বঙ্গোপসাগরের গভীর জলে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে একটি কাঠের নৌযান দুর্ঘটনার শিকার হয়। মাঝ সমুদ্রে গিয়ে হঠাৎ করেই নৌযানটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় এটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভাসতে থাকে। ইঞ্জিন সচল করার সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর মাঝসমুদ্রে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন নৌযানে থাকা যাত্রীরা। একপর্যায়ে উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে নৌযানের তলা ফেটে ভেতরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই জলমগ্ন হয়ে নৌযানটি সাগরে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়।

ঠিক এমন সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি নিয়মিত টহল জাহাজ ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। দূর থেকে ডুবতে থাকা নৌযানটি এবং যাত্রীদের আকুতি দেখতে পেয়ে নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। চরম প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের তোড় উপেক্ষা করে নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী দলটি সাহসিকতার পরিচয় দেয়। দ্রুততার সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং নৌযানটিতে থাকা যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধারে তৎপরতা চালান।

উদ্ধার অভিযানে নৌবাহিনীর সদস্যরা নৌযানটিতে আটকা পড়া মোট এগারোজন যাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই ব্যক্তিরা দালালদের প্রলোভনে পড়ে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছিলেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার এই বিপজ্জনক উদ্যোগের কারণে তারা মাঝসাগরে এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির মুখে পড়েন। নৌবাহিনীর সময়মতো হস্তক্ষেপের কারণেই মূলত তাদের প্রাণ রক্ষা পায়।

উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় খাবার ও পানীয় সরবরাহ করে নৌবাহিনী। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের সমুদ্রসীমা ব্যবহার করে সব ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং মানবপাচার রোধে নৌবাহিনীর এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোও এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে গ্রেফতারে নজরদারি জোরদার করেছে।