Logo
শিরোনাম

লাইভ টিভি

বিজ্ঞাপন স্থান (ফিচার অ্যাড)

জাতীয়

সব খবর

হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও সাতজনের মৃত্যু*

রিপোর্ট: টিপু সুলতান দেশে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মৃতদের বেশিরভাগই শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জ্বর, সর্দি ও শরীরে র‍্যাশ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাদের মৃত্যু হয়। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। *হামের লক্ষণ কী কী?* - উচ্চ জ্বর, চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া - নাক দিয়ে পানি পড়া, শুকনো কাশি - মুখের ভেতর সাদা দাগ ও পরে সারা শরীরে লাল র‍্যাশ *বাঁচার উপায়:* বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধের একমাত্র উপায় টিকা। ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে শিশুকে অবশ্যই এমআর টিকা দিন। আক্রান্ত হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন এবং রোগীকে আলাদা রাখুন।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

রাজনীতি

সব খবর

চট্টগ্রামে ১৯ নং ও দক্ষিণ বাকলিয়ায় কাউন্সিলর পদে লড়তে চান তরুন আরমুন খাঁন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নগরীর ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন মো. আরমুন খাঁন। দীর্ঘ ১৬ বছরের রাজনৈতিক পথচলা, হামলা-মামলার অভিজ্ঞতা এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে ওয়ার্ডবাসীর সেবা করতে চান তিনি। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিক সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যাশা তাঁর। ২০১০ সালে ছাত্রদলের রাজনীতিতে পথচলা শুরু মো. আরমুন খাঁনের। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের হাত ধরে রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। ইসলামিয়া কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি বাকলিয়ার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এই তরুণ নেতা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা,হামলা-মামলা এবং পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন আরমুন খাঁন। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে দলের আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন তিনি। বর্তমানে আরমুন খাঁন বাকলিয়া থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, শহীদ ওয়াসিম স্মৃতি সংসদ বাকলিয়া থানার সহসভাপতি এবং জিয়া সাইবার ফোর্স চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঐতিহ্যবাহী খান পরিবারের সন্তান আরমুন খাঁনের দাদা ছিলেন মরহুম ইসলাম খাঁন সওদাগর। পারিবারিক ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে চান আরমুন খাঁন। তাঁর প্রত্যাশা, এলাকার তরুণ সমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং নাগরিক সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা। এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা, মশক নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোকে সামনে রেখে কাজ করতে চান তিনি। তবে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং দলীয় সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ বাকলিয়ার মানুষের আস্থা অর্জন করতে চান মো. আরমুন খাঁন। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে তাঁর অবস্থান কী হবে, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং ভোটারদের সমর্থনের ওপর।

