নিজস্ব প্রতিবেদক 

সময়ের সাথে প্রতিদিন 

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সাবেক সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা সৈয়দ আবজুরুল হকের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে ৬৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছে দুদক। দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন বাদী হয়ে সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুদকের রাজশাহী সমন্বিত কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন।মামলার বিবরণে বলা হয়, সিআরবি চট্টগ্রামের অধীনে প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী (পূর্ব) দপ্তরে কর্মরত থাকাকালে সৈয়দ আবজুরুল হক খালাসি পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আটজন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে মোট ৬৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন।দুদকের নথি অনুযায়ী, ২০১৩ ও ২০১৫ সালে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ৮৬৫টি খালাসি পদের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেই বিজ্ঞপ্তিকে পুঁজি করে অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিয়োগ নিশ্চিত করার কথা বলে অর্থ নেন। অভিযোগকারী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ ওয়েলফেয়ার কর্মকর্তা ওয়ালি খান এসএ পরিবহন রাজশাহী শাখার মাধ্যমে এই অর্থ পাঠান।আবজুরুল হক বর্তমানে অবসর পূর্বকালীন ছুটিতে আছেন। তার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার খুলশী থানার উত্তর পাহাড়তলী এলাকায়।তার বাবার নাম সৈয়দ আব্দুল ওয়াহেদ।তার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ করেন রাজশাহী নগরীর সাগরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের কর্মচারী মো. ওয়ালী খান। তিনি ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগ করেছিলেন। আদালত ২০২৩ সালের ৮ মে মামলাটি দুদকে অনুসন্ধানের জন্য পাঠায়।দুদক অনুসন্ধান শেষে সোমবার মামলাটি দায়ের করে।  মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আবজুরুল হক রেলওয়ের ‘খালাসী’ পদে নিয়োগ প্রত্যাশী ৮ জন প্রার্থীকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ওয়ালী খানের কাছ থেকে ৬৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। প্রথম দফায় এসএ পরিবহনের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা ও দ্বিতীয় দফায় ৩৫ লাখ টাকা নগদ নিয়েছেন। দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ অনুসন্ধানকালে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৫ সালের ১১ মে রেলওয়ের ৮৬৫টি খালাসী পদের জন্য সার্কুলার দেওয়া হয়।আসামি সৈয়দ আবজুরুল হক ওই পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে অসাধু উপায়ে ৮ জন চাকরি প্রত্যাশির কাছ থেকে ওই পরিমাণ টাকা নিয়েছেন। তিনি তার নিজ নামে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে এস.এ পরিবহনের কাজিরদেউরী/কর্নেলহাট, চট্টগ্রাম শাখা থেকে ৩০ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন। এই টাকা ওয়ালী খানের দুটি ফোন নম্বর থেকে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র অনুযায়ী টাকা পাঠানো এবং গ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়ে সত্যতা পেয়েছে দুদক। তারা টাকা গ্রহণকারী মোবাইল ফোনের মালিকানাও যাচাই করেছে দুদক।তারা নিশ্চিত হয়েছে যে, নির্ধারিত ফোনের সিমের মালিক আসামি সৈয়দ আবজুরুল হক। এছাড়া আসামি সৈয়দ আবজুরুল হকের মোবাইল ফোন নম্বর এবং ওয়ালী খানের দুটি নম্বরের মধ্যে অসংখ্যবার বিভিন্ন মেয়াদে যোগাযোগ বা কথোপকথন হয়েছে।এছাড়া ২০১৯ সালের ৭ জুলাই নোটারি করা অঙ্গীকারনামা আসামি সৈয়দ আবজুরুল হক টাকা গ্রহণ ও ফেরত প্রদানের অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন। পরে ২০২১ সালের ২৪ মার্চ স্বেচ্ছায় একই স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। ২০২২ সালের ২৯ মার্চ আবারও নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ঘোষণাপত্র ও অঙ্গীকার করেন।সহকারী পরিচালক মো. আমির হোসাইন জানান, এতে আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ১৬২/৪২০ ধারা তৎসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(১)বি ধারায় বর্ণিত অপরাধমূলক অসদাচরণ করার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়, যা আইনের ৫(২) ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ।সংবাদকর্মীদের সাথে নিয়ে সময়ের সাথে প্রতিদিন এর অনুসন্ধান টিম মনে করেন দুদক তদন্তকালীন সময় সময়ের সাথে প্রতিদিন এর টিমকে যদি সহযোগী হিসেবে পাশে রাখে তাহলে রাষ্ট্রীয় আইন পালনে অনেক সুবিধা হবে। কারণ সময়ের সাথে প্রতিদিন টিভির অনুসন্ধান টিমের কাছে এ সমস্ত জঘন্য অপরাধের অনেক তথ্য উপাত্ত বেড়িয়ে আসবে।