কক্সবাজারে ‘ক্যামেরা পার্টি’র দাপট: পর্যটকদের পকেট কাটছে একদল অসাধু ফটোগ্রাফার। 

স্টাফ রিপোর্টার, স্বাধীন বাংলা নিউজ কক্সবাজার:

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণের একটি হলো সৈকতের সুন্দর মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দী করা। কিন্তু এই আবেগকেই পুঁজি করে পর্যটকদের পকেট কাটছে একদল অসাধু ফটোগ্রাফার, স্থানীয়ভাবে যারা ‘ক্যামেরা পার্টি’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট ও এর আশপাশের এলাকায় এমন একটি চক্রের তৎপরতা দেখা গেছে।

ঘটনার বিস্তারিত:

সরেজমিনে দেখা যায়, হাতে ক্যামেরা এবং গায়ে বিশেষ রঙের জ্যাকেট পরে একদল যুবক পর্যটকদের চারপাশে ওত পেতে থাকে। পর্যটকরা সৈকতে নামার সাথে সাথেই তারা ছবি তোলার জন্য জোরাজুরি শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রে মাত্র ৫ টাকা বা অল্প টাকায় ছবি তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুরু করলেও, পর্যটকের অজান্তেই তারা শত শত ছবি তুলে ফেলে।

ভুক্তভোগী পর্যটকদের অভিযোগ:

একজন পর্যটক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "তারা প্রথমে বলে ৫ টাকা প্রতি ছবি। এরপর পোজ দিতে দিতে কখন যে ৫০০-১০০০ ছবি তুলে ফেলে আমরা বুঝতেই পারি না। শেষে যখন টাকা চাইবে, তখন দেখা যায় হাজার হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দেয়। না দিলে তারা দলবদ্ধ হয়ে পর্যটকদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে এবং হেনস্তা করে।"

শকুনের মতো ওত পাতা দৃষ্টি:

ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, এই যুবকরা শকুনের মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পর্যটকদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। তারা সাধারণত সহজ-সরল পর্যটকদের টার্গেট করে এবং একবার জালে আটকাতে পারলে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। অনেক সময় ছবি ভালো না হলেও জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এদের বিরুদ্ধে।

 প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ:

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং জেলা প্রশাসন প্রতিনিয়ত পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং হয়রানি রোধে কাজ করলেও, এই ভ্রাম্যমাণ ফটোগ্রাফারদের দৌরাত্ম্য থামছে না। পর্যটকদের দাবি, সমুদ্র সৈকতে ফটোগ্রাফারদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন এবং নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা স্পষ্টভাবে প্রদর্শিত হওয়া উচিত।

পর্যটকদের জন্য পরামর্শ:

 * ছবি তোলার আগে অবশ্যই ফটোগ্রাফারের আইডি কার্ড দেখে নিন।

 * প্রতি ছবির দাম এবং কয়টি ছবি তোলা হবে তা আগেভাগেই নির্ধারণ করুন।

 * যেকোনো হয়রানিতে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সে অভিযোগ জানান।

কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পকে বাঁচাতে এই 'ক্যামেরা পার্টি'র দাপট এখনই বন্ধ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

© স্বাধীন বাংলা নিউজ