বিএফসিসির ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ,

তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশ ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার (বিএফসিসি) দেশের বিমান পরিবহন খাতের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে খাবার প্রস্তুত ও সরবরাহের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে বর্তমানে বিএফসিসির ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, কর্মপরিবেশ, স্টোরেজ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা অভিযোগ ও উদ্বেগের কথা জানা যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের অভিযোগ, বর্তমান মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আরিফুল ইসলাম সাধনের সময় বিএফসিসির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে বিদেশি এয়ারলাইন্সের ব্যবসা হারানো, প্রশাসনিক জটিলতা, নিয়োগ ও পুনঃনিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, আর্থিক লেনদেন, স্টোর ও কিচেন ব্যবস্থাপনা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মপরিবেশের অবনতির বিষয় রয়েছে।

বিদেশি এয়ারলাইন্সের ব্যবসা হারানোর অভিযোগ!

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অতীতে Etihad Airways ও Malaysia Airlines-এর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের খাবার বিএফসিসি থেকে সরবরাহ করা হতো। এসব ফ্লাইটে মাসে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বেশি মূল্যের খাবার সরবরাহ করা হতো বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে বর্তমানে এসব এয়ারলাইন্স বিএফসিসি থেকে খাবার নেওয়া বন্ধ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা কিংবা সেবার মান নিয়ে অসন্তোষের কারণে এমনটি হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বিষয়টি সত্য হলে এর আর্থিক প্রভাব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওপর পড়তে পারে।

জিএমের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন!

বিএফসিসির বর্তমান জিএম আরিফুল ইসলাম সাধনের পেশাগত অভিজ্ঞতা মূলত তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত হওয়ায় বৃহৎ পরিসরের ফ্লাইট ক্যাটারিং কার্যক্রম পরিচালনায় তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।

এছাড়া ২০২৩ সালের মার্চে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সার্ভার হ্যাকিংয়ের ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে ওই ঘটনার প্রকৃত কারণ, তদন্ত প্রতিবেদন ও পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কী ছিল, তা সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

আর্থিক অনিয়ম ও নিয়োগে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ!

বিএফসিসির বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম, ফাইল নিষ্পত্তি, কর্মী নিয়োগ ও পুনঃনিয়োগকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল দীর্ঘ সময় নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়োগ ও পুনঃনিয়োগে আর্থিক সুবিধা নেওয়া এবং পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে প্রভাবশালী একটি বলয় তৈরি করার মতো অভিযোগ রয়েছে।

কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের অভিযোগ!

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের অভিযোগ, স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজও অনেক ক্ষেত্রে জটিল হয়ে পড়েছে। এতে কর্মীদের কার্যক্রম ও কর্মঘণ্টা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি কর্মীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীরা বলছেন, এসব কারণে বিএফসিসিতে কর্মরতদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামগ্রিক মতামত এবং প্রশাসনের বক্তব্যও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

খাদ্য ও মালামাল বাইরে নেওয়ার অভিযোগ

বিএফসিসির বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ও মালামাল প্রতিষ্ঠান থেকে বাইরে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন সামগ্রী বাইরে নেওয়ার সময় শনাক্ত হওয়ার কথাও একটি সূত্র দাবি করেছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে গেটপাস, স্টোর রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কিচেন ও স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ!

বিএফসিসির কিচেন ও স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পর্যাপ্ত স্টোরেজ সুবিধার অভাবে কাঁচামাল ও অন্যান্য সামগ্রী যথাযথভাবে সংরক্ষণে সমস্যা হচ্ছে। কিচেনের কর্মপরিবেশ এবং খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনাও আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী রয়েছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে কিচেন, কোল্ড স্টোরেজ, খাদ্য সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যবিধি ও কাঁচামাল ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি 

উঠেছে।

পুনঃনিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ:

মোহাম্মদ আলী নামের এক শেফকে পুনরায় বিএফসিসিতে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অতীতে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি ঠিকাদারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হয়েছিল এবং অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছিল।

তাকে পুনরায় নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে। তবে অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত করতে নিয়োগসংক্রান্ত ফাইল, তদন্ত প্রতিবেদন, অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

টার্মিনাল-৩ চালুর আগে প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন:

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বিমানবন্দরের কার্যক্রম ও ফ্লাইটসেবায় পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে ফ্লাইট ক্যাটারিংয়ের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ অবস্থায় বিএফসিসির কিচেন, স্টোরেজ, জনবল, সরঞ্জাম, খাদ্য প্রস্তুতি ও সরবরাহ সক্ষমতা পর্যাপ্ত কি না, তা আগেই মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না থাকলে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলাতে প্রতিষ্ঠানটি সমস্যায় পড়তে পারে।

প্রশাসনিক প্রভাব ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ:

বিএফসিসির অভ্যন্তরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মাধ্যমে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি আরিফুল ইসলাম সাধনের রাজনৈতিক ও পারিবারিক যোগাযোগ ব্যবহার করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

ইউএস-বাংলাকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ:

বিএফসিসির আশপাশের কিছু জায়গা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ক্যাটারিং কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার