স্বাধীন বাংলা নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে...
Logo
বিজ্ঞাপন
ad for ad
শিরোনাম

লাইভ টিভি

জাতীয়

সব খবর

মন্ত্রিসভার কমিটিতে ঐক্যমত সংবাদ প্রকাশের জেরে গ্রেফতারে আদালতের অনুমতি নিতে হবে ।

রিপোর্ট : টিপু সুলতান ( স্বাধীন বাংলা নিউজ ) আইন-আদালত মন্ত্রিসভার কমিটিতে ঐক্যমত সংবাদ প্রকাশের জেরে গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতি নিতে হবে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত সংবাদের কারণে কোনো সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান রাখার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে। সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং হয়রানি বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ডাক ও টেলিযোগাযো মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করার জন্য গঠিত এ কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সভায় সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে খসড়া আইনটি পরিমার্জন ও চূড়ান্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। আইনটি যেন সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যম বা স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। সভায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং হয়রানি প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা ও সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো পৃথকভাবে বিবেচনা করে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবও আলোচনায় আসে। পাশাপাশি সাইবার স্পেসের সংজ্ঞা আরও সুনির্দিষ্ট করার বিষয়ে আলোচনা হয়। মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়, যাতে আইনের অস্পষ্ট বা অতিব্যাপক সংজ্ঞার কারণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না হয়। এছাড়া খসড়া আইনে মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখা, কোনো কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কারণ জানানো এবং ব্লক করা কনটেন্ট অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। কোনো সংবাদমাধ্যম বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ দেওয়া এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য কাঠামোতে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি, জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী এবং মেটার মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পরামর্শ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত খসড়া আইনটি আবার পরিমার্জন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশের বিষয়ে আলোচনা হয়। জনসাধারণের মতামত নিয়ে খসড়াটিকে আরও গ্রহণযোগ্য, কার্যকর ও সময়োপযোগী করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় বক্তারা বলেন, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি নাগরিকের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষার এবং ভারসাম্য রেখেই সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে , সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের গঠনমূলক মতামত বিবেচনায় নিয়ে খসড়াটি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