মিডিয়া

সব খবর

ইতালির চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একবার বাংলাদেশের সিনেমার মুকুটে যুক্ত হলো নতুন এক গৌরবোজ্জ্বল অর্জন। ইতালির ঐতিহ্যবাহী লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ২২তম আসরে ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে সেরা সিনেমার পুরস্কার জিনে নিয়েছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘মাস্টার’। গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ইতালির লুকা শহরে এই আন্তর্জাতিক উৎসবের পর্দা উঠেছিল এবং উৎসবের সমাপনী দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। ২০০৫ সাল থেকে নিয়মিত আয়োজিত হয়ে আসা এই উৎসবে বিশ্বমানের বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হয় বাংলাদেশি এই সিনেমাটিকে। বিশ্ব চলচ্চিত্রের এই মর্যাদাপূর্ণ আসরে সেরা নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিল দেশের চলচ্চিত্র শিল্প।এবারের আসরে মাস্টার ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আরও ১১টি প্রখ্যাত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মূল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু আন্তর্জাতিক সিনেমার মধ্যে ছিল ‘ফার্স্ট ডেজ’, ‘সি সন্স’, ‘স্যালভেশন’, ‘সাপোর্টিং রোল’, ‘দ্য কোয়ায়েট বি-কিপার’ এবং ‘অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’-এর মতো প্রশংসিত সব কাজ। এই শক্তিশালী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ চলচ্চিত্রগুলোকে পেছনে ফেলে জুরি বোর্ডের নজর কেড়ে সেরার পুরস্কার নিজেদের করে নেয় ‘মাস্টার’। উৎসবের বিচারকমণ্ডলী তাদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় সিনেমাটির শৈল্পিক উৎকর্ষ ও গভীর বার্তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাদের মতে, একটি স্থানীয় প্রেক্ষাপটের গল্প ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে বিরাজমান প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সংকটকে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন নির্মাতা।চলচ্চিত্রটির গল্প ও চিত্রনাট্যের মুন্সিয়ানার প্রশংসা করে জুরিবোর্ড জানিয়েছে, অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত ও সূক্ষ্ম বিন্যাসের কারণে দর্শকরা একজন আদর্শবান শিক্ষকের সঙ্গে পরিচিত হন। ন্যায়বিচার ও সুনির্দিষ্ট নীতিতে বিশ্বাসী সেই শিক্ষক কীভাবে বৃহত্তর কল্যাণের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থের পেছনে ছোটা রাজনৈতিক ব্যবস্থার জটিলাঁজালে পড়ে প্রভাবিত হন, তা অত্যন্ত সাবলীলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত নিজেই সিনেমাটি পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছেন। এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছেন অভিনেতা নাসির উদ্দিন খান। স্থানীয় রাজনীতিতে সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রবেশ করা একজন শিক্ষক কীভাবে ক্ষমতার লোভ ও আপসের যাঁতাকলে পড়ে ধীরে ধীরে বদলে যান, মূলত সেই বাস্তবধর্মী কাহিনী নিয়েই এগিয়ে গেছে এই ছবির মূল গল্প।ছবিটিতে নাসির উদ্দিন খান ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় ও প্রতিভাবান অভিনয়শিল্পী গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে নিজেদের মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। এই তারকাবহুল তালিকায় রয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরিফ সিরাজ এবং তাসনুভা তামান্না প্রমুখ। আন্তর্জাতিক এই উৎসবে সিনেমাটির এমন বড় অর্জনে দারুণ উচ্ছ্বসিত নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জানান যে, লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের এই স্বীকৃতি ‘মাস্টার’ সিনেমার সর্বজনীন আবেদন ও প্রাসঙ্গিকতার একটি বড় প্রমাণ। এবারের প্রতিযোগিতায় বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা থাকার পরও তাঁর দলের সবার কঠোর পরিশ্রমকে মূল্যায়ন করায় তিনি বিচারকমণ্ডলীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত রটারডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৫৫তম আসরেও বিগ স্ক্রিন প্রতিযোগিতায় সেরা নির্বাচিত হয়েছিল এই সিনেমাটি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের ঝুলি ভারী করার পর এবার দেশের দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি উপহার দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন নির্মাতা।

মতামত/সম্পাদকীয়

সব খবর

প্রবীণরা পরিচিত পরিবেশেই বেশি ভালো থাকেন

হাসান আলী : জীবনের শেষ অধ্যায়টি যেন এক নীরব নদীর মতো যেখানে স্রোত ধীর, কিন্তু গভীরতা অপরিসীম। এই সময়টায় মানুষ আর নতুন কিছুর প্রতি তেমন আগ্রহী থাকে না, বরং ফিরে যেতে চায় তার চেনা পৃথিবীতে, পরিচিত আকাশের নিচে, স্মৃতিমাখা সেই আপন ঠিকানায়।  প্রবীণদের মনোজগৎ তখন আবেগ, স্মৃতি আর সম্পর্কের সূক্ষ্ম সুতোয় বোনা এক অনন্য জগত। একটি পুরোনো বাড়ি যার দেয়ালে হয়তো রং চটে গেছে, ছাদে কিছু ফাটল তবুও সেটিই প্রবীণের কাছে স্বর্গসম। কারণ সেই বাড়ির প্রতিটি কোণেই জড়িয়ে থাকে তার জীবনের গল্প। সন্তানদের শৈশব, পরিবারের হাসি-কান্না, উৎসবের আনন্দ কিংবা দুঃসময়ের সংগ্রাম সবকিছু যেন নিঃশব্দে কথা বলে সেই দেয়ালগুলোর সঙ্গে। এই স্মৃতিগুলোই প্রবীণদের বেঁচে থাকার প্রেরণা, মানসিক আশ্রয় এবং একান্ত সঙ্গী।  অপরদিকে, যখন এই পরিচিত পরিবেশ থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করে নতুন কোনো স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তাদের ভেতরে এক ধরনের অজানা শূন্যতা জন্ম নেয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও সেখানে থাকে না সেই পরিচিতির উষ্ণতা, নেই চেনা মুখগুলোর সান্নিধ্য। ফলে প্রবীণরা অনেক সময় নিজেদের অপ্রাসঙ্গিক, একাকী এবং অনিরাপদ মনে করতে থাকেন। ধীরে ধীরে তাদের জীবনের প্রতি আগ্রহ কমে যায়, মন হয়ে পড়ে বিষণ্ণ। বর্তমান সমাজব্যবস্থায় আমরা একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি জীবিকার প্রয়োজনে সন্তানরা দূরে চলে যায়, কেউ শহরে, কেউ বিদেশে। এতে করে বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের একসঙ্গে বসবাস করা অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। আবার কখনো পারিবারিক মতবিরোধ, দায়িত্ববোধের ঘাটতি কিংবা স্বার্থের সংঘাতে প্রবীণ মা-বাবাকে আলাদা করে রাখার প্রবণতাও দেখা যায়। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য তখনই তৈরি হয়, যখন মা ও বাবাকে আলাদা করে রাখা হয় একজন এক সন্তানের কাছে, অন্যজন আরেক সন্তানের কাছে। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের শেষে এসে এই বিচ্ছিন্নতা শুধু শারীরিক দূরত্ব নয়, এটি গভীর মানসিক আঘাত। জীবনের শেষ সময়ে এসে যারা একে অপরের আশ্রয় হওয়ার কথা, তারা যদি আলাদা হয়ে যান, তবে সেই কষ্ট নিঃশব্দেই তাদের ভেতরে ক্ষত তৈরি করে। প্রবীণদের চাহিদা খুবই সামান্য। তারা বিলাসিতা চান না, চান না আড়ম্বরপূর্ণ জীবন। তারা শুধু চান একটু আন্তরিকতা, কিছুটা সময়, আর প্রিয়জনদের পাশে থাকার নিশ্চয়তা। একটি পরিচিত উঠান, একটি পুরোনো গাছের ছায়া, কিংবা পাশের প্রতিবেশীর সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প এসব ছোট ছোট বিষয়ই তাদের জীবনে গভীর আনন্দ এনে দেয়। আমাদের উচিত এই বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করা যে, প্রবীণরা আমাদের জীবনের মূলভিত্তি। তাদের ত্যাগ, ভালোবাসা এবং সংগ্রামের উপর দাঁড়িয়ে আমাদের বর্তমান। তাই তাদের জীবনের শেষ সময়টুকু যেন হয় সম্মানজনক, শান্তিময় এবং ভালোবাসায় পূর্ণ এটি নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

ত্রয়োদশ নির্বাচন

সব খবর

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করবো

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।  

অপরাধ

সব খবর

সাংবাদিক আলিফ হত্যা: অপূর্ব গ্রেপ্তার, তাজুলকে ঘিরে তদন্তের দাবি

পলাশ পাল, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি) নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাজেবুল ইসলাম অপূর্ব (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে দুর্গাপুর পৌরশহরের পুরাতন সিনেমা হল সড়ক এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে, তাজুল ইসলাম ওরফে ‘কিলার তাজুল’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তিকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসায় তাঁর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। তবে হত্যাকাণ্ডে কারা সরাসরি জড়িত, কে পরিকল্পনা করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ কী—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। পুলিশ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার অপূর্ব দুর্গাপুর পৌরশহরের উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা শমসের আলীর ছেলে। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ জানিয়েছেন, সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে অপূর্বকে তাজুল ইসলামের সহযোগী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রকৃতি, হত্যাকাণ্ডে তাঁর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততার বিষয় তদন্তসাপেক্ষ। গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের কাছাকাছি তেলুঞ্জিয়া এলাকায় সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি রূপসী বাংলা আইপিটিভির নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখি করতেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে ১৬ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাত থেকে আটজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পরদিন রাতে অপূর্বকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে তদন্তে নতুন অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয়, হামলার পরিকল্পনা এবং হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো জানা যায়নি। আলিফ হত্যাকাণ্ডের আলোচনায় উঠে এসেছে ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি দুর্গাপুর পৌরশহরের উকিলপাড়া এলাকায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনাও। ওই দিন দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শফিকুলের মৃত্যু হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি জামালপুর পুলিশ লাইন্সের বেতার শাখায় কর্মরত ছিলেন এবং ছুটিতে নিজ বাড়ি দুর্গাপুরে এসেছিলেন। ওই হত্যা মামলায় অপূর্ব এজাহারভুক্ত আসামি বলে দুর্গাপুর থানার ওসি জানিয়েছেন। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের বরাতে সাংবাদিক আলিফের ওপর হামলার সঙ্গে আগের ওই ঘটনার সম্ভাব্য যোগসূত্রের কথাও আলোচনায় এসেছে। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে সম্পর্ক ছিল কি না, হামলাকারীরা কাউকে ভুল করে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল কি না, কিংবা আলিফকে আগে থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তদন্তে সাক্ষ্য-প্রমাণ, ঘটনাস্থলের আলামত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে বিষয়গুলো পরিষ্কার করা প্রয়োজন। দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় মাদক পাচার, চোরাচালান এবং অপরাধী চক্রের তৎপরতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ও উদ্বেগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত। তাজুল ইসলাম ও তাঁর কথিত সহযোগীদের ঘিরে যেসব অভিযোগ সামনে এসেছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি, পুলিশের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান প্রয়োজন। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তও জরুরি। সাংবাদিক আলিফ বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখি করতেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর সাংবাদিকতার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। তবে তাঁর প্রকাশিত প্রতিবেদন, ব্যক্তিগত বিরোধ, সম্ভাব্য হুমকি কিংবা অন্য কোনো কারণ হত্যাকাণ্ডের পেছনে কাজ করেছে কি না, তা এখনো প্রমাণিত নয়। এ ক্ষেত্রে নিহতের পরিবার, সহকর্মী, পরিচিতজন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এখন তদন্তের প্রধান বিষয় হচ্ছে—হত্যাকাণ্ডে কারা সরাসরি অংশ নিয়েছিল, কে বা কারা পরিকল্পনা করেছিল, ব্যবহৃত আলামতের সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না এবং হত্যার পেছনে কোনো বিরোধ বা অন্য উদ্দেশ্য কাজ করেছে কি না। গ্রেপ্তার অপূর্বের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও তদন্তে সংগৃহীত অন্যান্য প্রমাণ এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে আগের এসআই শফিকুল হত্যা মামলার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র থাকলে সেটিও প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা জরুরি। সাংবাদিক হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা শুধু নিহতের পরিবারের ন্যায়বিচারের জন্য নয়, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহল।

