ওষুধের ফাঁদ: আপনি কি 'প্রেসক্রাইবিং ক্যাসকেড'-এর শিকার?

 অসুস্থ হলে আমরা ডাক্তারের কাছে যাই সুস্থ হওয়ার আশায়। কিন্তু কখনো কি খেয়াল করেছেন, একটি রোগের ওষুধ শুরু করার পর একে একে আরও নতুন নতুন শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে এবং ওষুধের সংখ্যাও বাড়ছে? চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় 'প্রেসক্রাইবিং ক্যাসকেড' (Prescribing Cascade) বা ওষুধের এক চক্রাকার ফাঁদ।

কিভাবে কাজ করে এই ওষুধের চক্র?

এই প্রক্রিয়ায় একটি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াকে (Side Effect) নতুন কোনো রোগ হিসেবে ভুল করা হয় এবং সেটি নিরাময়ের জন্য আরেকটি নতুন ওষুধ প্রেসক্রাইব করা হয়। উদাহরণস্বরূপ:

 ধাপ ১:জয়েন্টের ব্যথার জন্য আপনি হয়তো NSAID বা পেইনকিলার খেলেন।

 ধাপ ২:এই পেইনকিলার আপনার পাকস্থলীর আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যার ফলে শুরু হয় গ্যাস্ট্রিক বা পেটে ব্যথা। ডাক্তার তখন আপনাকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ হিসেবে PPI (Proton Pump Inhibitor)দিলেন।

 ধাপ ৩: দীর্ঘমেয়াদী গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ আপনার শরীরের ম্যাগনেসিয়াম শোষণ কমিয়ে দেয়, যা রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেসার বাড়িয়ে দিতে পারে। এর জন্য দেওয়া হয় উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ।

 ধাপ ৪:উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে শরীরে পানি জমতে পারে বা পা ফুলে যেতে পারে। এই পানি বের করার জন্য ডাক্তার তখন Diuretic বা মূত্রবর্ধক ওষুধ দেন।

 ধাপ ৫:ঘন ঘন প্রস্রাব বা ওভারঅ্যাক্টিভ ব্লাডারের সমস্যা সামলাতে যুক্ত হয় পঞ্চম আরেকটি ওষুধ।

এভাবেই একটি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঢাকতে গিয়ে আপনি হয়ে উঠতে পারেন একটি "জীবন্ত কেমিস্ট্রি ল্যাব"।

 সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন:

অপ্রয়োজনীয় ওষুধের এই চক্র থেকে বাঁচতে আমাদের কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি:

 1. ডাক্তারের সাথে কথা বলুন:নতুন কোনো সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারকে জানান যে আপনি বর্তমানে কী কী ওষুধ খাচ্ছেন।

 2. পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানুন:

যেকোনো ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে সেবনের আগে এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখুন।

 3. নিজের ওষুধের তালিকা পর্যবেক্ষণ করুন:

 আপনি যদি ৫-৭টির বেশি ওষুধ নিয়মিত সেবন করেন, তবে একবার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন যে এর মধ্যে কোনোটি অন্যটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেওয়া হয়েছে কি না।

নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন থাকাই সুস্থ থাকার প্রথম ধাপ। ওষুধের এই ফাঁদ সম্পর্কে নিজে জানুন এবং অন্যকেও সতর্ক করুন।