রাজনীতি

সব খবর

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় -আতিকুর রহমান রুমন।

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় -আতিকুর রহমান রুমন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর এক তাৎপর্যপূর্ণ ও ঘটনাবহুল দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশের তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার এক সংকটময় মুহূর্তে সেনাবাহিনীর সাধারণ সদস্য ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অভ্যুত্থানে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে। ঐতিহাসিকভাবে দিনটি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে একের পর এক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটে। ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি অংশের অভ্যুত্থানের পর তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে তার বাসভবনে বন্দি করা হয়। তারপর কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা বিরাজ করে। রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে ৬ নভেম্বর দিবাগত রাত থেকে ৭ নভেম্বরের ভোরে সেনাবাহিনীর সাধারণ সদস্যদের মধ্যে বিদ্রোহ শুরু হয়। সাধারণ সিপাহিদের মধ্যে তখন আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল। তারা একজন জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য সামরিক কমান্ডারকে খুঁজছিলেন যিনি সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড বা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারবেন। সিপাহিরা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের ওপর ভরসা রেখেছিলেন এবং পরে বন্দিদশা থেকে তাকে মুক্ত করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন। ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য কেবল একজন সামরিক কর্মকর্তার বন্দিদশা থেকে মুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এ দিনের ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সূচিত হয়। এই ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম, তার মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা, রাষ্ট্র পরিচালনায় গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিকাশে তার অবদান। একই ধারাবাহিকতায় বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাও আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রনায়ক। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পর চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে তার স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সেক্টর কমান্ডার এবং জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ভূষিত হন ‘বীর উত্তম’ খেতাবে। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে উঠে আসা এই সেনানায়ক পরবর্তী সময়ে দেশের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ তখন অর্থনৈতিক সংকট, খাদ্যসংকট, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও পূর্ববর্তী সরকারের দুঃশাসনের কারণে রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে জিয়াউর রহমান দেশের অর্থনীতিকে উৎপাদনমুখী করা এবং সাধারণ মানুষকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল খনন ও পুনঃখনন, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তার ১৯ দফা কর্মসূচিতে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, গ্রামীণ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষিজমিতে সেচের পানি পৌঁছানোর পাশাপাশি গ্রামীণ মানুষের অংশগ্রহণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিল্পায়ন ও বেসরকারি খাতের বিকাশেও তিনি গুরুত্ব দেন। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, বেসরকারি উদ্যোগের সুযোগ বাড়ানো, রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রসার এবং বিদেশে জনশক্তি পাঠানোর ক্ষেত্রে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ বাংলাদেশের অর্থনীতির পরবর্তী বিকাশে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পের প্রাথমিক বিকাশ এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানির প্রসারের ক্ষেত্রে তার শাসনামলের উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য। জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি প্রতিষ্ঠা। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে সামনে রেখে তিনি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক মত ও ধারার মানুষকে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে একত্র করার উদ্যোগ নেন। তার রাজনৈতিক দর্শনে বাংলাদেশের নিজস্ব ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তার নেতৃত্বে বহুদলীয় রাজনৈতিক চর্চার সুযোগ সম্প্রসারিত হয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। সংবাদপত্রের প্রকাশনা ও মতপ্রকাশের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বতন্ত্র অবস্থান প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেন। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ সম্প্রসারণে তিনি ভূমিকা রাখেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ধারণাকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও তার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। তার সময়কার সেই আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণা পরবর্তী সময়ে ১৯৮৫ সালে সার্ক প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে স্বাবলম্বী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে কৃষি, শিল্প, অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হতে থাকে। এসব উদ্যোগ এবং নেতৃত্বগুণের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। অনেকের মতে- দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা এই জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে তার অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত এক সামরিক অভ্যুত্থানে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তার আকস্মিক মৃত্যুতে বিএনপি গভীর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংকটে পড়ে। এমন কঠিন সময়ে তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে দলকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার প্রবেশ ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তিনি নেতৃত্ব দেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন, কারাবরণ ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলের সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখার চেষ্টা করেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তার সরকারের সময়ে নারীশিক্ষা, মেয়েদের উপবৃত্তি, প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারণ, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মতো বিষয় গুরুত্ব পায়। পরবর্তী সময়েও তিনি দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে তার অবস্থান বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। অন্যদিকে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের রাষ্ট্রীয় উদযাপন ও সরকারি ছুটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে দিনটি বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কর্মসূচি, আলোচনা সভা ও স্মরণানুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যথাযথভাবে আলোচনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা, রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদান এবং রাজনৈতিক দর্শন নিয়েও বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়। তার অবদানকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি; বরং বিভিন্ন সময়ে তা খাটো করে দেখানো হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তার অবদান, মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা এবং রাষ্ট্র গঠনে তার বিভিন্ন উদ্যোগ ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সূচিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় সৃষ্ট নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ২০২৬ সালে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ৭ নভেম্বরকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দিবসটিকে জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিবসের তালিকায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং এ উপলক্ষে সরকারি ছুটিও পুনর্বহাল করা হয়। দীর্ঘ বিরতির পর দিবসটির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সরকারি ছুটি পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের ফলে ৭ নভেম্বর আবার জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার সুযোগ পেয়েছে। এটি কেবল একটি দিবসের আনুষ্ঠানিকতা ফিরিয়ে আনা নয়; বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে রাষ্ট্রীয় পরিসরে স্মরণ ও মূল্যায়নের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেশ গঠনের উদ্যোগ এবং বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সূচিত হয়েছে এক নতুন অধ্যায়। পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে দুর্নীতি, লুটপাট, অনিয়ম ও দুঃশাসনের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের ফলে দেশের অর্থনীতিকে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এমন এক চ্যালেঞ্জপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করে স্থিতিশীল ও গতিশীল ধারায় ফিরিয়ে আনা। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কৃষি ও শিল্পের বিকাশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভরশীল ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। ৭ নভেম্বরকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ নতুন করে জাতীয় আলোচনায় এসেছে। তবে এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি তাৎপর্য নির্ভর করবে ইতিহাসের যথাযথ মূল্যায়ন, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণের ধারাবাহিকতার ওপর। সবশেষে বলা যায়, ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও জাতীয় ইতিহাসের এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। এ দিনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে সিপাহি-জনতার সম্মিলিত ভূমিকা, বন্দিদশা থেকে জিয়াউর রহমানের মুক্তি, সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং এর মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে সূচিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের অবদান, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে তার উদ্যোগ, বহুদলীয় রাজনীতির বিকাশ এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পরিচিতি প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একইভাবে বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের কার্যক্রমও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার অংশ। দীর্ঘ বিরতির পর ৭ নভেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ফিরে আসায় নতুন প্রজন্মের সামনে দেশের ইতিহাসের এই অধ্যায় তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ দিবসের তাৎপর্য হোক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চেতনা ধারণ, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক সবার প্রত্যাশা। লেখক: আতিকুর রহমান রুমন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব

মিডিয়া

সব খবর

ইতালির চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একবার বাংলাদেশের সিনেমার মুকুটে যুক্ত হলো নতুন এক গৌরবোজ্জ্বল অর্জন। ইতালির ঐতিহ্যবাহী লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ২২তম আসরে ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে সেরা সিনেমার পুরস্কার জিনে নিয়েছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘মাস্টার’। গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ইতালির লুকা শহরে এই আন্তর্জাতিক উৎসবের পর্দা উঠেছিল এবং উৎসবের সমাপনী দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। ২০০৫ সাল থেকে নিয়মিত আয়োজিত হয়ে আসা এই উৎসবে বিশ্বমানের বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হয় বাংলাদেশি এই সিনেমাটিকে। বিশ্ব চলচ্চিত্রের এই মর্যাদাপূর্ণ আসরে সেরা নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিল দেশের চলচ্চিত্র শিল্প।এবারের আসরে মাস্টার ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আরও ১১টি প্রখ্যাত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মূল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু আন্তর্জাতিক সিনেমার মধ্যে ছিল ‘ফার্স্ট ডেজ’, ‘সি সন্স’, ‘স্যালভেশন’, ‘সাপোর্টিং রোল’, ‘দ্য কোয়ায়েট বি-কিপার’ এবং ‘অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’-এর মতো প্রশংসিত সব কাজ। এই শক্তিশালী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ চলচ্চিত্রগুলোকে পেছনে ফেলে জুরি বোর্ডের নজর কেড়ে সেরার পুরস্কার নিজেদের করে নেয় ‘মাস্টার’। উৎসবের বিচারকমণ্ডলী তাদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় সিনেমাটির শৈল্পিক উৎকর্ষ ও গভীর বার্তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাদের মতে, একটি স্থানীয় প্রেক্ষাপটের গল্প ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে বিরাজমান প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সংকটকে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন নির্মাতা।চলচ্চিত্রটির গল্প ও চিত্রনাট্যের মুন্সিয়ানার প্রশংসা করে জুরিবোর্ড জানিয়েছে, অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত ও সূক্ষ্ম বিন্যাসের কারণে দর্শকরা একজন আদর্শবান শিক্ষকের সঙ্গে পরিচিত হন। ন্যায়বিচার ও সুনির্দিষ্ট নীতিতে বিশ্বাসী সেই শিক্ষক কীভাবে বৃহত্তর কল্যাণের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থের পেছনে ছোটা রাজনৈতিক ব্যবস্থার জটিলাঁজালে পড়ে প্রভাবিত হন, তা অত্যন্ত সাবলীলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত নিজেই সিনেমাটি পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছেন। এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছেন অভিনেতা নাসির উদ্দিন খান। স্থানীয় রাজনীতিতে সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রবেশ করা একজন শিক্ষক কীভাবে ক্ষমতার লোভ ও আপসের যাঁতাকলে পড়ে ধীরে ধীরে বদলে যান, মূলত সেই বাস্তবধর্মী কাহিনী নিয়েই এগিয়ে গেছে এই ছবির মূল গল্প।ছবিটিতে নাসির উদ্দিন খান ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় ও প্রতিভাবান অভিনয়শিল্পী গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে নিজেদের মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। এই তারকাবহুল তালিকায় রয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরিফ সিরাজ এবং তাসনুভা তামান্না প্রমুখ। আন্তর্জাতিক এই উৎসবে সিনেমাটির এমন বড় অর্জনে দারুণ উচ্ছ্বসিত নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জানান যে, লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের এই স্বীকৃতি ‘মাস্টার’ সিনেমার সর্বজনীন আবেদন ও প্রাসঙ্গিকতার একটি বড় প্রমাণ। এবারের প্রতিযোগিতায় বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা থাকার পরও তাঁর দলের সবার কঠোর পরিশ্রমকে মূল্যায়ন করায় তিনি বিচারকমণ্ডলীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত রটারডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৫৫তম আসরেও বিগ স্ক্রিন প্রতিযোগিতায় সেরা নির্বাচিত হয়েছিল এই সিনেমাটি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের ঝুলি ভারী করার পর এবার দেশের দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি উপহার দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন নির্মাতা।

