নিজস্ব প্রতিবেদক 

সময়ের সাথে প্রতিদিন 

 

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা আনসার রোড নতুন বাজার সংলগ্ন মাঝি বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড দেখা দেয়। আনুমানিক সময় ১১:১০ তাৎক্ষণিক সার্ভিস কল করলে একটি ইউনিট গঠনস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য দীর্ঘ ১:৩০ মিনিট চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে যেসব দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার মধ্যে ছিল গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান মনোহারী দোকান এবং কাপড়ের দোকান। ক্ষতিগ্রস্তের আনুমানিক বাজার মূল্য দাঁড়ায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা।

যেখানে উল্লেখ আছে বিস্ফোরক পরিদপ্তর কতৃক বিস্ফোরক লাইসেন্স সংগ্রহ না করে জনবহুল এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণ ও বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ ।

সরকারি সংবিধানকে অন্য করে আমরা এসব রাষ্ট্র বিরোধী কাজ আমরা অবাধে করে যাচ্ছি। এলপিজি হলো লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাসের সংক্ষিপ্ত রূপ। এলপিজিকে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তরল আকারে সিলিন্ডারে সংরক্ষণ করা হয়। পরে সেটি বাজারজাত করা হয়, যা রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়। গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও মজুদ করতে ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স, বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়ার বিধান রয়েছে। তবে শ্রীপুরে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। ফার্মেসি, মুদি, স্টেশনারি এমনকি ফ্লেক্সিলোডের দোকানেও বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

উপজেলার বাজারগুলোয় দেখা গেছে, অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার। দোকানের সামনে রাখা হয়েছে এসব সিলিন্ডার। চায়ের দোকান, সার-কীটনাশক, টেইলার্সেও বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। এছাড়া পাশাপাশি একই দোকানে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সিলিন্ডার। ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যবসার ধরন নির্দিষ্ট করে ট্রেড লাইসেন্স করতে হয়। সেটিও মানা হচ্ছে না জ্বালানি বিক্রির ক্ষেত্রে।

২০০৪ সালের এলপিজি মজুদ সংরক্ষণ আইনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরক লাইসেন্স ব্যতীত কেউ এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করতে পারবে না। গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করার স্থান সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সেখানে কোনো প্রকার আগুন বা বৈদ্যুতিক সংস্পর্শ যেন না থাকে,সিলিন্ডার রোদে না রেখে ঠাণ্ডা স্থানে রাখতে হবে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

লাইসেন্স ছাড়া কোন দোকানে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করা যাবে না। ২০০৩ সালের দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি যদি লাইসেন্স না নিয়ে বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবসা করে তবে তার তিন বছরের কারাদণ্ড ও অতিরিক্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। প্রয়োজনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সমস্ত মালামাল বাজেয়াপ্ত করা যাবে। কিন্তু এই আইন কেউ মানছেন না।