টাংগাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নে দুই চৌকিদারের (গ্রাম পুলিশ) বিরুদ্ধে সরকারি ভাতার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত দুই ভাই-বোন একই সাথে ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত থাকার সুবাদে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এই বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও হয়রানিতে বর্তমানে চরম অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন হাজরাবাড়ীসহ আশেপাশের গ্রামের সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা হলেন ধোপাখালী ইউনিয়নের হাজরাবাড়ী গ্রামের শ্রী নেপালের মেয়ে ঝরনা এবং ছেলে শ্রী সোহাগ। সম্পর্কে তারা ভাই-বোন এবং দুজনেই ওই ইউনিয়নে চৌকিদার হিসেবে কর্মরত। ইউনিয়ন পরিষদে দুজনের একযোগে কাজ করার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা গ্রামের সহজ-সরল ও হতদরিদ্র মানুষদের টার্গেট করে থাকেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী আক্ষেপের সাথে জানান, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সরকারের দেওয়া নানা ধরনের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা কার্ড করে দেওয়ার নাম করে এই দুই চৌকিদার বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। সরকারি সহায়তার আশায় অনেক দরিদ্র মানুষ ধারদেনা করে তাদের হাতে টাকা তুলে দিলেও মাসের পর মাস তারা কোনো ভাতা পাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, টাকা নেওয়ার পর কাজ না হওয়ায় পাওনা টাকা ফেরত চাইলে উল্টো ইউনিয়ন পরিষদের ভয় দেখিয়ে তাদের হয়রানি ও হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। দুই ভাই-বোন একসাথে থাকায় ভয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেও সাহস পান না।
দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের অধিকার নিয়ে এমন প্রতারণায় মধুপুর-ধনবাড়ী এলাকার সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের জনকল্যাণমুখী ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী এই দুই চৌকিদারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
ভুক্তভোগী গ্রামবাসী ও স্থানীয় সমাজসেবকরা ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসন (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের বিনীত আহ্বান— অতিদ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত ঝরনা ও সোহাগের এই দুর্নীতি খতিয়ে দেখা হোক এবং দ্রুত কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষ তাদের প্রাপ্য সরকারি অধিকার ফিরে পান এবং হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পান।