সেলিম আবেদ, খুলনা প্রতিনিধি  খুলনার রুদাঘরা ইউনিয়নে দূর্গা পুজা-কে কেন্দ্র করে মাত্র আধা-কিলোমিটারের ব্যবধানে দুটি মন্ডপে প্রতিযোগিতা মূলকভাবে শত-শত প্রতীমা তৈরি করা হয়েছে। আর এ ঘটনায় সমগ্র ডুমুরিয়া উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আসন্ন দূর্গাপূজা উপলক্ষে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বী নয়, এলাকার সাধারণ মানুষের মুখে মুখেও আলোচনা হচ্ছে, এ বছর ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের খরসংগ গ্রামের শতবর্ষী দূর্গা মন্দিরে সর্বাধিক ২০১টি প্রতীমা গড়া হয়েছে। অপরদিকে ওই মন্দিরের পূর্বদিকে আধা-কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে মিকশিমিল বাজারের পাশেই ‘খরসংগ মিকশিমিল সাহাপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দির’এ ১৫২টি প্রতীমা গড়ে ৫২তম দূর্গোৎসব পালন করা হচ্ছে। খানিকটা প্রতিযোগিতা মুলক এ পূজা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা-ধরণের প্রচারও চলছে।       মানুষের আগ্রহ দেখতে গতকাল  সকাল সাড়ে ৮টায় খরসংগ কালার বটতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরে পৌছে আলোকউজ্জল মন্ডপে ভাষ্করদের রং-তুলির কাজ করতে দেখার পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত স্কুল শিক্ষার্থী তৃপ্তি রায়, চৈতি রায়, তপতি চৌধুরী’র সঙ্গে কথায় তারা বলেন, স্কুল টাইমের আগেই এসেছি, দুই মন্দিরের প্রতীমা দেখতে। সাহা পাড়ার গেটে বড় হনুমান, রাম-লক্ষণ-সীতা’র প্রতীমা, আর এখানে(খরসংগ) বকাসুর বধ, গোপালভাড়-মন্ত্রী’র মূর্তি দেখে খুব ভালো লাগেছে। গত ৪ মাস ধরেই ওই দুই মন্দিরে প্রতীমা গড়ার কাজ চলছে। সাতক্ষীরা জেলার ঘোষনগর গ্রামের শিমুল দাস(৩৫) সাড়ে ৩ লাখ টাকা  পারিশ্রমিকে সাহাপাড়া মন্দিরে ১৫২টি প্রতীমা গড়েছেন। অপরদিকে খরসংগ মন্দিরের ভাষ্কর এলাকারই ছেলে অভিলাষ মন্ডল(৩০)’র পারিশ্রমিক সাড়ে ৩ লাখ টাকা হলেও তিনি গড়েছেন ২০১টি প্রতীমা। এখনও রং’র কাজ শেষ হয়নি। তবুও দর্শনার্থীর ভীড় লেগেই আছে। ধর্মীয় পৌরানীক কাহিনীর আলোকে সাহাপাড়া মন্দিরে- প্রতীমার মাধ্যমে মা-দূর্গার ৯টি রুপ, রথ-যাত্রা, রাম-সীতা’র সংক্ষিপ্ত রুপ, ভগীরথের ৭ পুত্রের পুনঃ-জন্ম, রক্তবীজ, মা-কালি’র বিভিন্ন কাজ শিব, সরস্বতী, শ্রীকৃষ্ণ-সহ বড় হনুমান মূর্তি তৈরি করা হয়েছে। অপরদিকে খরসংখ মন্দিরে- ভীষ্মের প্রতি শ্রীকৃষ্ণের অস্ত্র ধারণ, দক্ষ-যোগ্য, সত্যবানের মৃত্যু, ভীষ্মের রাক্ষস বধ, অর্জুন-নাগকন্যা, রাজা হরিশ চন্দ্রের শ্মশানঘাট, ভগিরথের গঙ্গা, শ্রীকৃষ্ণের বকাসুর বধ, রামের সীতা উদ্ধার-সহ ভিন্ন ভিন্ন ঘটনাচিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আপনারা বিষয়টি প্রতিযোগিতা বা হিংসাত্মক রুপে ভাবছেন কেনো ? বরং ভাবুন-তো, সমগ্র ডুমুরিয়া উপজেলার মধ্যে রুদাঘরা ইউনিয়নে প্রায় একই যায়গায় সর্বাধিক প্রতীমার দুটি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর এ কারণে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থী এখানেই আসবে। এবং দুটি মন্ডপের প্রতীমা দেখে আনন্দ পাবে।’ এই কথাগুলো বলেন, খরসংগ কালার বটতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত সরকার। তবে তিনি দুঃক্ষ করে বলেন, শত-বছরের পুরাতন এই মন্দির উন্নয়নে আমরা কোনো সরকারি সহয়তা পাই না। অপরদিকে সাহাপাড়া মন্দির কমিটির সভাপতি অধ্যাপক কার্তিক চন্দ্র সাহা বলেন, সাহাপাড়ার পুজারীদের অনুদানেই বিগত ৫২ বছর ধরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আমাদের পূজা অব্যাহত আছে। মানুষের আনন্দই আমাদের বড় প্রাপ্তি।  এ প্রসঙ্গে ডুমুরিয়া উপজেলা পুজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি টুটুল কুন্ডু বলেন, ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে এ বছর ২২৫টি মন্ডপে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তার মধ্যে রুদাঘরা ইউনিয়নের খরসংগ মন্দিরে সর্বাধিক ২০১টি, তার পাশেই সাহাপাড়া মন্দিরে ১৫২টি প্রতীমা তৈরি করায় এলাকায় দারুণ সাড়া পড়েছে। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নির্মল চন্দ্র বৈরাগী বলেন, আশা করছি ডুমুরিয়ার সকল মানুষের সহযোগীতায় অত্যন্ত সৌহদ্য পূর্ণ পরিবেশে দূর্গোৎসব সম্পন্ন হবে। ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় আমরা সর্বত্মক প্রচেষ্টা জোরদার করেছি। আশা করছি উৎসবের দিনগুলো সকলের আনন্দে কাটুক। সেলিম আবেদ ১০/১০/২৬