এস.এম.আব্দুর রাজ্জাক, ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল):
আকর্ষণীয় মোড়কের গায়ে লেখা ‘এক্সপোর্ট কোয়ালিটি’ (ঊীঢ়ড়ৎঃ ছঁধষরঃু)। উপাদানের তালিকায় লেখা আছে মটর, ভোজ্যতেল, মশলা, লবণ ও ফুড কালার। কিন্তু ৫ টাকা মূল্যের এই প্যাকেটের গায়ে উৎপাদনের তারিখ থাকলেও, উধাও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ! আর প্যাকেট খুললেই মিলছে অত্যন্ত নিম্নমানের ড্যাম্প (স্যাঁতসেঁতে) মটর ভাজা—যা খেয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে শিশুসহ সাধারণ মানুষ।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী পৌর শহরের নিজবর্ণি (পলাশতলী) এলাকায় অবস্থিত ‘মেসার্স জান ফুডস্’ নামের একটি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এভাবেই সাধারণ ভোক্তাদের সাথে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
যেভাবে ধরা পড়ল প্রতারণা: আজ ধনবাড়ী পৌরসভার খাসপাড়া এলাকার একটি মুদি দোকান থেকে ‘জান ফুডস্’-এর ১৫ গ্রাম ওজনের একটি মটর ভাজার প্যাকেট ক্রয় করেন এক ক্রেতা। খাওয়ার উদ্দেশ্যে প্যাকেটটি খোলার পর ভেতরে থাকা মটর ভাজার মান দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। মটরগুলো ছিল সম্পূর্ণ ড্যাম্প ও খাওয়ার অনুপযোগী।
সন্দেহ হওয়ায় প্যাকেটের গায়ের লেখাগুলো যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায় এক ভয়ংকর জালিয়াতি। প্যাকেটের গায়ে উৎপাদনের তারিখ ‘২.২৫’ লেখা থাকলেও ‘মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ’ (ঊীঢ়রৎু উধঃব) এর জায়গাটি সম্পূর্ণ ফাঁকা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, কবে এই খাবারটি মেয়াদোত্তীর্ণ হবে বা এটি খাওয়ার জন্য কতদিন পর্যন্ত নিরাপদ, তার কোনো নির্দেশনা নেই।
জনস্বাস্থ্যে চরম হুমকি ও সচেতন মহলের ক্ষোভ: চিকিৎসকদের মতে, মেয়াদহীন ও নিম্নমানের এই ধরনের ভেজাল খাবার খেলে ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদী পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে শিশুরা এই মটর ভাজার প্রধান ক্রেতা হওয়ায় তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও নিয়মিত বাজার তদারকির অভাবেই ‘জান ফুডস্’ এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দিনের পর দিন এমন প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। প্যাকেটের গায়ে বিডিএস (ইউঝ) নম্বর-১৫৮১ ব্যবহার করা হয়েছে। এই বিডিএস নম্বরটি আদৌ বিএসটিআই (ইঝঞও) অনুমোদিত কি না, নাকি ভুয়া লাইসেন্স নম্বর ব্যবহার করে জনগণের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে—তা জরুরি ভিত্তিতে যাচাই করা দরকার বলে দাবি করেছেন তারা।
প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা: জনস্বাস্থ্যের মতো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ে ‘জান ফুডস্’-এর এই চরম অবহেলা ও প্রতারণা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভোক্তাদের সাথে এই অভিনব প্রতারণা বন্ধে এবং ভেজাল খাদ্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বিএসটিআই-এর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ। প্রশাসন এখনই কঠোর না হলে এমন অসাধু ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।