মতামত/সম্পাদকীয়

সব খবর

অর্থ-সম্পদ বেড়েছে, কিন্তু কমেছে মানুষের আন্তরিকতা; হারিয়ে যাচ্ছে পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক সম্প্রীতি!!

মোহাম্মদ রবিউল হোসেন: লেখক ও সাংবাদিক। একসময় পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কগুলো ছিল অত্যন্ত আন্তরিক, সহযোগিতাপূর্ণ এবং ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। মানুষের অর্থ-সম্পদ হয়তো কম ছিল, কিন্তু হৃদয়ে ছিল উদারতা, মায়া-মমতা ও একে অপরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ। সুখে-দুঃখে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও সমাজের মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়াতেন। সময়ের পরিবর্তনে মানুষের অর্থ-সম্পদ বেড়েছে, বড় বড় বাড়ি হয়েছে, জমি-জায়গা ও ব্যবসা-বাণিজ্য হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মানুষের সম্পদ যত বেড়েছে, অনেক ক্ষেত্রে আন্তরিকতা ও ভালোবাসা ততই কমেছে। মানুষের মন সংকীর্ণ হয়েছে, বেড়েছে অহংকার, হিংসা, স্বার্থপরতা ও বিভেদ। আগে একটি সমাজের সবাই মিলে মিলাদুন্নবী উদযাপন করতেন। এখন সেই একটি সমাজই দশ ভাগে বিভক্ত হয়ে আলাদা আলাদা আয়োজন করছে। আগে একই সমাজের মানুষ একটি মসজিদে নামাজ আদায় করতেন, একসঙ্গে সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। এখন সমাজ ভেঙে আলাদা আলাদা মসজিদ, আলাদা আলাদা বলয় তৈরি হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের এই বিভক্তি কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? একসময় একটি পরিবারে দুই, চার কিংবা পাঁচ ভাই একসঙ্গে বসবাস করতেন। সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করতেন। এখন সেই পরিবারই সম্পত্তির ভাগাভাগি, ব্যক্তিগত স্বার্থ ও মতের অমিলের কারণে দশ ভাগে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। আত্মীয়তার সম্পর্কেও তৈরি হচ্ছে দূরত্ব। একজন আত্মীয়ের পাশে দাঁড়ালে অন্য আত্মীয় অসন্তুষ্ট হচ্ছেন। ভালো কাজের মূল্যায়নের পরিবর্তে কে কাকে কতটা খুশি করতে পারল, কে কাকে কতটা তোষামোদ করতে পারল, সেটিই যেন বড় হয়ে উঠেছে। বর্তমান সমাজে অনেক ক্ষেত্রে মানুষের সততা, যোগ্যতা কিংবা মানবিকতার চেয়ে অর্থ-সম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তির মূল্য বেশি। যার টাকা আছে, যে মানুষকে খাওয়াতে পারে কিংবা আর্থিক সুবিধা দিতে পারে, তার কদর বেশি। অথচ একজন সৎ মানুষ সত্য কথা বললে তার মূল্যায়ন হয় না। মিথ্যা, তোষামোদ ও স্বার্থের সম্পর্ক যেন সমাজে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, মানুষের মানবিকতাও যেন দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। রাস্তায় একজন মানুষ আহত হয়ে পড়ে থাকলেও অনেকে তাকে সাহায্য করার পরিবর্তে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে ব্যস্ত থাকেন। অথচ একসময় বিপদে পড়া একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল সামাজিক দায়িত্ব ও মানবিকতার পরিচয়। আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, এই সমাজে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কী শিখছে? অর্থ-সম্পদ, বাড়ি-গাড়ি কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যই কি জীবনের সবকিছু? মানুষ হিসেবে আমাদের পরিচয় কোথায়? ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, আত্মীয়তা, প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতি যদি হারিয়ে যায়, তাহলে এত সম্পদ দিয়ে কী হবে? মনে রাখতে হবে, আজ আপনার অর্থ আছে, ক্ষমতা আছে, প্রভাব-প্রতিপত্তি আছে বলে আপনি সম্মান পাচ্ছেন; কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। কখন কার কাছে সাহায্যের জন্য যেতে হবে, কখন কার সহযোগিতা প্রয়োজন হবে, তা একমাত্র মহান আল্লাহই জানেন। তাই অহংকার নয়, মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করুন। অর্থ দিয়ে নয়, ভালোবাসা ও মানবিকতা দিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিন। আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখুন, সমাজের বিভেদ দূর করুন এবং বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ান।কারণ দিনশেষে বাড়ি, গাড়ি, জমি কিংবা অর্থ-সম্পদ নয়, মানুষের ভালোবাসা, সম্মান ও সুন্দর সম্পর্কই জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আসুন, বিভক্তির সমাজ নয়, ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও মানবিকতার সমাজ গড়ে তুলি।

