ডিজাইন: ইমেজ বন্ধ
বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

মধুপুরে সরকারি স্কুলের প্রচলিত ধারণা বদলে দিলেন শিক্ষক আমির হোসেন: পরিচ্ছন্নতা ও নিবেদিত প্রাণ শিক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মানেই অগোছালো, নোংরা বা অব্যবস্থাপনায় ভরা—সমাজমানসে গড়ে ওঠা এমন একঘেয়ে ও নেতিবাচক ভাবমূর্তি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে কুড়ালিয়া বড়বাড়ি এলাকার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষকের আন্তরিকতা, সততা এবং দায়িত্ববোধের কারণে বিদ্যালয়টি এখন অন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি উজ্জ্বল অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায় এক ব্যতিক্রমী চিত্র। ভেতরে প্রবেশ করতেই নজরে পড়ে সুশৃঙ্খল ও ঝকঝকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আমির হোসেন অত্যন্ত পরম মমতায় ৬ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে আলাদা ক্লাসে ব্যস্ত। সরকারি ছুটির আমেজ বা বাঁধাধরা সময়ের বাইরে গিয়ে অফিস কক্ষে আলাদা ক্লাস নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে সদা হাস্যোজ্জ্বল এই শিক্ষক অত্যন্ত সপ্রতিভ কণ্ঠে জানান, "শিক্ষার্থীদের আসন্ন বৃত্তি পরীক্ষার জন্য বাড়তি প্রস্তুতি নিতেই এই বিশেষ উদ্যোগ।"

বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতায় যেকোনো দর্শনার্থী মুগ্ধ হতে বাধ্য। অথচ বিস্ময়কর তথ্য হলো, এই বিদ্যালয়ে কোনো নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই। শিক্ষক আমির হোসেন নিজেই বিদ্যালয়ের শৌচাগার ও আঙিনা নিজ হাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন। শুধুমাত্র দায়িত্ব পালন নয়, বিদ্যালয়কে নিজের ভালোবাসার জায়গা মনে করে প্রতিদিন বিকাল সাড় ৪টার আগে তিনি কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষককে ছুটি দেন না।

অফিসিয়াল পদের অহংকার ভুলে নিজেই যেখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ভূমিকা নিচ্ছেন এবং শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য অতিরিক্ত সময় দিচ্ছেন, সেখানে শিক্ষকতার প্রকৃত মহত্ত্বই ফুটে উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, মোঃ আমির হোসেন স্যারের মতো আন্তরিক ও সৎ ব্যক্তিত্ব প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকলে দেশের সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র এক আমূল পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাবে।