জন্মগতভাবে ঠোঁট ও তালু কাটা শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা স্মাইল ট্রেন আমেরিকার সহায়তায় এবং নিউ লাইফ হসপিটাল ক্লেফট প্রজেক্ট ও চাইল্ড হেলথ অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে বিশ্ব হাসি দিবস উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সঠিক চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই শিশুদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে বলে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, সমাজের অবহেলিত এই শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো কেবল চিকিৎসাগত বিষয় নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্ব। উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা দেশের প্রতিটি প্রান্তে বসবাসকারী মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি। একটি শিশুর মুখের অমলিন হাসি কেবল তার পরিবারে নয়, পুরো সমাজেই আনন্দ বয়ে আনে। তাই একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ জাতি গঠনে শিশুদের সুস্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্বাস্থ্যখাতে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জানান যে, আধুনিক চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য ও দ্রুত করতে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে টেলিমেডিসিন সেবা, স্বাস্থ্যভিত্তিক বিভিন্ন ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন এবং আধুনিক প্ল্যাটফর্মের কল্যাণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। প্রযুক্তির এই সুফল দেশের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে দিয়ে স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বজনীন করার লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান প্রশাসন এগিয়ে চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরাও জন্মগত ত্রুটি দূর করতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিনা মূল্যে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন। হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। চাইল্ড হেলথ অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাহী প্রধান অধ্যাপক ডা. বিজয় কৃষ্ণ দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের শেষ পর্বে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠা শিশু এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে শুভেচ্ছা উপহার বিতরণ করা হয়।