মোঃ আরমান মিয়া ,সিনিয়র জার্নালিস্ট স্বাধীন বাংলা নিউজ:

বাংলাদেশে যে কোনো ছোট-বড় সমস্যা তৈরি হলেই সমাধান বা তদন্তের জন্য 'কমিটি' গঠন করা একটি পরিচিত রীতিতে পরিণত হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে নিচে একটি ব্যঙ্গাত্মক বা ফিচারধর্মী সংবাদের নমুনা দেওয়া হলো:

সমস্যা মানেই 'তদন্ত কমিটি': ৪, ৬ নাকি ৮ সদস্য?

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

দেশের যেকোনো প্রান্তে কোনো অঘটন বা সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রথম এবং প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে 'তদন্ত কমিটি' গঠন করা। সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন একটি কথা প্রচলিত হয়ে গেছে— "সমস্যা সমাধানে কাজ হোক বা না হোক, কমিটি গঠন মাস্ট!"

কমিটির 'ম্যাজিক' সংখ্যা

সাধারণত দেখা যায়, সমস্যার গভীরতা বুঝে সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। ছোটখাটো বিষয়ে ৪ সদস্য, মাঝারি মানের সংকটে ৬ সদস্য এবং বড় কোনো জাতীয় ইস্যুতে ৮ বা তার বেশি সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তবে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এই কমিটিগুলো কি আদেও সমস্যার সমাধান আনে, নাকি ফাইলবন্দি হয়ে সময়ক্ষেপণ করে?

সাধারণ মানুষের পর্যবেক্ষণ

রাজধানীর এক সচেতন নাগরিক বলেন, "রাস্তায় একটা গর্ত হলেও এখন মনে হয় চার সদস্যের কমিটি হবে। তারা তিন মাস ধরে গর্তের গভীরতা মাপবেন, তারপর রিপোর্ট দেবেন যে— হ্যাঁ, ওখানে আসলেই একটা গর্ত আছে!"

কমিটির কার্যক্রম যেভাবে চলে:

 * পরিদর্শন: কমিটির সদস্যরা ঘটা করে অকুস্থল পরিদর্শন করেন।

 * সময় বৃদ্ধি: নির্ধারিত সময়ে রিপোর্ট দিতে না পেরে বারবার সময় বাড়িয়ে নেওয়া।

 * সুপারিশ: অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমন সব সুপারিশ করা হয় যা বাস্তবায়ন করা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে যায়।

> বিশেষজ্ঞের অভিমত:

> অনেক সময় জবাবদিহিতা এড়াতে বা জনরোষ শান্ত করতে তড়িঘড়ি করে ৪, ৬ বা ৮ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে এই কমিটি ব্যবস্থা কেবলই একটি প্রথা হিসেবে থেকে যাবে।