Logo
শিরোনাম

লাইভ টিভি

বিজ্ঞাপন স্থান (ফিচার অ্যাড)

জাতীয়

সব খবর

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সংকট মোকাবিলায় দেশে স্থিতিশীলতা ফেরানোর আহ্বান জ্বালানিমন্ত্রীর।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সংকট মোকাবিলায় দেশে স্থিতিশীলতা ফেরানোর আহ্বান জ্বালানিমন্ত্রীর মোঃ শামসুল আলম লিটন সহ সম্পাদক: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, অর্থনীতির গতিশীলতা বজায় রাখতে সড়ক অবরোধ ও মব সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ড বন্ধ করা জরুরি। অন্যথায় বাংলাদেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে পারে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের টিটু মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সম্মিলিত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর কয়েকজন ছাত্রনেতার সরকারে যোগদান এবং নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনেক আহত জুলাই যোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করা হয়নি। এর ফলে অনেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাদ পড়া জুলাই যোদ্ধাদের গেজেটভুক্ত করার জন্য পুনরায় আবেদনের সুযোগ দেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধার রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এ সময় নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়া এবং যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তাঁরা।

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

রাজনীতি

সব খবর

রাজশাহীতে তিন উন্নয়ন প্রকল্পের পাঁচ ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন করলেন ভূমিমন্ত্রী মিনু।

রাজশাহীতে তিন উন্নয়ন প্রকল্পের পাঁচ ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন করলেন ভূমিমন্ত্রী মিনু নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের পুনঃস্থাপিত পাঁচটি ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর সিটি হাট চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি ফলকগুলো উন্মোচন করেন। রাসিকের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর মেয়াদকালে নেওয়া এসব উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তৎকালীন অর্থমন্ত্রী মো. সাইফুর রহমান। দীর্ঘদিন পর ফলকগুলো পুনঃস্থাপনের মধ্য দিয়ে নগরীর উন্নয়ন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাসিকের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। ফলক উন্মোচন শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর রশিদ। এ সময় রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ নূর-ঈ সাঈদসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল হুদা, সহসভাপতি আসলাম সরকার, ওয়ালিউল হক রানা, শফিকুল ইসলাম শাফিক, মুক্তার হোসেন ও জয়নাল আবেদীন শিবলীসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। যেসব প্রকল্পের ফলক পুনঃস্থাপন রাসিক সূত্রে জানা গেছে, পুনঃস্থাপিত পাঁচটি ভিত্তিপ্রস্তর ফলক তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের স্মারক। এর মধ্যে দুটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান নগরীর ফায়ার ব্রিগেড ক্রসিং থেকে উত্তর নওদাপাড়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-নাটোর মহাসড়ক পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত তিনটি ফলক ছিল ঘোষপাড়া মোড়, মেডিকেল বন্ধগেট মোড় এবং সিটি হাট-উত্তর নওদাপাড়া মোড়ে। একই দিনে নগরীর গোরহাঙ্গা রেলগেট মোড়ে রাজশাহীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নর্দমা নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী মো. সাইফুর রহমান। অন্যদিকে, ২০০৪ সালের ১৫ অক্টোবর গোরহাঙ্গা রেলগেট মোড়ে রাজশাহী মহানগরীর মোড় প্রশস্তকরণ ও শহর সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন রাসিক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। প্রকল্পগুলোর উদ্যোগ তৎকালীন মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর মেয়াদকালে নেওয়া হয়েছিল। তবে বিগত সরকারের আমলে এসব প্রকল্পের পাঁচটি ভিত্তিপ্রস্তর ফলক মুছে ফেলা হয়েছিল বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। দীর্ঘদিন পর ফলকগুলো পুনঃস্থাপন ও উন্মোচনের মধ্য দিয়ে রাজশাহীর নগর উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নগুলো আবারও দৃশ্যমান হলো।

মিডিয়া

সব খবর

ইতালির চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একবার বাংলাদেশের সিনেমার মুকুটে যুক্ত হলো নতুন এক গৌরবোজ্জ্বল অর্জন। ইতালির ঐতিহ্যবাহী লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ২২তম আসরে ফিচার ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে সেরা সিনেমার পুরস্কার জিনে নিয়েছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘মাস্টার’। গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ইতালির লুকা শহরে এই আন্তর্জাতিক উৎসবের পর্দা উঠেছিল এবং উৎসবের সমাপনী দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। ২০০৫ সাল থেকে নিয়মিত আয়োজিত হয়ে আসা এই উৎসবে বিশ্বমানের বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হয় বাংলাদেশি এই সিনেমাটিকে। বিশ্ব চলচ্চিত্রের এই মর্যাদাপূর্ণ আসরে সেরা নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিল দেশের চলচ্চিত্র শিল্প।এবারের আসরে মাস্টার ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আরও ১১টি প্রখ্যাত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মূল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু আন্তর্জাতিক সিনেমার মধ্যে ছিল ‘ফার্স্ট ডেজ’, ‘সি সন্স’, ‘স্যালভেশন’, ‘সাপোর্টিং রোল’, ‘দ্য কোয়ায়েট বি-কিপার’ এবং ‘অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’-এর মতো প্রশংসিত সব কাজ। এই শক্তিশালী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ চলচ্চিত্রগুলোকে পেছনে ফেলে জুরি বোর্ডের নজর কেড়ে সেরার পুরস্কার নিজেদের করে নেয় ‘মাস্টার’। উৎসবের বিচারকমণ্ডলী তাদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় সিনেমাটির শৈল্পিক উৎকর্ষ ও গভীর বার্তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাদের মতে, একটি স্থানীয় প্রেক্ষাপটের গল্প ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে বিরাজমান প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সংকটকে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন নির্মাতা।চলচ্চিত্রটির গল্প ও চিত্রনাট্যের মুন্সিয়ানার প্রশংসা করে জুরিবোর্ড জানিয়েছে, অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত ও সূক্ষ্ম বিন্যাসের কারণে দর্শকরা একজন আদর্শবান শিক্ষকের সঙ্গে পরিচিত হন। ন্যায়বিচার ও সুনির্দিষ্ট নীতিতে বিশ্বাসী সেই শিক্ষক কীভাবে বৃহত্তর কল্যাণের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থের পেছনে ছোটা রাজনৈতিক ব্যবস্থার জটিলাঁজালে পড়ে প্রভাবিত হন, তা অত্যন্ত সাবলীলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত নিজেই সিনেমাটি পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছেন। এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছেন অভিনেতা নাসির উদ্দিন খান। স্থানীয় রাজনীতিতে সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রবেশ করা একজন শিক্ষক কীভাবে ক্ষমতার লোভ ও আপসের যাঁতাকলে পড়ে ধীরে ধীরে বদলে যান, মূলত সেই বাস্তবধর্মী কাহিনী নিয়েই এগিয়ে গেছে এই ছবির মূল গল্প।ছবিটিতে নাসির উদ্দিন খান ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় ও প্রতিভাবান অভিনয়শিল্পী গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে নিজেদের মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। এই তারকাবহুল তালিকায় রয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরিফ সিরাজ এবং তাসনুভা তামান্না প্রমুখ। আন্তর্জাতিক এই উৎসবে সিনেমাটির এমন বড় অর্জনে দারুণ উচ্ছ্বসিত নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জানান যে, লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের এই স্বীকৃতি ‘মাস্টার’ সিনেমার সর্বজনীন আবেদন ও প্রাসঙ্গিকতার একটি বড় প্রমাণ। এবারের প্রতিযোগিতায় বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা থাকার পরও তাঁর দলের সবার কঠোর পরিশ্রমকে মূল্যায়ন করায় তিনি বিচারকমণ্ডলীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত রটারডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৫৫তম আসরেও বিগ স্ক্রিন প্রতিযোগিতায় সেরা নির্বাচিত হয়েছিল এই সিনেমাটি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের ঝুলি ভারী করার পর এবার দেশের দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি উপহার দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন নির্মাতা।

মতামত/সম্পাদকীয়

সব খবর

প্রবীণরা পরিচিত পরিবেশেই বেশি ভালো থাকেন

হাসান আলী : জীবনের শেষ অধ্যায়টি যেন এক নীরব নদীর মতো যেখানে স্রোত ধীর, কিন্তু গভীরতা অপরিসীম। এই সময়টায় মানুষ আর নতুন কিছুর প্রতি তেমন আগ্রহী থাকে না, বরং ফিরে যেতে চায় তার চেনা পৃথিবীতে, পরিচিত আকাশের নিচে, স্মৃতিমাখা সেই আপন ঠিকানায়।  প্রবীণদের মনোজগৎ তখন আবেগ, স্মৃতি আর সম্পর্কের সূক্ষ্ম সুতোয় বোনা এক অনন্য জগত। একটি পুরোনো বাড়ি যার দেয়ালে হয়তো রং চটে গেছে, ছাদে কিছু ফাটল তবুও সেটিই প্রবীণের কাছে স্বর্গসম। কারণ সেই বাড়ির প্রতিটি কোণেই জড়িয়ে থাকে তার জীবনের গল্প। সন্তানদের শৈশব, পরিবারের হাসি-কান্না, উৎসবের আনন্দ কিংবা দুঃসময়ের সংগ্রাম সবকিছু যেন নিঃশব্দে কথা বলে সেই দেয়ালগুলোর সঙ্গে। এই স্মৃতিগুলোই প্রবীণদের বেঁচে থাকার প্রেরণা, মানসিক আশ্রয় এবং একান্ত সঙ্গী।  অপরদিকে, যখন এই পরিচিত পরিবেশ থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করে নতুন কোনো স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তাদের ভেতরে এক ধরনের অজানা শূন্যতা জন্ম নেয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও সেখানে থাকে না সেই পরিচিতির উষ্ণতা, নেই চেনা মুখগুলোর সান্নিধ্য। ফলে প্রবীণরা অনেক সময় নিজেদের অপ্রাসঙ্গিক, একাকী এবং অনিরাপদ মনে করতে থাকেন। ধীরে ধীরে তাদের জীবনের প্রতি আগ্রহ কমে যায়, মন হয়ে পড়ে বিষণ্ণ। বর্তমান সমাজব্যবস্থায় আমরা একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি জীবিকার প্রয়োজনে সন্তানরা দূরে চলে যায়, কেউ শহরে, কেউ বিদেশে। এতে করে বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের একসঙ্গে বসবাস করা অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। আবার কখনো পারিবারিক মতবিরোধ, দায়িত্ববোধের ঘাটতি কিংবা স্বার্থের সংঘাতে প্রবীণ মা-বাবাকে আলাদা করে রাখার প্রবণতাও দেখা যায়। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য তখনই তৈরি হয়, যখন মা ও বাবাকে আলাদা করে রাখা হয় একজন এক সন্তানের কাছে, অন্যজন আরেক সন্তানের কাছে। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের শেষে এসে এই বিচ্ছিন্নতা শুধু শারীরিক দূরত্ব নয়, এটি গভীর মানসিক আঘাত। জীবনের শেষ সময়ে এসে যারা একে অপরের আশ্রয় হওয়ার কথা, তারা যদি আলাদা হয়ে যান, তবে সেই কষ্ট নিঃশব্দেই তাদের ভেতরে ক্ষত তৈরি করে। প্রবীণদের চাহিদা খুবই সামান্য। তারা বিলাসিতা চান না, চান না আড়ম্বরপূর্ণ জীবন। তারা শুধু চান একটু আন্তরিকতা, কিছুটা সময়, আর প্রিয়জনদের পাশে থাকার নিশ্চয়তা। একটি পরিচিত উঠান, একটি পুরোনো গাছের ছায়া, কিংবা পাশের প্রতিবেশীর সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প এসব ছোট ছোট বিষয়ই তাদের জীবনে গভীর আনন্দ এনে দেয়। আমাদের উচিত এই বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করা যে, প্রবীণরা আমাদের জীবনের মূলভিত্তি। তাদের ত্যাগ, ভালোবাসা এবং সংগ্রামের উপর দাঁড়িয়ে আমাদের বর্তমান। তাই তাদের জীবনের শেষ সময়টুকু যেন হয় সম্মানজনক, শান্তিময় এবং ভালোবাসায় পূর্ণ এটি নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

ত্রয়োদশ নির্বাচন

সব খবর

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করবো

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।  

অপরাধ

সব খবর

ফুলপুরে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর সন্তান প্রসব, পিতৃত্বের স্বীকৃতি দাবি

