Logo
শিরোনাম

লাইভ টিভি

বিজ্ঞাপন স্থান (ফিচার অ্যাড)

জাতীয়

সব খবর

দুর্যোগে মানুষের পাশে চসিক: পূর্ব বাকলিয়ায় বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ধারাবাহিক মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন পূর্ব বাকলিয়া ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর ইউনিট ওয়াইজর পাড়ায় বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও সাবেক সভাপতি, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি, ডা. শাহাদাত হোসেন। ত্রাণ বিতরণকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, "প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের মানবিক ও নৈতিক কর্তব্য। দুর্যোগের এই সময়ে কোনো পরিবার যেন খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে।" তিনি বলেন, "দুর্যোগ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার বিষয়েও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। নগরবাসীর নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশনের সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।" মেয়র আরও বলেন, "দুর্যোগ মোকাবিলা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগই পারে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে।" তিনি বলেন, "চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি দুর্যোগ-সহনশীল নগর গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।" ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, স্বেচ্ছাসেবক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে মেয়র বন্যাকবলিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং যেকোনো দুর্যোগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সবসময় জনগণের পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন এবং মানবিক সহায়তার এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান।

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

রাজনীতি

সব খবর

শহীদ ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদ স্মরণে আলোচনা সভায় ডা. শাহাদাত হোসেন ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদ ছিলেন সাহস ও দেশপ্রেমের প্রতীক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদ ছিলেন সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের প্রতীক। জুলাই গণ আন্দোলনের সকল শহীদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। তাদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো ন্যায়, সাম্য, মানবিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই শহীদদের স্মৃতি শুধু স্মরণে রাখলেই হবে না, তাদের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ইতিহাস বিকৃতির কোনো সুযোগ নেই। আগামী প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে, যাতে তারা দেশপ্রেম, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে পারে। তিনি সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামে প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম ও শহীদ আবু সাঈদ সহ সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ সাবেক ছাত্রদল ফোরামের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল, এতিমদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।  তিনি তাঁর বক্তব্যে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান। অনুষ্ঠানে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং এরপর এতিম শিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়। এই আয়োজন শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, শহীদ ওয়াসিম আকরামের পিতা শফিউল আলম। অনুষ্ঠানে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোন একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠির নয়। এই আন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন অভ্যুত্থান নয়, বরং এটি গত ১৬ বছরের লাগাতার আন্দোলনের ফল। এ আন্দোলনে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেছে। সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরাই। এটি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ত্যাগ ও সংগ্রামের দীর্ঘ পথচলারই ফসল। মেয়র বলেন, ওয়াসিম আকরামসহ সকল শহীদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। তাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখি, তা পূরণ করাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। তাদের এই আত্মদান আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস, যা ভবিষ্যতেও দেশপ্রেম ও জনগণের অধিকার আদায়ে আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। ডা. শাহাদাত বলেন, শহীদদের পরিবার এবং দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আজকের এই দোয়া মাহফিল ও এতিমদের মাঝে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি সেই দায়িত্বেরই অংশ। আমরা চাই, আমাদের তরুণ প্রজন্ম শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস জানুক এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হোক। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ বলেন, শহীদ ওয়াসিম আকরাম একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং ছাত্রদল নেতা। তিনি সরকারি চাকরিপ্রার্থী হিসেবে আন্দোলন করেনি। বরং ফ্যাসিবাদের পতন ঘটাতেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তার অংশগ্রহণের ইতিহাস সুদীর্ঘ।  আবু সুফিয়ান বলেন, শহীদ ওয়াসিম আকরাম নিজের রক্ত দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস লিখে গেছেন। যত দিন দেশের মানুষের মননে গণতান্ত্রিক চেতনা সমুন্নত থাকবে, শহীদ ওয়াসিম আকরাম তত দিন অমর হয়ে থাকবেন। আবুল হাশেম বক্কর শহীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক আবু বক্কর সিকদার ও মহসিন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক ইয়াকুব আলী সিফাতের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার, হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন। উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি এস কে খোদা তোতন, আহবায়ক কমিটির সদস্য এস. এম আবুল ফয়েজ, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, খোরশেদুল আলম, সৈয়দ শিহাব উদ্দীন আলম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মো. জাফর আহম্মদ, মোহাম্মদ আজম, কেন্দ্রীয় মহিলাদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জমির উদ্দিন নাহিদ, বিএনপি নেতা মন্জুর রহমান চৌধুরী, আলহাজ্ব জাকির হোসেন, নুর হোসেন, জসিম উদ্দিন জিয়া, মো. শফি, সাবেক ছাত্রদল নেতা আলিফ উদ্দিন রুবেল, সামিয়াত আমিন জিসান, জহির উদ্দিন বাবর, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদল নেতা এড. জসিম উদ্দিন হিমেল, আমজাদ হোসেন শাকিল, রেজাউল করিম, মো. ইউনুস, দিদারুল আলম, ঈমাম হোসেন আবির, বোরহানুল হক, মন্জুরুল আলম, মো. শোয়াইব, নুরুন্নবী বাদশা, মোজাম্মেল হক, মো. জাহেদ প্রমুখ। 

