ঢাকাগামী বাসে যাতায়াতের সময় হঠাৎ প্রসববেদনা শুরু হলে চলন্ত যাত্রীবাহী বাসেই এক কন্যাসন্তান জন্ম দেন এক পোশাকশ্রমিক। চিকিৎসকের দেওয়া সম্ভাব্য সময়ের আগেই এই প্রসব বেদনা শুরু হওয়ায় যাত্রাপথেই এক অভিনব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বাসটির চালক ও অন্যান্য যাত্রীদের তাৎক্ষণিক সহযোগিতায় মা ও নবজাতক দুজনই নিরাপদে থাকেন। পরবর্তীতে এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই বাস কর্তৃপক্ষ নবজাতক ও তাঁর মায়ের আজীবন যাতায়াত সম্পূর্ণ অবৈতনিক ঘোষণা করে।

ঘটনাটি ঘটে কিছুদিন আগে রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায়, যখন ঢাকা থেকে বুড়িমারীগামী আনাস এন্টারপ্রাইজের একটি বাস গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিল। পোশাকশ্রমিক আবিদা বেগম মাতৃত্বকালীন ছুটি পেয়ে নিজের প্রথম সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং প্রসববেদনা তীব্র আকার ধারণ করে। বাসের সুপারভাইজার ও চালক পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত বাস থামান এবং পুরুষ যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেন। এরপর বাসে উপস্থিত অন্যান্য নারী যাত্রীদের সহায়তায় চলন্ত বাসেই এক পুত্রসন্তান প্রসব করেন ওই নারী।

সন্তান প্রসবের পর পুরো বাসের পরিবেশ আনন্দে মেতে ওঠে এবং সুপারভাইজার তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রীদের মিষ্টিমুখ করান। বাসের নামের সঙ্গে মিলিয়ে পরিবারের সদস্যরা নবজাতকের নাম রাখেন আনাস হাসান। খবরটি জানার পর বাস মালিকপক্ষ অত্যন্ত আনন্দিত হয় এবং ওই মা ও নবজাতকের প্রতি সম্মান জানিয়ে আজীবন বাসভাড়া ফ্রি করার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি সম্প্রতি বাস কর্তৃপক্ষের একটি প্রতিনিধিদল নবজাতকের বাড়িতে উপহারসামগ্রী নিয়ে উপস্থিত হন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পরিবারের সদস্যরা জানান, মা ও নবজাতক দুজনেই বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। নির্ধারিত সময়ের আগে এমন একটি আকস্মিক ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ইতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বাস কর্তৃপক্ষের এমন মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।