আরব আমিরাতে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা ও প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব ইউএইর নবগঠিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান। জমকালো আয়োজনে অভিষেকের পাশাপাশি ‘বিপিসি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি ও দুবাই প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল শাহীন ও সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাফায়েত। এতে আমিরাতে বসবাসরত কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মোহাম্মদ ইছমাইলের পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত এবং বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। প্রথম পর্বে নবগঠিত কমিটির সদস্যদের শপথ পাঠ করান প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব, ইউএই বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল ছালাম তালুকদার। অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশের জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কবি হাসান হাফিজ। তিনি প্রবাসে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা অব্যাহত রাখা এবং দেশীয় সংস্কৃতি ও প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করার জন্য প্রেস ক্লাবের দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দুবাই পুলিশের অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইনের প্রধান ওমর আফলাতুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রচলিত আইন, বিশেষ করে সাইবার অপরাধ ও সাইবার আইন সম্পর্কে সচেতনতামূলক দিকনির্দেশনা দেন। প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে ঐক্য জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসীরা কোনো সমস্যায় সরাসরি পুলিশের শরণাপন্ন হতে না পারলে প্রেস ক্লাবের মাধ্যমেও তথ্য আদান-প্রদান এবং নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারেন। সুন্দর আয়োজনের জন্য তিনি প্রেস ক্লাবকে ধন্যবাদ জানান এবং নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের পরামর্শ দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি এস এম মোদাসসের শাহ। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বের সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি মামুনুর রশীদ আজমান, ফুজাইরা, আবুধাবি, রাস আল খাইমাহ ও আল আইনসহ আমিরাতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ভালোবাসায় আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। বড় আয়োজনে ভুলত্রুটি থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি এর দায় নিজের কাঁধে নেন এবং অনুষ্ঠানের সফলতা উপস্থিত সবার প্রতি উৎসর্গ করেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি এড়িয়ে মতপার্থক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সভাপতি বলেন, “আমরা কারো সাথে কোনো বিবাদে জড়াতে চাই না, নিজস্ব গতি ও নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।” অনুষ্ঠানে আমিরাতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিত্ব ও সফল উদ্যোক্তাদের হাতে ‘বিপিসি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেওয়া হয়। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেটাল শিল্প, ব্যবসায়িক সেবা, স্টিল ফ্যাব্রিকেশন, কৃষি ও রেমিট্যান্স, রিয়েল এস্টেট, সিআইপি সম্মাননা, শিক্ষা ও গবেষণা, প্রবাসীদের অধিকার আদায়, সমাজসেবা, ফ্যাশন, আইনি সহায়তা ও অটোমোবাইলসহ বিভিন্ন খাতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে আমিরাতের পরিচিত কণ্ঠশিল্পী লুৎফুর রশীদ রাসেল ও সামিদা চৌধুরী পপি সংগীত পরিবেশন করেন। পাশাপাশি গান করেন প্রেস ক্লাবের সহসম্পাদক ইস্তিয়াক আসিফ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সায়েম মোহাম্মদ। তাঁদের পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শকেরা মুগ্ধ হন। সংগীত পরিবেশন শেষে আমন্ত্রিত শিল্পীদের হাতে প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।