নিজস্ব প্রতিবেদন:
উন্নত জীবনের আশায় অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় পাড়ি জমানো কিংবা পবিত্র হজ পালনের স্বপ্ন—সাধারণ মানুষের এই আবেগ ও বিশ্বাসকে পুঁজি করে টাঙ্গাইল জেলায় এক ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছে। বিদেশে লোভনীয় কর্মসংস্থান এবং হজে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জেলার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। প্রতিশ্রুত সেবা তো মেলেইনি, উল্টো টাকা ফেরত চাইতে গেলে ভুক্তভোগীদের কপালে জুটছে প্রত্যাখ্যান ও হুমকি।
ভুক্তভোগীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে চারজনের নাম উঠে এসেছে। তারা হলেন— ধনবাড়ী উপজেলার হরিপুর বনিচন্দ্রবাড়ী গ্রামের মোঃ ইউসুফ আলী এবং তার ছেলে আসাদুজ্জামান (আপেল), গোপালপুর উপজেলার বাইসকাইল গ্রামের জাকিয়া সুলতানা (দীপা) এবং ধনবাড়ী উপজেলার বনিপাড়া বকল বাড়ী গ্রামের মোছাঃ আফরুজা আরেফিন। এছাড়াও, এই প্রতারক চক্রের অন্যতম সক্রিয় সহযোগী হিসেবে মধুপুর উপজেলার আস্রা গ্রামের মোঃ আনিসুর রহমানের নামও সামনে এনেছেন প্রতারিত ব্যক্তিরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, অভিযুক্তরা অত্যন্ত সুকৌশলে সাধারণ মানুষকে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় আকর্ষণীয় বেতনে চাকরির সুযোগ এবং নির্বিঘ্নে হজে পাঠানোর শতভাগ নিশ্চয়তা দিত। এই ফাঁদে পা দিয়ে অনেকেই তাদের সারা জীবনের জমানো শেষ সম্বল, এমনকি ধারদেনা ও জমিজমা বিক্রি করে চক্রের হাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও বিদেশে বা হজে পাঠানোর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি চক্রটি।
ভুক্তভোগীরা যখন তাদের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে জানতে চাইতেন, তখন অভিযুক্তরা নানা টালবাহানা ও মিথ্যে অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে তারা ভুক্তভোগীদের সাথে যোগাযোগ সম্পূর্ণ সীমিত করে দেয় এবং সরাসরি অর্থ ফেরত দিতেও অস্বীকৃতি জানায়।
এই সংঘবদ্ধ প্রতারণার শিকার হয়ে অনেক পরিবার আজ পথের ভিখারি হওয়ার উপক্রম। নিজেদের সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই প্রতারক চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি আত্মসাৎকৃত অর্থ দ্রুত উদ্ধার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এদিকে, এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদে প্রকাশ করা হবে।
