নিজস্ব প্রতিবেদক | এস.এম আব্দুর রাজ্জাক :

তিনি হয়তো রূপকথার সেই 'দাতা হাতেম তাই' নন, কিন্তু তাঁর হৃদয়টা সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের ভালোবাসায় কানায় কানায় পূর্ণ। তিনি ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান এবং 'পরিবার ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এর চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ তালুকদার সবুজ।

টানা ১৭টি বছর ধরে তিনি নীরবে-নিভৃতে এলাকার গরিব-দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর কাজ করে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ধনবাড়ীতে এবারও ৩ হাজার হতদরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ঈদ উপহার ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন তিনি।

মানবিকতার ১৭ বছরের পথচলা: অঢেল সম্পদের মালিক না হয়েও শুধু মানুষের প্রতি প্রবল ভালোবাসার টানে আব্দুল ওয়াদুদ তালুকদার সবুজ গত ১৭ বছর ধরে দুটি ঈদ ও পবিত্র রমজান মাসে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। রমজানে গ্রামের সাধারণ মানুষকে ইফতার করানো এবং তাদের বাড়িতে সসম্মানে তবারক পাঠানোর যে রেওয়াজ তিনি তৈরি করেছেন, তা আজ ধনবাড়ীর মানুষের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। অনেকেই মনে করেন, সমাজসেবাকে তিনি নিজের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছেন।

ঈদ উপহার বিতরণ ও আয়োজন: পরিবার ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এর নিজস্ব অর্থায়নে এবং উদ্যোগে এই বিশাল উপহার বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সুশৃঙ্খলভাবে ৩ হাজার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় ঈদের আনন্দ। প্রতিটি উপহারের প্যাকেটে ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।

উপহার সামগ্রীর তালিকায় ছিল:

  • ২ কেজি সেমাই

  • ১ কেজি পেঁয়াজ

  • ১ কেজি আলু

  • আধা কেজি ভোজ্যতেল

  • আধা কেজি চিনিসহ অন্যান্য সামগ্রী।

প্রধান অতিথির বক্তব্য ও প্রত্যয়: উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আব্দুল ওয়াদুদ তালুকদার সবুজ নিজেই মানুষের হাতে এসব সামগ্রী তুলে দেন। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন:

“পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও আমরা ৩ হাজার পরিবারের মাঝে এই ক্ষুদ্র উপহার তুলে দিচ্ছি। আমার একটাই লক্ষ্য— সমাজের ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষ যেন ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে শান্তিতে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, মহান আল্লাহ যেন আমাকে সুস্থ রাখেন এবং প্রতিবছর এভাবেই আমি আপনাদের পাশে থেকে গরিব-দুঃখী মানুষের সেবা করে যেতে পারি। ইনশাআল্লাহ, আজীবন এই সেবার হাত প্রসারিত থাকবে।”

এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া: দীর্ঘ সময় ধরে বিনা স্বার্থে এমন মহতী উদ্যোগ চালু রাখায় এলাকার সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়রা জানান, আব্দুল ওয়াদুদ সবুজের মতো এমন সাদা মনের মানুষ সমাজে আরও বেশি প্রয়োজন। তাঁর এই ধারাবাহিক বদান্যতা সমাজের অন্যান্য বিত্তবানদের জন্যও এক বড় অনুপ্রেরণা।