যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রবল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়াতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি সেভেন। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে দাম রাখতে তারা কৌশলগত মজুত থেকে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল উন্মুক্ত করে দেবে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম যখন লাগামহীনভাবে ঊর্ধ্বমুখী, তখন এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জি সেভেনের এই আকস্মিক পদক্ষেপে মার্কিন প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত জোরালো ছিল। মূলত যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। কারণ, তেলের উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা নির্বাচনী বাক্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে তেলের দাম কমিয়ে ভোটারদের স্বস্তি দিতে মিত্র দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে এই যৌথ উদ্যোগের পথ বেছে নিয়েছে ওয়াশিংটন।

বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিগুলোর এই জোটের এমন সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে সাময়িক স্বস্তি মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল, যার ফলে হু হু করে বাড়ছিল জ্বালানির দাম। এই পরিস্থিতিতে বাজারে অতিরিক্ত তেলের জোগান আসায় মূল্যবৃদ্ধির বর্তমান প্রবণতা কিছুটা মন্থর হবে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

তবে দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছেড়ে দেওয়ার এই নীতি কতোটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে। অনেক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, জরুরি পরিস্থিতির জন্য জমা রাখা এই রিজার্ভ কমে গেলে ভবিষ্যৎ সংকটে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে দেশগুলো। তা সত্ত্বেও, বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে তাৎক্ষণিক সংকট নিরসনকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে জি সেভেনভুক্ত দেশগুলো।