত্যু

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে টেম্পারিং করা বিষাক্ত মদ পান করে এক সাংবাদিকসহ দুইজনের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পেছনে পরিকল্পিত হত্যার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার-এর চট্টগ্রাম প্রতিনিধি বেলাল হোসেন, মোস্তাফিজ, কাউসারসহ কয়েকজন পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে যান। সেখানে তারা স্থানীয় মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত আলাউদ্দিন এর প্রধান সহকারী আরিফ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে "ভ্যালেন্টাইন হুইস্কি" নামে ২ টি বিদেশি মদের বোতল কেনেন।পরে তারা পতেঙ্গা হোটেল সংলগ্ন একটি আবাসিক হোটেলে গিয়ে ওই মদ পান করেন। জানা যায় তারা যে মদটি পান করেছিলেন সেটি ছিল টেম্পারিং করা এবং বিষাক্ত উপাদান মিশ্রিত। মদ পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে নিজ নিজ বাসায় ফিরে গেলেও শুক্রবার সকালে তাদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে বেলাল হোসেন, মোস্তাফিজ এবং কাউসারকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিক বেলাল হোসেন মারা যান। একই দিন সন্ধ্যায় মারা যান মোস্তাফিজ প্রকাশ লালচাঁদ। অপরদিকে কাউসার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সাংবাদিক বেলাল হোসেনের পেশাগত কর্মকাণ্ড। অনুসন্ধানে একাধিক সূত্র দাবি করেছে, পতেঙ্গা এলাকার মাদক সম্রাট আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশ করায় তার সঙ্গে বেলাল হোসেনের বিরোধ চলছিল।এছাড়া সম্প্রতি পতেঙ্গার সীবার্ড রেস্টুরেন্টে ভেজাল খাবার পরিবেশনের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন বেলাল হোসেন। ওই রেস্টুরেন্টের সঙ্গে কৃষকদল নেতা নাসিরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। পরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সেখানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলে নাসিরের সঙ্গেও বেলাল হোসেনের বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মাদক ব্যবসা ও সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে আলাউদ্দিন এবং নাসিরের সঙ্গে চলমান বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে বিষাক্ত বা টেম্পারিং করা মদ সরবরাহ করা হয়ে থাকতে পারে এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন, সহকর্মী সাংবাদিক এবং স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি শুধুমাত্র বিষাক্ত মদপানে মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যার সম্ভাবনাও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে। তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

ধর্ম ও জীবন

সব খবর

বোকারা বিজয় এবং আজকের মুসলিম বিশ্ব।

মোহাম্মদ আরমান মিয়া , সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিষ্ট স্বাধীন বাংলা নিউজ:  বুখারা বিজয় এবং আজকের মুসলিম বিশ্ব।  বক্তা চেঙ্গিস খানের বুখারা বিজয়ের একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে বর্তমান সময়ের সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) এবং মুসলিম বিশ্বের পরিস্থিতির তুলনা করেছেন। ১. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: চেঙ্গিস খান ও বুখারা।  * চেঙ্গিস খান যখন বুখারা জয় করেন, তখন তিনি সেখানকার আলেমদের (ধর্মীয় পণ্ডিত) একটি মসজিদে একত্রিত করতে বলেন।  * তিনি ঘোড়ায় চড়ে সেই মসজিদে প্রবেশ করেন এবং আলেমদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেন।  * প্রশ্নটি ছিল: **"তোমরা তোমাদের রবের সাথে এমন কী অবাধ্যতা করেছ যে, তিনি আমাকে তোমাদের ওপর আযাব (শাস্তি) হিসেবে পাঠিয়েছেন?"**  * বক্তা উল্লেখ করেন যে, সেই সময় বুখারার আলেম ও মানুষরা কুরআন-সুন্নাহ এবং নবীর আদর্শ ছেড়ে গ্রিক দর্শনের মতো বিজাতীয় চিন্তাধারায় ডুবে গিয়েছিলেন, যা তাদের পতনের কারণ হয়েছিল। ২. বর্তমান পরিস্থিতির সাথে তুলনা (UAE ও দুবাই) বক্তা এই ঐতিহাসিক ঘটনার আলোকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (বিশেষ করে দুবাই ও আবুধাবি) এবং মুসলিম বিশ্বের বর্তমান অবস্থার সমালোচনা করেছেন:  * **ধর্মীয় পরিবর্তন:** তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রায় দুই দশক আগে থেকেই সেখানে ধর্মীয় বই ও পাঠ্যক্রম থেকে কুরআন ও হাদীসের সেই অংশগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে যা ইহুদিদের শত্রুতা সম্পর্কে সতর্ক করে।  * **সম্পর্ক ও আদর্শ:** কুরআনের নির্দেশের বিপরীতে ইহুদিদের সাথে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব এবং তাদের 'ধর্মীয় ভাই' বা 'কাজিন' হিসেবে গ্রহণ করার প্রচার চালানো হচ্ছে।  * **ইসলামী বিধি-বিধানের লঙ্ঘন:** রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিষেধ থাকা সত্ত্বেও আরব উপদ্বীপে মন্দির এবং সিনাগগ (ইহুদি উপাসনালয়) নির্মাণ করা হয়েছে।  ৩. বক্তার মূল বার্তা: বক্তা বলতে চেয়েছেন যে, যখনই মুসলিম জাতি তাদের মূল ধর্মীয় আদর্শ ও আল্লাহর বিধান ত্যাগ করে বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ শুরু করে, তখনই তাদের ওপর বিপর্যয় নেমে আসে। তিনি সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক ঘটনা ও সংঘাতকে (যেমন ইরান-ইসরায়েল বা আঞ্চলিক অস্থিরতা) আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ধরণের সতর্কবার্তা বা শাস্তি হিসেবে ইঙ্গিত করেছেন। **সারসংক্ষেপ:** মূলত মুসলিম উম্মাহকে তাদের ধর্মীয় মূলনীতির দিকে ফিরে আসার এবং বিজাতীয় আদর্শ বর্জন করার একটি কড়া আহ্বান।

ছবির গ্যালারি

আরও দেখুন

৬ নং পূর্ব ষোলশহর ওর্য়াডে রাহাত্তারপুল এলাকায় অসহায় ও দুস্থদের মাঝে সরকারি চাল বিতরণ করলেন এমপি এরশাদ উল্লাহ

ভিডিও গ্যালারী

আরও ভিডিও »

ধনবাড়ীতে ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনা: খাসপাড়া সড়ক এখন জনগণের ‘

স্বাধীন বাংলা ‍নিউজ এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন shadhinbanglanews

স্বাধীন বাংলা ‍নিউজ এর খবর