ডিজাইন: ইমেজ বন্ধ
সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

কিডনি রোগীদের জন্য জেলা-উপজেলায় চালু হচ্ছে ডায়ালাইসিস সেবা


অনলাইন ডেস্ক,
#স্মার্টফোন গ্যাজেট  #দৈনিক পত্রিকা পড়ুন  #মতামত কলাম #শিক্ষা বিষয়ক #ট্রাভেল গাইড পড়ুন  #টেলিকম খবর
#ইতিহাসের বই পড়ুন

দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় এ সেবা চালুর লক্ষ্যে ৫ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে তিন মাসের ডায়ালাইসিস বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট—দুই ক্যাটাগরিতে ২ হাজার ৫০০টি নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা জানান, ইতোমধ্যে ১২০ জনকে নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ৯০ জন, পাবনায় ২০ জন এবং রাজশাহীতে ১০ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। শিগগিরই সিলেটসহ আরও কয়েকটি এলাকায় ব্যাপকভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।

 
 

তিনি বলেন, সারা দেশের কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও নার্স নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।

ইতোমধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আওতায় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশ নিতে আবেদনকারীকে সরকারি চাকরিতে ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ করতে হবে এবং বয়স সর্বোচ্চ ৪০ বছর হতে হবে।

গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সমন্বয় সেলের উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে সভার কার্যবিবরণী পাঠানো হয়।

এর আগে ২০ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের প্রতিটি জেলায় ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন। তবে ডায়ালাইসিস সেবা মূলত ঢাকা ও বড় শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রান্তিক এলাকার অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন।

বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে। এর ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই ঢাকায়। ফলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এ সেবা এখনো অপ্রতুল।

নথি অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের ডায়ালাইসিস কেন্দ্রগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়ে এ সুবিধা সম্প্রসারণে কর্মপরিকল্পনা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

১২ আগস্টের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আড়াই হাজার নার্সসহ মোট ৫ হাজার প্রশিক্ষণার্থীকে ডায়ালাইসিস বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতি ব্যাচে থাকবেন ৫০ থেকে ১০০ জন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) এবং ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে।

এ ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসকের সংকট দূর করতে প্রবেশনারি চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনো উপজেলায় উপযুক্ত চিকিৎসক পাওয়া না গেলে পাশের উপজেলা বা জেলা থেকে চিকিৎসক পদায়ন করা হবে।

সভায় আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক ও কনসালট্যান্টদের স্বয়ংক্রিয় পদায়ন নিশ্চিত করা এবং এক মাসের মধ্যে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্প একনেকে উপস্থাপনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মিরপুরে মেডিকেল কলেজের পরিবর্তে ৬০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।