বিশেষ প্রতিনিধি, ধনবাড়ী:
একজন আদর্শ শিক্ষকের স্থান কেবল পাঠ্যপুস্তকের পাতায় বা শ্রেণিকক্ষের চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ থাকে না, তাঁর আসল ঠিকানা গড়ে ওঠে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে। দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল কর্মজীবন শেষে এমনই বিরল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে অবসরে গেলেন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ধোপাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রধান শিক্ষক জনাব মো. ফজলুর রহমান।
উপজেলা মিলনায়তনে আয়োজিত এক জমকালো বিদায় সংবর্ধনা এবং অনুষ্ঠান শেষে প্রিয় শিক্ষককে টমটমে বসিয়ে পুরো শহর প্রদক্ষিণের মধ্য দিয়ে ধনবাড়ীর প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার শিক্ষক সমাজের প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ধনবাড়ী উপজেলার সর্বস্তরের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আয়োজিত এই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা মিলনায়তন রূপ নেয় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের এক মিলনমেলায়। প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি এবং সহকর্মীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ পুরো অনুষ্ঠানকে অত্যন্ত আবেগঘন ও মহিমান্বিত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জনাব ফজলুর রহমান কেবল একজন প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান ছিলেন না; তিনি ছিলেন ধনবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের একজন অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক। দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষক সমাজের ঐক্য এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও সম্মাননা প্রদান পর্ব শেষে শুরু হয় শিক্ষক সমাজের এক ব্যতিক্রমী ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। প্রিয় প্রধান শিক্ষককে সুসজ্জিত একটি টমটম গাড়িতে বসিয়ে সহকর্মীরা ধনবাড়ী শহর প্রদক্ষিণ করেন। প্রিয় মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতে শিক্ষক সমাজের এই অভিনব উদ্যোগ উপস্থিত পথচারী ও স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। দৃশ্যটি প্রমাণ করে—সমাজ গড়ার কারিগররা যখন তাঁদের যোগ্য সম্মান পান, তখন তা পুরো শিক্ষক সমাজের মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, এমন একজন আদর্শ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষককে বিদায় জানাতে পেরে একদিকে যেমন কষ্টের অনুভূতি কাজ করছে, অন্যদিকে তাঁর মতো একজন অভিভাবক পাওয়ার জন্য পুরো ধনবাড়ী শিক্ষক সমাজ আজ গর্বিত। তাঁরা স্যারের দেখানো আদর্শ ও নীতি অনুসরণ করে আগামীর প্রাথমিক শিক্ষাকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সবশেষে পরম করুণাময়ের দরবারে জনাব মো. ফজলুর রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সুখী অবসর জীবন কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সহকর্মীদের একটাই সুর—"বিদায় শব্দটিতে কর্মজীবনের ইতি টানলেও, আপনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন আমাদের হৃদয়ে, শ্রদ্ধায় ও ভালোবাসায়।"