ত্রয়োদশ নির্বাচন

সব খবর

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করবো

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।  

অপরাধ

সব খবর

কিশোর গ্যাং

সচেতন মূলক লিখন বাস্তবায়নের: সাংবাদিক টিপু সুলতান ( স্বাধীন বাংলা নিউজ ) বিশ্বব্যাপী গবেষণায় দেখা যায়, ধূমপান মাদক সেবনের প্রবেশ পথ.. ধূমপান বা ই-সিগারেটের নেশা কিশোর-তরুণ, অল্পবয়সীদের মাদকের নেশায় ধাবিত করে... মাদকাসক্তি দেশে কিশোর গ্যাং সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ। মাদকের নেশার টাকার জন্য দেশে চুরি, ছিনতাই, খুন, অপহরণ, ধর্ষণের মতো অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মনে রাখবেন তারা আমাদেরই সন্তান তাই আপনার সন্তানকে ধূমপান ও মাদকের নেশা থেকে দূরে রাখুন। তাদের সময় দিন... বন্ধুত্ব পুর্ণ মনভাবে খোলামেলা আলাপ করুন , ঘুড়ে বেড়ান আনন্দ করুন , খেয়াল রাখুন কাদের সাথে মিশছেন কি করছেন । মনে রাখবেন আপনার সঙ্গতা আপনার সন্তান কে সুস্ত থাকতে সাহায্য করবে এবং সকল ধরনের অপরাধ থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করবে । নিশ্চয়ই সকলের সহযোগিতায় আমরা পাবো এক সুন্দর মাতৃভূমি ।

ধর্ম ও জীবন

সব খবর

মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রী বলাৎকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ, কঠোর শাস্তির দাবি সৈয়দ হাসান আযহারীর।

পবিত্র দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদ্রাসায় কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও বলাৎকারের মতো জঘন্য ও ন্যক্কারজনক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা সৈয়দ হাসান আযহারী। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "মাদ্রাসা আল্লাহর ঘর ও দ্বীন শিক্ষার পবিত্র স্থান। এখানে কোনো অপরাধী বা বিকৃত মানসিকতার মানুষের জায়গা হতে পারে না। যারা দ্বীনি লেবাস গায়ে দিয়ে অবুঝ শিশুদের ওপর এই ধরনের পাশবিক নির্যাতন চালায়, তারা মানবতার শত্রু এবং ইসলামের কলঙ্ক।" সৈয়দ হাসান আযহারী অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সাথে মাদ্রাসার পবিত্রতা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সকল শিক্ষক, অভিভাবক ও কমিটিকে সর্বোচ্চ সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ছবির গ্যালারি

আরও দেখুন

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় -আতিকুর রহমান রুমন।

ভিডিও গ্যালারী

আরও ভিডিও »

ভিডিও লোড করতে সমস্যা হয়েছে। API Key বা Channel ID সঠিক কিনা যাচাই করুন।