উপাচার্য পদে রদবদলের ঘটনায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নবম দিনের মতো পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ও শাটডাউন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে শিক্ষার্থীরা চোখে কালো কাপড় বেঁধে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় তারা সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় স্বপদে বহাল করার দাবি জানান এবং চলমান সংকটের সুরাহায় সরকারের উদাসীন ভূমিকার তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশ করেন। মূলত উপাচার্য পরিবর্তন ও নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এই বিদ্যাপীঠে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হলেও এর নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক নানা সমীকরণ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং স্থানীয় এক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৃষ্ট মতপার্থক্যই এই বড় ধরনের অচলাবস্থার মূল কারণ।

চলতি বছরের জুলাই মাসে চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে চার বছরের জন্য উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল সরকার। গুঞ্জন রয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সমর্থন এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের এক মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তবে স্থানীয় একজন প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি ভালোভাবে নেননি, কারণ চুয়েট ক্যাম্পাসের ছাত্ররাজনীতি ওই প্রতিমন্ত্রীর একক নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই সাবেক উপাচার্য সায়েমের ওপর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হতে থাকে। এর মধ্যেই একটি অনুষ্ঠানে সরকারের অন্য এক মন্ত্রীকে প্রধান অতিথি করায় ওই প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং তার অনুসারী ছাত্রদল নেতারা ভিসির ওপর নানামুখী চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সাবেক উপাচার্য সায়েম ওই প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন এবং শেষ পর্যন্ত তার বাবার শরণাপন্ন হন, যা পরবর্তীতে উল্টো ফল বয়ে আনে। এরই জেরে গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ দাবি করেছেন যে আগের উপাচার্য শিক্ষার্থীবান্ধব ছিলেন না এবং তার সময়ে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অভিযোগ তুলে ছাত্রদল নেতারা দাবি করছেন যে এই আন্দোলনের পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক মহলের ইন্ধন রয়েছে।

এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও নিয়মিত কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেই তারা বাধ্য হয়ে চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। অন্যদিকে, চুয়েটের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম দাবি করেছেন যে সরকার সংকট নিরসনে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তবে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের একাংশের অসহযোগিতার কারণে তা বাস্তবায়নে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে খুব দ্রুত সকল ভুল বোঝাবুঝি ও সমস্যার অবসান ঘটিয়ে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।