ডিজাইন: ইমেজ চালু
বুধবার ০৩ জুন ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

মামলার বাদী পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের অপপ্রচারের অভিযোগ 


সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের বনগ্রাম গ্রামে চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে থেকে মামলার বাদী পরিবারে বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তুলেছেন মামলার বাদী পক্ষ। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষ বলছে, তারা কোনো বাধা ছাড়াই নিজেদের জমির ধান কেটে নিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্র, ভুক্তভোগী পরিবার এবং মামলার নথি থেকে জানা যায়, উপজেলার বনগ্রাম গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে আলমাস হোসেন ও মৃত ইন্তাজ আলী শেখের ছেলে আব্দুর রশীদের সঙ্গে প্রতিবেশী মজনু শেখের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন, মিজানুর রহমান (বাবু) এবং তাদের স্বজনদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জের ধরে গত ২৫ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে আলমাস হোসেন তার বাড়ির পূর্ব পাশে পুকুর সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের কাজ করতে গেলে প্রতিপক্ষ মোজাম্মেল হোসেন, সুজন মিয়া, মজনু শেখ, মিজানুর রহমান (বাবু), সজিব হোসেন প্রান্ত, রুপা শেখ ও নাজমা বেগমসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে লোহার রড, দা ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে হামলা চালান। এতে আলমাস হোসেন গুরুতর আহত হন। একই দিনে আরও দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আলমাস হোসেন বাদী হয়ে মোজাম্মেল হোসেনকে প্রধান আসামি করে সাত জনের নাম উল্লেখ করে সরিষাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন। এছাড়া একই দিনের পৃথক দুই ঘটনায় আব্দুর রশীদ শেখ ও আঞ্জু মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে মোজাম্মেল হোসেন সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে এবং মিজানুর রহমান বাবু সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে  দুটি মামলা করেন। মামলাগুলোতে মারধর, গুরুতর জখম, চুরি, শ্লীলতাহানি, সম্পত্তির ক্ষতি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।

বাদী পক্ষের দাবি, হামলায় আহত শিক্ষক শহিদুজ্জামান (শহীদুল্লাহ) গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে মামলার বিবাদীদের কয়েকজন মিজানুর রহমান (বাবু), মজনু শেখ, নাজমা বেগম, আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নিজেদের জমির ধান কাটতে বাধা দেওয়া, ফসল নষ্ট করা এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানির অভিযোগ এনে লোক জনকে বলে বেড়াচ্ছেন  বলে দাবি করেছেন বাদী পক্ষের লোকজন।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী আব্দুর রশীদ শেখ বলেন, মোজাম্মেল হোসেন, মজনু শেখ ও মিজানুর রহমান (বাবু) পক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় তারা দীর্ঘদিন গ্রেফতার এড়াতে পলাতক ছিলেন। ফলে তাদের জমির ধান সময়মতো কাটা হয়নি। এখন সেই দায় আমাদের ওপর চাপিয়ে লোক জনকে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এর বিচার দাবি করছি।

স্থানীয় কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি—আব্দুল মান্নান, আব্দুল বারেক, নান্নু মিয়া, জলিল খাঁ, আব্দুল আজিজ, আলমাছ খাঁ, তুহিন খাঁ, ফিরোজ খান ও রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিরোধে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা সংঘাত ও উত্তেজনার সৃষ্টি করে আসছেন। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মজনু শেখ ও মোজাম্মেল হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগম বলেন, মহাদান ইউনিয়ন পরিষদের  প্রশাসক সালাউদ্দিন সরকার, “কৃষি বিভাগ উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন  এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা আমাদের জমির ধান নিজেরা ও শ্রমিক দিয়ে কাটছি। আমাদের কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।”
তারা আরও বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকায় সময়মতো ধান কাটতে পারিনি। তবে গত দুই দিন ধরে কোনো বাধা ছাড়াই জমির ধান কেটে ঘরে তুলছি।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উভয় পক্ষই প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।