রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল ৪টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।
নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যাত্রীবাহী বাসটি নির্ধারিত ফেরিতে না উঠে দ্রুতগতিতে পাশের একটি ফেরির র্যাম্পে আঘাত করে। এতে র্যাম্প ভেঙে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পৃথক তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার পেছনে কোনো অব্যবস্থাপনা বা গাফিলতি ছিল কিনা, তা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ঘাট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখবে। তবে প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়নি।’
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের আগে নামিয়ে ফেরিতে তোলার সিদ্ধান্তই আজ বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছে।’
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বাসটির যান্ত্রিক ত্রুটি, চালকের শারীরিক অবস্থা, ড্রাইভিং সক্ষমতা ও গাড়ির ফিটনেসসহ সব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া চালক ও তার সহকারী সুস্থ হওয়ার পর তাদের বক্তব্য নেওয়া হবে।
এ সময় বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, নৌপুলিশ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ‘করবী’ ফেরিতে ওঠার সময় ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরির র্যাম্প ভেঙে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ও ডুবুরি দলের সহায়তায় দুপুর ১২টার দিকে বাসটি নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
পরে যাত্রীদের মালামাল শনাক্ত করে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি রেকারের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফেরি চলাচল ও যানবাহন পারাপার স্বাভাবিক হয়।