ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সংকট মোকাবিলায় দেশে স্থিতিশীলতা ফেরানোর আহ্বান জ্বালানিমন্ত্রীর মোঃ শামসুল আলম লিটন সহ সম্পাদক: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, অর্থনীতির গতিশীলতা বজায় রাখতে সড়ক অবরোধ ও মব সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ড বন্ধ করা জরুরি। অন্যথায় বাংলাদেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে পারে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের টিটু মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সম্মিলিত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর কয়েকজন ছাত্রনেতার সরকারে যোগদান এবং নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনেক আহত জুলাই যোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করা হয়নি। এর ফলে অনেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাদ পড়া জুলাই যোদ্ধাদের গেজেটভুক্ত করার জন্য পুনরায় আবেদনের সুযোগ দেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধার রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এ সময় নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়া এবং যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তাঁরা।