পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ায় ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে এই পৈশাচিক আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির নাম মোয়া আনসার আলী এবং তিনি উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের বাসিন্দা। গত শুক্রবার দুপুরে কাটাখালী গ্রামের একটি রাস্তায় তাকে আটকে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কাটাখালী গ্রামের সাবেক সেনাসদস্য ওসমান গনির সঙ্গে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবুল বাশারের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জেরে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং সেই মামলায় মো. আনসার আলীকে সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন বাদী ওসমান গনি। বর্তমানে মামলাটির বিচারকার্য শেষের দিকে রয়েছে এবং সাক্ষ্যগ্রহণও সম্পন্ন হয়েছে। মামলার বাদী অভিযোগ করেছেন যে, আবুল বাশার গোপনে তার ভাইয়ের কাছ থেকে একটি জমির দলিল করে নিয়েছিলেন এবং বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি আদালতে টাকা জমা দিয়ে মামলা করেন।

ভুক্তভোগী আনসার আলী জানান, মামলা চলাকালীন গত ২৫ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত আবুল বাশার তাকে আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি দেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। তবে সব হুমকি উপেক্ষা করে তিনি নিয়ম অনুযায়ী আদালতে সত্য কথা বলে সাক্ষ্য দেন। এর জেরে গত শুক্রবার দুপুরে কাটাখালী বাজারের নিকটবর্তী রাস্তায় তাকে একা পেয়ে আবুল বাশার ও তার জামাতা আশিক অতর্কিত হামলা চালান। মারধরের একপর্যায়ে তাকে প্রকাশ্যে বিবস্ত্র করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। পরে পরিবারের লোকজন ও স্বজনেরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

এদিকে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবুল বাশার তার বিরুদ্ধে ওঠা মারধর ও বিবস্ত্র করার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার দিন তিনি বাজারে বসে থাকা অবস্থায় আনসার আলী পেছন থেকে এসে তাকে ধাক্কা দেন এবং এর জের ধরেই কেবল তাদের মধ্যে সামান্য হাতাহাতি হয়েছে। তবে কাটাখালী ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মোড রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয়রা বলছেন, জমি সংক্রান্ত মামলার সাক্ষী হওয়ার কারণেই আনসার আলীর ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানিয়েছেন যে, এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে পুলিশ যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।