মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের ভাঙ্গাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আলী হোসেন দীর্ঘ তিন মাস ধরে তাঁর স্ত্রী আলেয়া বেগমকে হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন। প্রতিদিন ঘরের দরজা খুললেই স্ত্রীর চেনা মুখটির প্রতীক্ষায় থাকতেন তিনি, কিন্তু কোথাও তাঁর কোনো সন্ধান মিলছিল না। আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডসহ সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও যখন কোনো হদিস মিলছিল না, তখন পরিবারে নেমে এসেছিল গভীর হতাশা ও উৎকণ্ঠা। মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় আলেয়া বেগম নিজের নাম কিংবা বাড়ির ঠিকানা সঠিকভাবে বলতে পারতেন না, যা পরিবারের জন্য সন্ধান প্রক্রিয়াকে আরও দুরূহ করে তুলেছিল।

পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করা ছাড়াও নানাভাবে চেষ্টা চালিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো সূত্রই মিলছিল না। ঠিক সেই মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও বদলে দেয় এই দীর্ঘ অনিশ্চয়তার চিত্র। সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় রাস্তার পাশে অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় বসে থাকা এক নারীর ভিডিও ধারণ করেন স্থানীয় ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর রবিউল হক। ‘ভয়েস অব রবিউল ভাই’ নামের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত সেই ভিডিওটি একসময় আলী হোসেনের পরিবারের চোখের সামনে আসে এবং ভিডিওর নারীটিকে দেখেই নিজের স্ত্রী হিসেবে শনাক্ত করেন তিনি।

ভিডিওর সূত্র ধরে আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত গোবিন্দল এলাকায় ছুটে যান আলী হোসেন। সেখানে গিয়ে রাস্তার পাশে নিজের স্ত্রীকে অক্ষত অবস্থায় সামনে পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। দীর্ঘ তিন মাসের বিচ্ছেদ ও নিখোঁজ থাকার পর স্ত্রীকে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন আলী হোসেন। সৌভাগ্যবশত, দীর্ঘদিন পর হলেও স্বামীকে দেখেই চিনতে পেরেছিলেন আলেয়া বেগম, যা সেখানে উপস্থিত স্থানীয় লোকজনকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।

প্রিয় মানুষকে কাছে পাওয়ার পর বর্তমানে আলী হোসেনের বাড়িতে ফিরেছে পরম স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ। প্রতিবেশীরাও দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফিরে আসা আলেয়াকে দেখতে ভিড় করছেন এবং পরিবারের সদস্যরা তাঁর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষ যত্ন নিচ্ছেন। এদিকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রবিউল হক জানান, অসহায় মানুষটিকে দেখে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার তাগিদ থেকেই তিনি ভিডিওটি করেছিলেন, আর শেষ পর্যন্ত সফলভাবে স্বামী স্ত্রীর মিলন ঘটতে দেখে তিনিও অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগপ্রবণ হয়েছেন।