ডিজাইন: ইমেজ চালু
শুক্রবার ২১ আগস্ট ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

অপপ্রচার-ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে উত্তাল চট্টগ্রাম, আয়ান শর্মার পাশে সাংবাদিক-জনতা


 

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
ভাদ্রের তপ্ত দুপুর। জুমার নামাজের আগে চট্টগ্রামের চেরাগি পাহাড় মোড় ছিল অনেকটাই ফাঁকা। তবে নামাজ শেষে বদলে যায় পুরো চিত্র। দলে দলে মানুষ জড়ো হতে থাকেন চেরাগি পাহাড়ের গোলচত্বরে। তীব্র রোদের মধ্যেই শুরু হয় মানববন্ধন। এতে অংশ নেন সাংবাদিক, আইনজীবী, ছাত্রনেতা, শ্রমিক, বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ।
চট্টগ্রাম প্রতিদিনের উপদেষ্টা সম্পাদক ও প্রকাশক আয়ান শর্মার বিরুদ্ধে অপপ্রচার, মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র ও হুমকির প্রতিবাদে শুক্রবার (২১ আগস্ট) এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট সংগঠনের কর্মসূচি নয়; সাংবাদিক-ছাত্র-শ্রমিক-জনতার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মানুষজন বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় ‘আয়ান শর্মার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চেরাগি পাহাড় মোড়।
বক্তারা বলেন, বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য প্রকাশ করায় চট্টগ্রাম প্রতিদিনের উপদেষ্টা সম্পাদক ও প্রকাশক আয়ান শর্মা একটি শিল্পগোষ্ঠীর রোষানলে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, সে সময় সরকারি প্রভাব ব্যবহার করে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধসহ আয়ান শর্মাকে হয়রানির বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গোয়েন্দা সংস্থার হুমকি এবং একাধিক মামলায় তাকে আসামি করারও অভিযোগ করেন বক্তারা।

বক্তারা আরও বলেন, সরকারের পরিবর্তনের পর কিছুদিন নীরব থাকলেও বর্তমানে একটি মহল বিভিন্ন গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে আয়ান শর্মার বিরুদ্ধে নতুন করে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তারা মনে করছেন। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হুমকি, অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র বন্ধের আহ্বান জানান তারা।
সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আয়ান শর্মার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র বন্ধ না হলে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার জুলহাজ নীলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ফাইন্যান্স টুডের সম্পাদক ও সম্পাদক-প্রকাশক পরিষদের সদস্য সচিব মতিউর রহমান, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক ও সম্পাদক-প্রকাশক পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল আলম রফিক, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট এম এ হাশেম রাজু, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক ইকবাল, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জাতীয় বাণিজ্য জগতের সম্পাদক আনিছুর রহমান সাব্বির, সিনিয়র সাংবাদিক সোহাগ আরেফিন, সিনিয়র সাংবাদিক ছিব্বির আহমেদ ওসমান, সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজান উল্লাহ সমরকন্দি, ইউনাইটেড প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, সমাজসেবক সাইদুর রহমান রিমন, চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার ইসমত মর্জিদা ইতি, সনাতনী ছাত্রনেতা সীমান্ত দত্ত ঋজু এবং চট্টগ্রাম প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার ইমরান আহমেদ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক কামরুজ্জামান রনি, সনাতনী সংগঠনের কর্ণধার অশোক চক্রবর্তী, স্বাধীন বাংলা নিউজের প্রধান সম্পাদক সালাউদ্দিন মিঠু, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের মহিলা সম্পাদিকা দীপ্তি চৌধুরী দিপা, সাংবাদিক সাত্তার সিকদার, কাউসার আলম, নুরুল আলম, মুহাম্মদ ইউনুস, সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, আইনজীবী, ছাত্রনেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে একটি প্রতিবাদ র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি চেরাগি পাহাড় মোড় থেকে শুরু হয়ে জেএমসেন হল চত্বর ঘুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব হয়ে জামালখানে চট্টগ্রাম প্রতিদিন কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

র‍্যালিতে অংশ নেওয়া লোকজন ‘আয়ান শর্মার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘সাংবাদিককে হুমকি, মানি না, মানবো না’ এবং ‘মিথ্যা প্রচার-হুলিয়া, নিতে হবে তুলিয়া’—এসব স্লোগান দেন।

কর্মসূচিতে বক্তারা সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা, অপপ্রচার ও হুমকি বন্ধ এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান।