এস.এম.আব্দুর রাজ্জাক,নিজস্ব প্রতিবেদক :

নেচে-গেয়ে মানুষকে আনন্দ দেন তিনি। তাঁর গানের তালে আর নাচের ছন্দে মুগ্ধ হয়ে ছুটে আসে ছোট-বড় সবাই। তবে এই আনন্দের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক নিদারুণ জীবনসংগ্রাম। তিনি আঃ ছালাম, পেশায় একজন ভ্রাম্যমাণ চানাচুর বিক্রেতা। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের পীরপুর গ্রামে তাঁর বসবাস।

পরিবারের একমাত্র ভরসা হতদরিদ্র আঃ ছালামের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫ জন। স্ত্রী, সন্তান নিয়ে অভাব-অনটনের সংসার তাঁর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। প্রতিদিন সকাল হলেই চানাচুরের ঝুড়ি কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন উপার্জনের আশায়। গ্রামে গ্রামে, হাটে-বাজারে ঘুরে চানাচুর বিক্রি করেই জোটে ৫ সদস্যের এই পরিবারের দু’মুঠো অন্ন।

জীবিকার তাগিদে অভিনব কৌশল চানাচুর বিক্রির জন্য ছালাম বেছে নিয়েছেন এক ভিন্নধর্মী কৌশল। ক্রেতাদের, বিশেষ করে শিশুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তিনি গানের সুর ধরেন, সাথে থাকে নিজস্ব ভঙ্গিমায় নাচ। তাঁর এই অভিনব কায়দা দেখে অনেকেই বিনোদিত হন এবং ভালোবেসে চানাচুর কেনেন। একদিকে মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, অন্যদিকে নিজের পরিবারের ক্ষুধা নিবারণ—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে তিনি যেন এক 'বিনোদনের ফেরিওয়ালা'।

অদম্য এক জীবনসংগ্রাম সারাদিন হাঁটাচলা আর গান-নাচের পর দিনশেষে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন ছালাম। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির বাজারে ৫ জনের সংসার চালানো তাঁর জন্য যেন এক দুঃসাধ্য ব্যাপার। তবুও তিনি কারও কাছে হাত পাতেননি। নিজের পরিশ্রম আর ঘামের বিনিময়ে সততার সাথে লড়াই করে যাচ্ছেন দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের মতে, আঃ ছালাম একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ। নিজের দুঃখ-কষ্ট বুকে চেপে রেখে যেভাবে তিনি মানুষকে আনন্দ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন, তা সত্যিই সমাজের জন্য একটি অনুপ্রেরণা। এই অদম্য চানাচুর বিক্রেতার জীবনমান উন্নয়নে সমাজের বিত্তবান বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একটু সুদৃষ্টি দিলে তাঁর এই কঠিন জীবনসংগ্রাম কিছুটা হলেও সহজ হতো।