গভীর সংকটে সাধারণ মানুষ; বেকারত্ব ও আকাশছোঁয়া খরচে দিশেহারা বাংলাদেশ:

মোহাম্মদ আরমান মিয়া সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামি স্বাধীন বাংলা নিউজ:

 বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান আজ সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেকেছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে হিমশিম খাচ্ছে।

১. বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক স্থবিরতা

দেশের শিক্ষিত যুবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে হতাশা চরমে। পড়াশোনা শেষ করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী চাকরির সন্ধানে ঘুরলেও কর্মসংস্থানের কোনো সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। শুধু অবিবাহিত তরুণরাই নয়, বিবাহিত ব্যক্তিরাও পরিবারের ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। আয়ের উৎস না থাকায় অনেকের পক্ষেই এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বিলের বোঝা

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে প্রতিটি জিনিসের দাম প্রতিদিন বাড়ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির চড়া বিল। সাধারণ আয় দিয়ে মাসিক খরচ মেটানো এখন একটি অলীক স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

৩. রাজনীতি ও ‘চাঁদাবাজি’র সংস্কৃতি

চাকরি বা আয়ের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় দেশের যুবসমাজের একটি বড় অংশ রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। কিন্তু এই রাজনীতি জনসেবার পরিবর্তে হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘চাঁদাবাজি’ বা জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের মাধ্যম। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে, যাকে সাধারণ মানুষ ‘চাঁদাবাজির রাজনীতি’ বলে আখ্যা দিচ্ছে। কর্মসংস্থানের অভাবই যুবকদের এই অন্ধকার পথে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

৪. ব্যয়বহুল শিক্ষা ব্যবস্থা: সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা

শিক্ষার ব্যয় সাধারণ মানুষের জন্য এখন সবচেয়ে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষাও এখন অত্যন্ত ব্যয়বহুল। খাতা-কলম থেকে শুরু করে টিউশন ফি এবং আনুষঙ্গিক খরচ এতই বেড়েছে যে, দরিদ্র বাবা-মায়ের পক্ষে সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে। কোচিং সেন্টার এবং গাইড বইয়ের দৌরাত্ম্যে শিক্ষা এখন একটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ মতামত:

অর্থনীতিবিদদের মতে, দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সামাজিক এই অস্থিরতা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে আগে তরুণদের জন্য উৎপাদনশীল কাজের ব্যবস্থা করা জরুরি।               

#দেশকোনপথে #জনজীবন_বিপর্যস্ত #বাজারসিন্ডিকেট #রাজনৈতিক_অস্থিরতা #সাধারণ_মানুষের_আর্তনাদ #দুর্নীতিমুক্ত_বাংলাদেশ #SaveBangladesh #BangladeshCrisis