মিডিয়া

সব খবর

জীবনের মোড় ঘোরানো সময়ে যারা পথ দেখিয়েছেন বোমান ইরানি

স্বাধীন বাংলা নিউজ: বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা বোমান ইরানি সম্প্রতি কলকাতার একটি পাঁচতারকা হোটেলে ‘ফিকি ফ্লো’র অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে ফিল্মি কোনো আড্ডা ছিল না। ছিল নারী উদ্যোক্তা ও পেশাদার অনুষ্ঠান।   'ফিকি ফ্লো' হচ্ছে— ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নারী শাখা। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সর্বভারতীয় ফোরামটি নারী উদ্যোক্তা ও পেশাদারদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নেতৃত্ব বিকাশ এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে কাজ করা একটি সংগঠন। সেই অনুষ্ঠানে অভিনেতা ইরানি জানালেন তার জীবনযুদ্ধের কথা। মায়ের উৎসাহই তার জীবনের টার্নিং পয়েন্টের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে নেন। বোমান ইরানি বলেন, জীবনের মোড় ঘোরানো সময়ে যারা পথ দেখিয়েছেন, তারা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের কথা বলতে চাই। আমি ১৯৫৯ সালের ডিসেম্বরে জন্মেছি। পরের বছরের মে মাসে আমার বাবা মারা যান। তাই আমি বাবাকে কোনো  দিন কাছ থেকে দেখিনি।  তিনি বলেন, আমার বড় হওয়া নারীদের ঘিরে। আমার মা, তিন বোন আর আত্মীয়দের মাঝেই আমার শৈশব কেটেছে। তারাই আমাকে বড় করে তুলেছেন। সে কারণে আমি নারীদের বোঝার এক ধরনের ক্ষমতা পেয়েছি।  এ অভিনেতা বলেন, ছোটবেলায় আমি খুব লাজুক ছিলাম। তোতলাতাম। কথা জড়িয়ে যেত। অনেকেই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করতেন। ধীরে ধীরে আমি ভয় পেতে শুরু করি। মনে হতো আমি কথা বললে মানুষ আমাকে জাজ করবেন। একসময়ে আমি কথা বলাই বন্ধ করে দিই। কিন্তু পরে আমি গান গাইতে শুরু করি এবং মঞ্চে উঠি। সেখানেই আমি প্রথম নিজের ভেতরের আনন্দ খুঁজে পাই।  বোমান ইরানি বলেন, সেদিন আমার মা আমাকে মঞ্চে দেখে হেসেছিলেন। পরে বলেছিলেন— প্রথমবার আমাকে সত্যিকারের আনন্দে হাসতে দেখেছিলেন। মা বুঝেছিলেন আমি কোথায় স্বচ্ছন্দবোধ করি। তাই তিনি আমাকে গান, নাটক, বক্তৃতার ক্লাসে পাঠাতে শুরু করেন। প্রতিদিন আমাকে সিনেমা দেখতেও পাঠাতেন। ধীরে ধীরে আমি আত্মবিশ্বাস ফিরে পাই। এ বর্ষীয়ান অভিনেতা বলেন, আমি জীবনে অনেক দৌড়েছি। অনেকবার পড়ে গেছি। আবার উঠে দাঁড়িয়েছি। কোথাও আটকে থাকিনি। কোনো খাঁচার মধ্যে বন্দি ছিলাম না। জীবন দিয়ে বুঝেছি— টাকা বা সাফল্যের চেয়ে নৈতিকতার মূল্য অনেক বেশি। এ কথাই আমি আজও মানুষকে বলি।  