নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ভালোভাবে চলছে। ২০২৫ সালের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর এটিই প্রথম নির্বাচন। 

 

ভোটারদের কোনো ‘ভয় ছাড়াই’ ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

 

কাঠমান্ডু থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

 

৩ কোটি মানুষের এই হিমালয় রাষ্ট্রে আগামী ৫ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দুর্নীতিবিরোধী ছাত্র-জনতার যে আন্দোলনে গত সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল, তার ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই এই ভোট হতে যাচ্ছে। সেই সহিংসতায় অন্তত ৭৭ জন প্রাণ হারান এবং পার্লামেন্ট ভবন আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

মঙ্গলবার রাতে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নির্ভীক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকার সম্ভাব্য সবকিছু করবে।’

 

পাশাপাশি, তিনি সব নাগরিককে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এবং নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান।

 

২০০৬ সালে এক দশকব্যাপী গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সর্বশেষ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের এই সহিংসতা ছিল দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ। ওই গৃহযুদ্ধের মাধ্যমেই নেপালে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং মাওবাদী বিদ্রোহীরা মূলধারার রাজনীতিতে যোগ দেয়। 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সাময়িক বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হলেও মূলত অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং বয়োবৃদ্ধ রাজনীতিকদের ওপর পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে এই গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল।

 

এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটার প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ, যার মধ্যে ৮ লাখই প্রথমবার ভোট দেবেন। ২৭৫ আসনের প্রতিনিধি সভার (নিম্নকক্ষ) নির্বাচনে ১৬৫ জন সরাসরি ভোটে এবং ১১০ জন সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন।

 

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা সুমন ঘিমিরে এএফপি’কে জানান, তারা এখন ‘নির্বাচনী প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে’ রয়েছেন। 

 

তিনি আরও জানান, প্রতিবেশী চীন ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ এই নির্বাচনে সহযোগিতা করছে।