Logo
শিরোনাম

লাইভ টিভি

বিজ্ঞাপন স্থান (ফিচার অ্যাড)

জাতীয়

সব খবর

পীরগঞ্জে নারী শিক্ষিকাকে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ মাদ্রাসা প্রধানসহ ৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এক নারী সহকারী শিক্ষককে মানসিক নির্যাতন ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের তারবিয়াতুল উম্মাহ ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড মাদ্রাসায় এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা মিশকাত জাহান সীমা ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান এবং সহকারী শিক্ষক হুজাইফা আদনান ও জাবেদ মিয়া।থানায় জমা দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে পাঠদান কার্যক্রমে কিছু বিশেষ ছাড় বা মানবিক সুবিধা চেয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিলেন ওই শিক্ষিকা। কিন্তু মাদ্রাসা কতৃপক্ষ তাঁর সেই যৌক্তিক আবেদন আমলে না নিয়ে বরং তাঁর ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দেয়। এই অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাঁকে চাকরিচ্যুত করা এবং প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি, মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শারীরিক নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ করায় অভিযুক্তরা তাঁর ওপর আরও বেশি ক্ষুব্ধ হন।ভুক্তভোগী শিক্ষিকার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন বা বৈধতা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত অনিয়ম ও খেয়ালখুশি মতো পরিচালিত হয়ে আসছে এই মাদ্রাসাটি। সম্প্রতি গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে ওই নারী শিক্ষককে ফোন করে প্রতিষ্ঠানে যাওয়া বন্ধ করার জন্য নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখান। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক হুজাইফা আদনান গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ফোন করে ওই শিক্ষককে মাদ্রাসায় আসতে নিষেধ করার বিষয়টি আংশিক স্বীকার করেছেন।ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমূল হক গণমাধ্যমকে জানান যে ভুক্তভোগী শিক্ষিকার পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর থেকে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হচ্ছে।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজনীতি

সব খবর

ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক ইন্ডিয়া জোটের

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশব্যাপী বড় ধরনের আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর জোট ইন্ডিয়া। সম্প্রতি রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত জোটের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই কঠোর কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেসহ প্রায় কুড়িটি দলের শীর্ষ নেতারা ওই বৈঠকে অংশ নেন এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে বর্তমান সরকার।ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ২ অক্টোবর থেকে দেশের প্রতিটি জেলায় শুরু হবে গণতন্ত্র বাঁচাও অভিযান, যা একটানা ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এই সময় সব জেলার সমীরণ কার্যালয়ের অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করবে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীরা। এছাড়া আগামী ৬ অক্টোবর বিরোধী দলের সকল সংসদ সদস্যের অংশগ্রহণে নির্বাচন সদন অভিমুখে একটি বিশেষ মিছিলের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কিছু জনসভার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থার নানা ত্রুটি ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হবে।বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেস সভাপতি অভিযোগ করেন যে, নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়ে নির্বাচন কমিশন গণতন্ত্রকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে। তিনি আরও জানান, আগামী অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে জোটের নেতারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়ের কথা তুলে ধরবেন। এছাড়া আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির মাটিতে একটি বিশাল জনসমাবেশ করার মাধ্যমে এই দফার আন্দোলনের সমাপ্তি টানার কথা রয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও এনজিওগুলোকে এই কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে সুনির্দিষ্ট ছয়টি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইভিএম প্রথা বাদ দিয়ে পুনরায় ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ শুরু করা এবং বিগত ভোটার তালিকার অনির্দেশ সংশোধন প্রক্রিয়া বাতিল করা। বৈঠকে ডিএমকে, আম আদমি পার্টি এবং বিজু জনতা দল অনুপস্থিত থাকলেও তারা এই আন্দোলনের প্রতি নিজেদের সমর্থন জানিয়েছে। অসুস্থতার কারণে শরদ পাওয়ার সশরীরে উপস্থিত না হতে পারলেও তার প্রতিনিধি বৈঠকে অংশ নেন এবং ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রীসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

মিডিয়া

সব খবর

রণবীর–আলিয়ার রোমান্টিক ছবি ঝড় তুলেছে

বলিউড তারকা রণবীর কাপুরের বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার জনপ্রিয়তার উন্মাদনা যেন আরও বেশি মাত্রায় প্রকাশ পাচ্ছে। সম্প্রতি ৪৪ বছরে পা দিয়েছেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা এবং তার জন্মদিনটি ভক্তদের জন্য অত্যন্ত বিশেষ একটি দিনে পরিণত হয়েছিল। নিজ বাসভবনের বাইরে সকাল থেকেই তাকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ভিড় জমিয়েছিলেন অগণিত ভক্ত ও গণমাধ্যমের আলোকচিত্রীরা। সবার উপস্থিতিতে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে ভক্তদের ভালোবাসার শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন এবং একে একে তিনটি কেক কেটে বিশেষ দিনটি উদযাপন করেন এই অভিনেতা।তবে এই জন্মদিনের সব আলো কেড়ে নিয়েছেন তার স্ত্রী ও অভিনেত্রী আলিয়া ভাট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু অন্তরঙ্গ ছবি প্রকাশ করে। সচরাচর নিজেদের ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো জনসমক্ষে খুব একটা প্রকাশ করেন না এই তারকা দম্পতি, যে কারণে আলিয়ার এই পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। স্বামী ও সন্তানের সাথে কাটানো বিভিন্ন সুন্দর মুহূর্তের কোলাজ প্রকাশ করে আলিয়া ক্যাপশনে তাকে কিউটি বলে সম্বোধন করেছেন। ছবিগুলোর মধ্যে রণবীরের কোলে আলিয়ার বসা মুহূর্ত, ছোট্ট মেয়ে রাহাকে নিয়ে রণবীরের আদুরে ভঙ্গি এবং তাদের সেলফি ভক্তদের হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে।বিশেষ করে একটি ছবিতে রণবীরের গালের লিপস্টিকের দাগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও হইচই। ভক্তরা এই জুটির রসায়ন দেখে নানা ধরনের মিষ্টি মন্তব্যে ভরিয়ে দিয়েছেন কমেন্ট বক্স, যা মুহূর্তের মধ্যেই ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। কেউ লিখেছেন এটি তাদের দেখা সবচেয়ে সুন্দর পোস্ট, আবার কেউ প্রকাশ করেছেন তাদের গভীর ভালোবাসার অনুভূতি। তারকাদম্পতির এমন খোলামেলা ও রোমানটিক প্রকাশ ভক্তদের মাঝে দারুণ উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে।ব্যক্তিগত জীবনের এই আনন্দের পাশাপাশি পেশাগত জগতেও রণবীর কাপুর এখন বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার ঝুলিতে রয়েছে একাধিক বড় বাজেটের সিনেমা, যার মধ্যে নিতেশ তিওয়ারির রামায়ণ এবং সঞ্জয় লীলা বানসালির লাভ অ্যান্ড ওয়ার উল্লেখযোগ্য। এছাড়া অ্যানিমেল পার্ক এবং ব্রহ্মাস্ত্র টু-এর মতো বহুল প্রতীক্ষিত প্রজেক্টগুলোতেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে।

মতামত/সম্পাদকীয়

সব খবর

প্রবীণরা পরিচিত পরিবেশেই বেশি ভালো থাকেন

হাসান আলী : জীবনের শেষ অধ্যায়টি যেন এক নীরব নদীর মতো যেখানে স্রোত ধীর, কিন্তু গভীরতা অপরিসীম। এই সময়টায় মানুষ আর নতুন কিছুর প্রতি তেমন আগ্রহী থাকে না, বরং ফিরে যেতে চায় তার চেনা পৃথিবীতে, পরিচিত আকাশের নিচে, স্মৃতিমাখা সেই আপন ঠিকানায়।  প্রবীণদের মনোজগৎ তখন আবেগ, স্মৃতি আর সম্পর্কের সূক্ষ্ম সুতোয় বোনা এক অনন্য জগত। একটি পুরোনো বাড়ি যার দেয়ালে হয়তো রং চটে গেছে, ছাদে কিছু ফাটল তবুও সেটিই প্রবীণের কাছে স্বর্গসম। কারণ সেই বাড়ির প্রতিটি কোণেই জড়িয়ে থাকে তার জীবনের গল্প। সন্তানদের শৈশব, পরিবারের হাসি-কান্না, উৎসবের আনন্দ কিংবা দুঃসময়ের সংগ্রাম সবকিছু যেন নিঃশব্দে কথা বলে সেই দেয়ালগুলোর সঙ্গে। এই স্মৃতিগুলোই প্রবীণদের বেঁচে থাকার প্রেরণা, মানসিক আশ্রয় এবং একান্ত সঙ্গী।  অপরদিকে, যখন এই পরিচিত পরিবেশ থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করে নতুন কোনো স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তাদের ভেতরে এক ধরনের অজানা শূন্যতা জন্ম নেয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও সেখানে থাকে না সেই পরিচিতির উষ্ণতা, নেই চেনা মুখগুলোর সান্নিধ্য। ফলে প্রবীণরা অনেক সময় নিজেদের অপ্রাসঙ্গিক, একাকী এবং অনিরাপদ মনে করতে থাকেন। ধীরে ধীরে তাদের জীবনের প্রতি আগ্রহ কমে যায়, মন হয়ে পড়ে বিষণ্ণ। বর্তমান সমাজব্যবস্থায় আমরা একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি জীবিকার প্রয়োজনে সন্তানরা দূরে চলে যায়, কেউ শহরে, কেউ বিদেশে। এতে করে বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের একসঙ্গে বসবাস করা অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। আবার কখনো পারিবারিক মতবিরোধ, দায়িত্ববোধের ঘাটতি কিংবা স্বার্থের সংঘাতে প্রবীণ মা-বাবাকে আলাদা করে রাখার প্রবণতাও দেখা যায়। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য তখনই তৈরি হয়, যখন মা ও বাবাকে আলাদা করে রাখা হয় একজন এক সন্তানের কাছে, অন্যজন আরেক সন্তানের কাছে। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের শেষে এসে এই বিচ্ছিন্নতা শুধু শারীরিক দূরত্ব নয়, এটি গভীর মানসিক আঘাত। জীবনের শেষ সময়ে এসে যারা একে অপরের আশ্রয় হওয়ার কথা, তারা যদি আলাদা হয়ে যান, তবে সেই কষ্ট নিঃশব্দেই তাদের ভেতরে ক্ষত তৈরি করে। প্রবীণদের চাহিদা খুবই সামান্য। তারা বিলাসিতা চান না, চান না আড়ম্বরপূর্ণ জীবন। তারা শুধু চান একটু আন্তরিকতা, কিছুটা সময়, আর প্রিয়জনদের পাশে থাকার নিশ্চয়তা। একটি পরিচিত উঠান, একটি পুরোনো গাছের ছায়া, কিংবা পাশের প্রতিবেশীর সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প এসব ছোট ছোট বিষয়ই তাদের জীবনে গভীর আনন্দ এনে দেয়। আমাদের উচিত এই বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করা যে, প্রবীণরা আমাদের জীবনের মূলভিত্তি। তাদের ত্যাগ, ভালোবাসা এবং সংগ্রামের উপর দাঁড়িয়ে আমাদের বর্তমান। তাই তাদের জীবনের শেষ সময়টুকু যেন হয় সম্মানজনক, শান্তিময় এবং ভালোবাসায় পূর্ণ এটি নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

ত্রয়োদশ নির্বাচন

সব খবর

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করবো

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।  

অপরাধ

সব খবর

৪৩ কোটি টাকা লোপাট: পি কে হালদারসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ মঞ্জুরের মাধ্যমে প্রায় তেতাল্লিশ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আলোচিত আর্থিক খাতের কারবারি প্রশান্ত কুমার হালদার বা পি কে হালদারসহ মোট পনেরো জনের বিরুদ্ধে এই দুর্নীতির মামলার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের তহবিল থেকে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সত্যতা পেয়ে অনুসন্ধানী দলের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে সমস্ত নথিপত্র এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করার পরেই এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।অভিযুক্তদের তালিকায় আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম রয়েছে। এই মামলায় এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক এবং প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালক মোুহাম্মদ আনোয়ারুল কবীর ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামানকে আসামি করা হচ্ছে। এছাড়া ঋণের সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান স্বন্দীপ করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী স্বপন কুমার মিস্ত্রি এবং প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন সময়ের নীতিনির্ধারক ও পর্ষদ সদস্যরাও এই আইনি জালে আটকা পড়ছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুমোদন পাওয়া এই তালিকায় আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট নাহিদা রুনাই, সাবেক সিনিয়র ব্যবস্থাপক আল মামুন সোহাগ, সাবেক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রাফসান রিয়াদ চৌধুরী এবং সুকুমার মৃধা।প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে যে আসামিরা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং পরস্পর যোগসাজশে অভিনব জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন। কোনো ধরনের বাস্তব অস্তিত্ব বা কার্যক্রম না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র কাগজ কলমে প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে ওই বিশাল অংকের ঋণ গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে সেই ঋণগ্রহণের অর্থ নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা এসব ভুয়া দলিলপত্র ব্যবহার করে আর্থিক খাতের নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় ও জনস্বার্থের অর্থ লুটে নেওয়া হয়।সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় প্রতারণা, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং জালিয়াতির অভিযোগ আনা হচ্ছে। এর বাইরেও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের কঠোর ধারাগুলো যুক্ত করে মামলাটি দায়ের করা হবে বলে জানা গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে খুব দ্রুতই আদালতে এই মামলাটি দায়ের করা হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং এ ধরনের দুর্নীতিপরায়ণ চক্রকে আইনের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

ধর্ম ও জীবন

সব খবর

দোয়া কি শুধু আরবিতেই করতে হবে

মহান আল্লাহর দরবারে মোনাজাত বা প্রার্থনা করার জন্য আরবি ভাষা জানা কি বাধ্যতামূলক, এই প্রশ্নটি প্রায়ই সাধারণ মানুষের মনে উঁকি দেয়। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, স্রষ্টার কাছে মনের আকুতি প্রকাশ বা দোয়া করার ক্ষেত্রে আরবি ভাষায় দক্ষ হওয়া আবশ্যক নয়। বান্দা যেকোনো ভাষা বা বুলিতে তার প্রার্থনা নিবেদন করতে পারে এবং সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা সব ভাষাভাষীর মানুষের মনের কথা সমানভাবে বুঝতে পারেন।কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামি পণ্ডিতরা জানিয়েছেন যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের বাহ্যিক ভাষার চেয়ে তার অন্তরের ইখলাস বা ঐকান্তিকতাকে বেশি মূল্যায়ন করেন। কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ বান্দার মনের ভাষা ও গোপন কথাও অত্যন্ত ভালোভাবে জানেন। তাই কেউ যদি নিজের মাতৃভাষায় অত্যন্ত বিনম্রচিত্তে ও ভক্তিভরে দোয়া করেন, তবে সেই দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হতে কোনো বাধা নেই।অবশ্য সালাত বা নামাজের ভেতরে নির্দিষ্ট কিছু দোয়া এবং জিকির শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী আরবিতেই আদায় করতে হয়। নামাজের বাইরের ব্যক্তিগত মোনাজাত বা ফরিয়াদের ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা একেবারেই নেই, বরং নিজ ভাষায় দোয়া করলে প্রার্থনা আরও বেশি হৃদয়গ্রাহী ও অর্থবহ হয়। মাতৃভাষায় দোয়া করার ফলে বান্দা তার চাওয়ার বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে, যা প্রার্থনায় একাগ্রতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।ইসলামের দৃষ্টিতে দোয়া হলো ইবাদতের মগজ বা মূল নির্যাস, যেখানে বান্দা তার অক্ষমতা স্বীকার করে কেবল আল্লাহর ওপর ভরসা করে। তাই ভাষা কোনো বড় বাধা নয়, বরং প্রার্থনাটি কতখানি আন্তরিক ও পরিশুদ্ধ সেটাই মূল বিষয়। নিজ ভাষায় স্বাচ্ছন্দ্যে মনের সব আকুতি আল্লাহর কাছে তুলে ধরা সম্পূর্ণ জায়েজ এবং বহুলাংশে ফলপ্রসূ বলে মনে করেন আলেম সমাজ।

ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবির গ্যালারি

আরও দেখুন

পীরগঞ্জে নারী শিক্ষিকাকে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ মাদ্রাসা প্রধানসহ ৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

ভিডিও গ্যালারী

আরও ভিডিও »

ধনবাড়ীতে ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনা: খাসপাড়া সড়ক এখন জনগণের ‘

স্বাধীন বাংলা ‍নিউজ এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন shadhinbanglanews

স্বাধীন বাংলা ‍নিউজ এর খবর