ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটি নিয়ে চলছে গুঞ্জন:

 মোঃ রেজাউল করিমঃ

মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারন দেখিয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের সম্মতিতে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

হঠাৎ এই কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণায় স্থবির হয়ে পড়েছে অঙ্গসংগঠনটির মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বিভিন্ন থানা কমিটির প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই মহানগর কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

থানা পর্যায়ের সাবেক একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে থানা কমিটি গঠিত না হওয়ায় সাংগঠনিক গতিশীলতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। থানা কমিটি গঠন করতে না পারাকে বিগত মহানগর নেতৃত্বের ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখছেন অনেকে। 

কমিটি বিলুপ্তির পরপরই ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন নেতৃত্বে আসতে জোর লবিং শুরু করেছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির পদপ্রত্যাশী, বর্তমান ও সাবেক নেতারা। পাশাপাশি ছাত্রদলের সাবেক এবং থানা কমিটির নেতৃত্বদানকারী বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতার নামও আসছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী, হামলা-মামলা ও পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েও সংগঠনকে আগলে রাখা এবং ‘ক্লিন ইমেজ’-এর অধিকারীদের এবার শীর্ষ নেতৃত্বে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার বিষয়টিকেও বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

 

সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন মনিরুল ইসলাম স্বপন, আবুল হাসান টিটু, মিজানুর রহমান রাজ।

সাধারণ সম্পাদক পদে জোরালোভাবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন—তসলিম আহসান মাসুম, মোঃ শুক্কুর আল-আমিন, তানভীর আহম্মেদ ইকরাম।

 

নেতাকর্মীদের মাঝে নানা জল্পনা-কল্পনা চললেও, নতুন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি কবে নাগাদ ঘোষণা করা হবে—সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকে দ্রুত মূল্যায়ন করে সংগঠনকে আরও গতিশীল করতে অতিদ্রুত নতুন কমিটি গঠনে যতাযত পদক্ষেপ নিবে কেন্দ্রীয় যুবদল।