ধর্ম ও জীবন

সব খবর

তাহাজ্জুদ নামাজ কত রাকাত, পড়ার নিয়ম কী

ইসলাম ধর্মে নফল ইবাদতগুলোর মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজ অন্যতম সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ নির্ধারিত হওয়ার আগে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য এই নামাজ আদায় করা বিশেষভাবে বাধ্যতামূলক ছিল। তিনি নিজে যেমন নিয়মিত এই ইবাদত পালন করতেন, তেমনি কোনো কারণে ছুটে গেলে দিনে তা কাজা করে নিতেন এবং সাহাবিদেরও এটি নিয়মিত আদায়ের জোরালো তাগিদ দিতেন। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, তাহাজ্জুদ নামাজ হলো অতীতের সৎকর্মশীল ও নেককার বান্দাদের একটি বিশেষ আমল, যা মানুষকে অন্যায় ও পাপকাজ থেকে দূরে রাখে এবং বিভিন্ন শারীরিক রোগব্যাধি থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।সাধারণত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে এই নামাজ কত রাকাত পড়া উচিত তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল কাজ করে থাকে। নির্ভরযোগ্য হাদিসের তথ্য অনুযায়ী, তাহাজ্জুদ নামাজ সর্বনিম্ন দুই রাকাত থেকে শুরু করে সর্বমোট কুড়ি রাকাত পর্যন্ত পড়ার বিধান ও বর্ণনা পাওয়া যায়। মহানবী সা. পরিস্থিতি ভেদে কখনো চার রাকাত, কখনো আট রাকাত আবার কখনো বারো রাকাত পর্যন্ত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন। উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সা. সাধারণত সারা বছর নিয়মিতভাবে আট রাকাত করে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন।মুসলমানদের জন্য সময় ও সুযোগের ওপর ভিত্তি করে এই নামাজ আদায়ের পরিধি নির্ধারণ করা যেতে পারে। পর্যাপ্ত সময় থাকলে বারো রাকাত বা আট রাকাত আদায় করা অত্যন্ত উত্তম, তবে ব্যস্ততা বা অন্য কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে অন্তত চার রাকাত পড়া উচিত। এরপরও যদি কারও শারীরিক দুর্বলতা বা সময়ের চরম সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে তিনি কমপক্ষে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেও তাহাজ্জুদ আদায়ের পূর্ণ সওয়াব ও নেকি লাভ করতে পারবেন। এই নামাজ দুই রাকাত করে সালাম ফিরিয়ে আদায় করাই সুন্নাহসম্মত এবং সবচেয়ে বেশি উত্তম পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়।তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম বা বিশেষ সুরার বাধ্যবাধকতা নেই, যেকোনো সুরা দিয়েই এই নামাজ পড়া যায়। তবে নবী করিম সা. এই নামাজে দীর্ঘ কেরাত পড়তে পছন্দ করতেন এবং রুকু-সেজদাসহ অন্যান্য রুকনগুলো দীর্ঘায়িত করতেন। বিশেষ করে সিজদায় অবনত হয়ে কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত বিভিন্ন কল্যাণকর দোয়া পাঠ করার বিশেষ নির্দেশনা ও অনন্য মর্যাদা রয়েছে যা মুমিন বান্দার দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ বয়ে আনে।

ছবির গ্যালারি

আরও দেখুন

জনসেবার প্রত্যয় নিয়ে ইউপি সদস্য পদে প্রার্থী হতে চান বশির মুন্সী।

ভিডিও গ্যালারী

আরও ভিডিও »

ভিডিও লোড করতে সমস্যা হয়েছে। API Key বা Channel ID সঠিক কিনা যাচাই করুন।