বিশ্বজুড়ে মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেছে হৃদ্‌রোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন। সংস্থাটির প্রকাশ করা মৃত্যুর শীর্ষ দশটি কারণের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে হৃদ্‌রোগজনিত জটিলতা। বিগত কয়েক দশক ধরে এই ঘাতক ব্যাধিটির প্রকোপ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর একটি বড় অংশ ঘটে নির্দিষ্ট কিছু জটিল ও মারাত্মক রোগের কারণে। প্রকাশিত ওই তালিকায় হৃদ্‌রোগ ছাড়াও স্ট্রোক, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ, ডায়াবেটিস এবং ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগগুলো স্থান পেয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা করোনা মহামারি সম্প্রতি এই শীর্ষ দশের তালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ পড়েছে। মহামারির প্রভাব কমে আসার পর এবার গতানুগতিক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও রোগগুলোই মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে সামনে চলে এসেছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৈশ্বিক মৃত্যুর বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে অসংক্রামক ব্যাধিগুলো। হৃদ্‌রোগ একাই বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর উল্লেখযোগ্য শতাংশের জন্য দায়ী, যার সংখ্যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া স্ট্রোক এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগগুলোও লাখ লাখ মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। সংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে নিম্ন শ্বাসনালির সংক্রমণ এখনও অত্যন্ত মারাত্মক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পাশাপাশি আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার মতো স্নায়বিক রোগগুলোর কারণে মৃত্যুর হারও বিশ্বজুড়ে লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে মৃত্যুর কারণগুলোতে বড় ধরনের তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এখনও সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ বেশি থাকলেও, ধনী দেশগুলোতে অসংক্রামক রোগই মৃত্যুর মূল কারণ। মানুষের জীবনযাত্রার মান, বয়স বৃদ্ধি এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই মৃত্যুর কারণগুলোতেও পরিবর্তন আসছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলো নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে পারলে সরকারের নীতিনির্ধারকরা যথাযথ স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং সঠিক বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবেন।