শিয়া মতাদর্শ ও ইসলাম: কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি পর্যালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা।

ইসলামি বিশ্বে শিয়া ও সুন্নি—এই দুই প্রধান ধারার অস্তিত্ব দীর্ঘকাল ধরে বিদ্যমান। শিয়ারা মুসলিম কি না, এই প্রশ্নটি প্রায়ই ধর্মতাত্ত্বিক আলোচনায় উঠে আসে। তবে মক্কার 'রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামি' এবং মিশরের 'আল-আজহার' বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের অধিকাংশ গ্রহণযোগ্য ফতোয়া বোর্ড ও আলেমদের মতে, শিয়ারা বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহর একটি অংশ, যদিও তাদের নির্দিষ্ট কিছু আকিদা বা বিশ্বাস নিয়ে মূলধারার (সুন্নি) আলেমদের সঙ্গে মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে।

কোরআনের মূলনীতির আলোকে বিশ্লেষণ

পবিত্র কোরআনের সুরা আল-হুজুরাতের ১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

"মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই।"

ইসলামের মৌলিক স্তম্ভগুলোর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করাই একজন ব্যক্তির মুসলিম হওয়ার প্রধান শর্ত। অধিকাংশ শিয়া সম্প্রদায় আল্লাহর একত্ববাদ (তৌহিদ), মুহাম্মাদ (সা.)-এর নবুয়ত এবং পরকালের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখে। যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ এই মৌলিক বিষয়গুলো এবং কোরআনকে আল্লাহর কিতাব হিসেবে স্বীকার করে, ততক্ষণ তাকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করা হয় না।

হাদিস ও ইজমার গুরুত্ব:

সুন্নি ও শিয়াদের মধ্যে প্রধান পার্থক্যের কেন্দ্রবিন্দু হলো 'খিলাফত' এবং 'ইমামত'। শিয়ারা বিশ্বাস করে, রাসুল (সা.)-এর পর হযরত আলী (রা.) এবং তাঁর বংশধরেরাই নেতৃত্বের প্রকৃত দাবিদার।

হাদিসের সংকলন এবং সাহাবায়ে কেরামদের মর্যাদার প্রশ্নেও দুই পক্ষের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। তবে হাদিসে জিবরাঈলে বর্ণিত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ (কালিমা, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত) শিয়ারাও পালন করে থাকে।

মতপার্থক্যের প্রধান দিকগুলো:

১. ইমামত: শিয়াদের মতে ইমামত নবুয়তের মতো একটি ঐশ্বরিক পদ।

২. সাহাবায়ে কেরাম: সুন্নিরা সকল সাহাবীকে সম্মান করেন, কিন্তু শিয়ারা কেবল নির্দিষ্ট কিছু সাহাবীকে অনুসরণ করেন।

৩. তাকিয়াহ ও অন্যান্য আকিদা: কিছু নির্দিষ্ট শিয়া উপদলের কিছু চরমপন্থী বিশ্বাস (যেমন: কোরআনের পূর্ণতা নিয়ে সন্দেহ বা সাহাবীদের গালাগাল করা) উম্মাহর অধিকাংশ আলেম দ্বারা প্রত্যাখ্যাত এবং এগুলো কুফরির শামিল হিসেবে গণ্য করা হয়।

উপসংহার:

সংক্ষেপে বলতে গেলে, যারা ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো (আরকান-এ-ইসলাম ও আরকান-এ-ঈমান) মেনে চলে, তারা মুসলিম হিসেবেই গণ্য। তবে শিয়াদের মধ্যে অনেকগুলো উপদল রয়েছে (যেমন: ইসমাইলি, জায়েদি, ইসনা আশারি)। এদের মধ্যে যাদের আকিদা সরাসরি কোরআনের স্পষ্ট আয়াত বা ইসলামের অকাট্য বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক নয়, তাদের অমুসলিম বলা হয় না। তবে আলেমদের মতে, সঠিক পথ হলো কোরআন ও রাসুল (সা.)-এর সহিহ সুন্নাহর পূর্ণ অনুসরণ।