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রী কন্যাসন্তান জন্ম দিয়েছেন। সম্প্রতি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঠাকুরবাখাই গ্রামে নিজ বাড়িতে ওই কিশোরী সন্তান প্রসব করেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, স্থানীয় এক যুবকের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিলেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।ভুক্তভোগী ছাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, একই গ্রামের ফখরুল তালুকদারের ছেলে হাফেজ রনি তালুকদার তাকে প্রথমবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। শুধু তাই নয়, ওই বখাটে যুবক অত্যন্ত কৌশলে সেই ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করে রাখেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে আরও একাধিকবার ব্ল্যাকমেইল করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। বর্তমানে ওই স্কুলছাত্রী তার কোল আলো করে আসা নবজাতক শিশুর সঠিক পিতৃত্বের স্বীকৃতি এবং নিজের জন্য ন্যায়বিচার দাবি করছেন।অভিযুক্ত রনি তালুকদার বিবাহিত এবং তার নিজের সন্তানও রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি পেশায় একজন মাদরাসা শিক্ষক এবং বর্তমানে ঢাকার একটি মাদরাসায় কর্মরত আছেন। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত রনি তালুকদার তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন যে, ভবিষ্যতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যদি শিশুটির বাবা হিসেবে তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তবে তিনি যেকোনো আইনি ব্যবস্থা মাথা পেতে মেনে নেবেন।পুরো বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে। ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান যে, পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবারকে দ্রুত থানায় আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশি তদন্ত শুরু হবে এবং সেই অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ধর্ম ও জীবন

সব খবর

তাহাজ্জুদ নামাজ কত রাকাত, পড়ার নিয়ম কী

ইসলাম ধর্মে নফল ইবাদতগুলোর মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজ অন্যতম সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ নির্ধারিত হওয়ার আগে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য এই নামাজ আদায় করা বিশেষভাবে বাধ্যতামূলক ছিল। তিনি নিজে যেমন নিয়মিত এই ইবাদত পালন করতেন, তেমনি কোনো কারণে ছুটে গেলে দিনে তা কাজা করে নিতেন এবং সাহাবিদেরও এটি নিয়মিত আদায়ের জোরালো তাগিদ দিতেন। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, তাহাজ্জুদ নামাজ হলো অতীতের সৎকর্মশীল ও নেককার বান্দাদের একটি বিশেষ আমল, যা মানুষকে অন্যায় ও পাপকাজ থেকে দূরে রাখে এবং বিভিন্ন শারীরিক রোগব্যাধি থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।সাধারণত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে এই নামাজ কত রাকাত পড়া উচিত তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল কাজ করে থাকে। নির্ভরযোগ্য হাদিসের তথ্য অনুযায়ী, তাহাজ্জুদ নামাজ সর্বনিম্ন দুই রাকাত থেকে শুরু করে সর্বমোট কুড়ি রাকাত পর্যন্ত পড়ার বিধান ও বর্ণনা পাওয়া যায়। মহানবী সা. পরিস্থিতি ভেদে কখনো চার রাকাত, কখনো আট রাকাত আবার কখনো বারো রাকাত পর্যন্ত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন। উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সা. সাধারণত সারা বছর নিয়মিতভাবে আট রাকাত করে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন।মুসলমানদের জন্য সময় ও সুযোগের ওপর ভিত্তি করে এই নামাজ আদায়ের পরিধি নির্ধারণ করা যেতে পারে। পর্যাপ্ত সময় থাকলে বারো রাকাত বা আট রাকাত আদায় করা অত্যন্ত উত্তম, তবে ব্যস্ততা বা অন্য কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে অন্তত চার রাকাত পড়া উচিত। এরপরও যদি কারও শারীরিক দুর্বলতা বা সময়ের চরম সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে তিনি কমপক্ষে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেও তাহাজ্জুদ আদায়ের পূর্ণ সওয়াব ও নেকি লাভ করতে পারবেন। এই নামাজ দুই রাকাত করে সালাম ফিরিয়ে আদায় করাই সুন্নাহসম্মত এবং সবচেয়ে বেশি উত্তম পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়।তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম বা বিশেষ সুরার বাধ্যবাধকতা নেই, যেকোনো সুরা দিয়েই এই নামাজ পড়া যায়। তবে নবী করিম সা. এই নামাজে দীর্ঘ কেরাত পড়তে পছন্দ করতেন এবং রুকু-সেজদাসহ অন্যান্য রুকনগুলো দীর্ঘায়িত করতেন। বিশেষ করে সিজদায় অবনত হয়ে কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত বিভিন্ন কল্যাণকর দোয়া পাঠ করার বিশেষ নির্দেশনা ও অনন্য মর্যাদা রয়েছে যা মুমিন বান্দার দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ বয়ে আনে।

ছবির গ্যালারি

আরও দেখুন

চিতলমারী হাসিনা বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এর নবগঠিত এডহক কমিটির পরিচিতি ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন।

ভিডিও গ্যালারী

আরও ভিডিও »

ভিডিও লোড করতে সমস্যা হয়েছে। API Key বা Channel ID সঠিক কিনা যাচাই করুন।