তিনি বলেন, আমার সন্তানদের বলি— আমার নাতি-নাতনিদেরও বলি। জীবনে সাফল্য পাওয়ার কোনো শর্টকাট হয় না। কোনো সহজ পথ নেই। আমার কাছে জীবন মানে হলো ব্যর্থতা থেকে শেখা এবং ভুল শুধরে নেওয়া। কেউ আপনাকে সংশোধন করলে সেটা খারাপভাবে নেওয়া উচিত নয়। মানুষকে উৎসাহ দিন, তাদের শক্তি দিন, ভালোবাসা দিন। তাদের ভুল খুঁজে বের করবেন না। বোমান ইরানি বলেন, নিখিল শর্মার ‘লেটস টক’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলাম। সিনেমাটা কেউ দেখেননি। নিখিল কেন ফিল্মটা বানিয়েছিলেন জানি না। সেই ফিল্ম দেখে একদিন বিধু বিনোদ চোপড়া ফোন করেন। উনি আমাকে একটা ফিল্মের জন্য দুই লাখ টাকা অ্যাডভান্স দেন। আমি জানতে চাই— ফিল্মের বিষয় কী? কে কে আছেন? উনি বললেন— কিছু ঠিক হয়নি। কিন্তু পরে তুমি ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তাই এই টাকাটা দিয়ে রাখলাম, যাতে পরে ডেট পাই।  এ অভিনেতা বলেন, সেই ফিল্মটাই ছিল ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’। রাজকুমার হিরানির সঙ্গেও প্রথম সাক্ষাৎ সেই ফিল্মের সূত্রেই। এই ফিল্মে সব অভিনেতা পরিবর্তিত হয়েছেন। শুধু আমার কাস্টিং প্রথম থেকে ঠিক ছিল। সঞ্জয় দত্তের প্রথমে জিমি শেরগিলের চরিত্রটা করার কথা ছিল। আর শাহরুখ খানের মুন্নাভাইয়ের চরিত্রটা। শাহরুখ সেই সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। নায়ক-নায়িকা বদলে যায় সিনেমার। বোমান ইরানি বলেন, আমি ছবি তুলতে খুব পছন্দ করি। এ কাজ করতে আমার খুব ভালো লাগে। কিন্তু কোনো কাজ পাচ্ছিলাম না। অনেক টাকা দিয়ে ফটোগ্রাফির সরঞ্জাম কিনে ফেলেছিলাম। কিন্তু হাতে কোনো কাজ ছিল না। শেষে অভিনেত্রী সুস্মিতা সেনের টিমের তরফ থেকে কল পাই। ওর ফটোশুট করার পর আর পেছনে ফিরে তাকাইনি। যে সময়ে আমি খুব স্ট্রাগল করেছিলাম, একটি বিদেশি পত্রিকা আমার ছবি ছাপার জন্য ৯০০ ডলার দিত। যতবার রি-প্রিন্ট করত, ততবার ওই পরিমাণ টাকা দিত। আমাকে তারা কোনো দিন দেখেননি। আমার ছবি ছাপলে জানতেও পারব না। কিন্তু তবু সেই পত্রিকা প্রতিবার টাকা দিত। তাতে আমি শিখেছিলাম নৈতিকতা কতটা জরুরি।

মতামত/সম্পাদকীয়

সব খবর

প্রবীণরা পরিচিত পরিবেশেই বেশি ভালো থাকেন

হাসান আলী : জীবনের শেষ অধ্যায়টি যেন এক নীরব নদীর মতো যেখানে স্রোত ধীর, কিন্তু গভীরতা অপরিসীম। এই সময়টায় মানুষ আর নতুন কিছুর প্রতি তেমন আগ্রহী থাকে না, বরং ফিরে যেতে চায় তার চেনা পৃথিবীতে, পরিচিত আকাশের নিচে, স্মৃতিমাখা সেই আপন ঠিকানায়।  প্রবীণদের মনোজগৎ তখন আবেগ, স্মৃতি আর সম্পর্কের সূক্ষ্ম সুতোয় বোনা এক অনন্য জগত। একটি পুরোনো বাড়ি যার দেয়ালে হয়তো রং চটে গেছে, ছাদে কিছু ফাটল তবুও সেটিই প্রবীণের কাছে স্বর্গসম। কারণ সেই বাড়ির প্রতিটি কোণেই জড়িয়ে থাকে তার জীবনের গল্প। সন্তানদের শৈশব, পরিবারের হাসি-কান্না, উৎসবের আনন্দ কিংবা দুঃসময়ের সংগ্রাম সবকিছু যেন নিঃশব্দে কথা বলে সেই দেয়ালগুলোর সঙ্গে। এই স্মৃতিগুলোই প্রবীণদের বেঁচে থাকার প্রেরণা, মানসিক আশ্রয় এবং একান্ত সঙ্গী।  অপরদিকে, যখন এই পরিচিত পরিবেশ থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করে নতুন কোনো স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তাদের ভেতরে এক ধরনের অজানা শূন্যতা জন্ম নেয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও সেখানে থাকে না সেই পরিচিতির উষ্ণতা, নেই চেনা মুখগুলোর সান্নিধ্য। ফলে প্রবীণরা অনেক সময় নিজেদের অপ্রাসঙ্গিক, একাকী এবং অনিরাপদ মনে করতে থাকেন। ধীরে ধীরে তাদের জীবনের প্রতি আগ্রহ কমে যায়, মন হয়ে পড়ে বিষণ্ণ। বর্তমান সমাজব্যবস্থায় আমরা একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি জীবিকার প্রয়োজনে সন্তানরা দূরে চলে যায়, কেউ শহরে, কেউ বিদেশে। এতে করে বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের একসঙ্গে বসবাস করা অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। আবার কখনো পারিবারিক মতবিরোধ, দায়িত্ববোধের ঘাটতি কিংবা স্বার্থের সংঘাতে প্রবীণ মা-বাবাকে আলাদা করে রাখার প্রবণতাও দেখা যায়। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য তখনই তৈরি হয়, যখন মা ও বাবাকে আলাদা করে রাখা হয় একজন এক সন্তানের কাছে, অন্যজন আরেক সন্তানের কাছে। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের শেষে এসে এই বিচ্ছিন্নতা শুধু শারীরিক দূরত্ব নয়, এটি গভীর মানসিক আঘাত। জীবনের শেষ সময়ে এসে যারা একে অপরের আশ্রয় হওয়ার কথা, তারা যদি আলাদা হয়ে যান, তবে সেই কষ্ট নিঃশব্দেই তাদের ভেতরে ক্ষত তৈরি করে। প্রবীণদের চাহিদা খুবই সামান্য। তারা বিলাসিতা চান না, চান না আড়ম্বরপূর্ণ জীবন। তারা শুধু চান একটু আন্তরিকতা, কিছুটা সময়, আর প্রিয়জনদের পাশে থাকার নিশ্চয়তা। একটি পরিচিত উঠান, একটি পুরোনো গাছের ছায়া, কিংবা পাশের প্রতিবেশীর সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প এসব ছোট ছোট বিষয়ই তাদের জীবনে গভীর আনন্দ এনে দেয়। আমাদের উচিত এই বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করা যে, প্রবীণরা আমাদের জীবনের মূলভিত্তি। তাদের ত্যাগ, ভালোবাসা এবং সংগ্রামের উপর দাঁড়িয়ে আমাদের বর্তমান। তাই তাদের জীবনের শেষ সময়টুকু যেন হয় সম্মানজনক, শান্তিময় এবং ভালোবাসায় পূর্ণ এটি নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

ত্রয়োদশ নির্বাচন

সব খবর

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করবো

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।  

অপরাধ

সব খবর

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে টেম্পারিং করা বিষাক্ত মদ পান করে এক সাংবাদিক-সহ দুইজনের মৃত্যু

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে টেম্পারিং করা বিষাক্ত মদ পান করে এক সাংবাদিকসহ দুইজনের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পেছনে পরিকল্পিত হত্যার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার-এর চট্টগ্রাম প্রতিনিধি বেলাল হোসেন, মোস্তাফিজ, কাউসারসহ কয়েকজন পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে যান। সেখানে তারা স্থানীয় মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত আলাউদ্দিন এর প্রধান সহকারী আরিফ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে "ভ্যালেন্টাইন হুইস্কি" নামে ২ টি বিদেশি মদের বোতল কেনেন।পরে তারা পতেঙ্গা হোটেল সংলগ্ন একটি আবাসিক হোটেলে গিয়ে ওই মদ পান করেন। জানা যায় তারা যে মদটি পান করেছিলেন সেটি ছিল টেম্পারিং করা এবং বিষাক্ত উপাদান মিশ্রিত। মদ পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে নিজ নিজ বাসায় ফিরে গেলেও শুক্রবার সকালে তাদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে বেলাল হোসেন, মোস্তাফিজ এবং কাউসারকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিক বেলাল হোসেন মারা যান। একই দিন সন্ধ্যায় মারা যান মোস্তাফিজ প্রকাশ লালচাঁদ। অপরদিকে কাউসার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সাংবাদিক বেলাল হোসেনের পেশাগত কর্মকাণ্ড। অনুসন্ধানে একাধিক সূত্র দাবি করেছে, পতেঙ্গা এলাকার মাদক সম্রাট আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশ করায় তার সঙ্গে বেলাল হোসেনের বিরোধ চলছিল।এছাড়া সম্প্রতি পতেঙ্গার সীবার্ড রেস্টুরেন্টে ভেজাল খাবার পরিবেশনের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন বেলাল হোসেন। ওই রেস্টুরেন্টের সঙ্গে কৃষকদল নেতা নাসিরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। পরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সেখানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলে নাসিরের সঙ্গেও বেলাল হোসেনের বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মাদক ব্যবসা ও সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে আলাউদ্দিন এবং নাসিরের সঙ্গে চলমান বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে বিষাক্ত বা টেম্পারিং করা মদ সরবরাহ করা হয়ে থাকতে পারে এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন, সহকর্মী সাংবাদিক এবং স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি শুধুমাত্র বিষাক্ত মদপানে মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যার সম্ভাবনাও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে। তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

ধর্ম ও জীবন

সব খবর

বোকারা বিজয় এবং আজকের মুসলিম বিশ্ব।

মোহাম্মদ আরমান মিয়া , সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিষ্ট স্বাধীন বাংলা নিউজ:  বুখারা বিজয় এবং আজকের মুসলিম বিশ্ব।  বক্তা চেঙ্গিস খানের বুখারা বিজয়ের একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে বর্তমান সময়ের সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) এবং মুসলিম বিশ্বের পরিস্থিতির তুলনা করেছেন। ১. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: চেঙ্গিস খান ও বুখারা।  * চেঙ্গিস খান যখন বুখারা জয় করেন, তখন তিনি সেখানকার আলেমদের (ধর্মীয় পণ্ডিত) একটি মসজিদে একত্রিত করতে বলেন।  * তিনি ঘোড়ায় চড়ে সেই মসজিদে প্রবেশ করেন এবং আলেমদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেন।  * প্রশ্নটি ছিল: **"তোমরা তোমাদের রবের সাথে এমন কী অবাধ্যতা করেছ যে, তিনি আমাকে তোমাদের ওপর আযাব (শাস্তি) হিসেবে পাঠিয়েছেন?"**  * বক্তা উল্লেখ করেন যে, সেই সময় বুখারার আলেম ও মানুষরা কুরআন-সুন্নাহ এবং নবীর আদর্শ ছেড়ে গ্রিক দর্শনের মতো বিজাতীয় চিন্তাধারায় ডুবে গিয়েছিলেন, যা তাদের পতনের কারণ হয়েছিল। ২. বর্তমান পরিস্থিতির সাথে তুলনা (UAE ও দুবাই) বক্তা এই ঐতিহাসিক ঘটনার আলোকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (বিশেষ করে দুবাই ও আবুধাবি) এবং মুসলিম বিশ্বের বর্তমান অবস্থার সমালোচনা করেছেন:  * **ধর্মীয় পরিবর্তন:** তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রায় দুই দশক আগে থেকেই সেখানে ধর্মীয় বই ও পাঠ্যক্রম থেকে কুরআন ও হাদীসের সেই অংশগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে যা ইহুদিদের শত্রুতা সম্পর্কে সতর্ক করে।  * **সম্পর্ক ও আদর্শ:** কুরআনের নির্দেশের বিপরীতে ইহুদিদের সাথে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব এবং তাদের 'ধর্মীয় ভাই' বা 'কাজিন' হিসেবে গ্রহণ করার প্রচার চালানো হচ্ছে।  * **ইসলামী বিধি-বিধানের লঙ্ঘন:** রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিষেধ থাকা সত্ত্বেও আরব উপদ্বীপে মন্দির এবং সিনাগগ (ইহুদি উপাসনালয়) নির্মাণ করা হয়েছে।  ৩. বক্তার মূল বার্তা: বক্তা বলতে চেয়েছেন যে, যখনই মুসলিম জাতি তাদের মূল ধর্মীয় আদর্শ ও আল্লাহর বিধান ত্যাগ করে বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ শুরু করে, তখনই তাদের ওপর বিপর্যয় নেমে আসে। তিনি সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক ঘটনা ও সংঘাতকে (যেমন ইরান-ইসরায়েল বা আঞ্চলিক অস্থিরতা) আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ধরণের সতর্কবার্তা বা শাস্তি হিসেবে ইঙ্গিত করেছেন। **সারসংক্ষেপ:** মূলত মুসলিম উম্মাহকে তাদের ধর্মীয় মূলনীতির দিকে ফিরে আসার এবং বিজাতীয় আদর্শ বর্জন করার একটি কড়া আহ্বান।

ছবির গ্যালারি

আরও দেখুন

শহীদ ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদ স্মরণে আলোচনা সভায় ডা. শাহাদাত হোসেন ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদ ছিলেন সাহস ও দেশপ্রেমের প্রতীক

ভিডিও গ্যালারী

আরও ভিডিও »

ধনবাড়ীতে ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনা: খাসপাড়া সড়ক এখন জনগণের ‘

স্বাধীন বাংলা ‍নিউজ এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন shadhinbanglanews

স্বাধীন বাংলা ‍নিউজ এর খবর