*বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানাধীন এলাকায় ৩ বছরের শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রধান আসামী সৎমা আয়েশা আক্তার (২২)’কে ঢাকা জেলার আদাবর থানাধীন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩ ও র্যাব-৬ এর যৌথ আভিযানিক দল|*
১| র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে বিভিন্ন ধরণের অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছে| সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি খুন, চাঁদাবাজি, চুরি, কিশোর গ্যাং, ডাকাতি ও ছিনতাই চক্রের সাথে জড়িত বিভিন্ন সংঘবদ্ধ ও সক্রিয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনির্মাণের জন্য র্যাবের জোরালো তৎপরতা অব্যাহত আছে| এছাড়াও বিভিন্ন হত্যাকান্ডের দীর্ঘদিন যাবৎ আত্মগোপনে থাকা বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনপূর্বক হত্যাকারীদেরকে গ্রেফতার করে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে র্যাব সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে|
২| এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৩ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল ১৬ মে ২০২৬ তারিখ ২০১৫ ঘটিকার সময় ঢাকা মহানগরীর আদাবর থানাধীন ঢাকা উদ্যান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানাধীন এলাকায় সৎমা কর্তৃক ৩ বছরের শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রধান আসামী আয়েশা আক্তার (২২), পিতাঃ মুরাদ হোসেন শেখ, সাং-চর ডাকাতিয়া, থানাঃ চিতলমারী, জেলাঃ বাগেরহাট’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়|
৩| মামলার এজাহার ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ধৃত আসামি আয়েশা আক্তার (২২) ভিকটিম খাদিজা আক্তার (৩) এর সৎমা| ভিকটিম খাদিজা আক্তার এর মায়ের সাথে তার বাবার বনিবনা না হওয়ায় ভিকটিম এর বাবা ও মা এর ডিভোর্স হয়| পরবর্তীতে ভিকটিমের বাবা দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং ভিকটিম খাদিজা তার বাবার সাথেই থাকতে শুরু করে| ভিকটিমের সৎমা ভিকটিমের বাবার সাথে বিবাহের পর ধৃত আসামি ভিকটিমদের বাড়িতে এসে ভিকটিমকে দেখতে পেয়ে বিরক্ত বোধ করে| ধৃত আসামি ভিকটিমকে সর্বদা গালমন্দ করতো| ভিকটিমের গায়ের রং কালো বিধায় ধৃত আসামি ভিকটিমকে নানা সময় গালিগালাজ করতো এবং ভিকটিমকে অন্য কোথাও চলে যেতে বলে| ভিকটিম অন্য কোথাও চলে না গেলে ধৃত আসামী ভিকটিমকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিবে বলে জানায়| পরবর্তীতে গত ০৪/০৯/২০২৪ তারিখ ভিকটিমের দাদা-দাদী ও বাবা কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ির বাহিরে চলে গেলে ধৃত আসামি ভিকটিমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে খাটের নিচে রেখে দেয়| ভিকটিমের বাবা তুহিন শেখ মাঠের কাজ শেষ করে আনুমানিক ১১০০ ঘটিকার সময় বাড়িতে এসে মেয়েকে খোঁজাখুজি শুরু করলে ধৃত আসামি জানায় মেয়ে কোথায় গিয়েছে সে বলতে পারে না| খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে ধৃত আসামি আয়েশা ভিকটিমকে বাড়ির পাশের্^র পুকুরে খুঁজতে বলে| পুকুরে খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন ভিকটিমকে ঘরের মধ্যে খুঁজতে গিয়ে দেখে ভিকটিম খাদিজা অচেতন অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে| পরিবারের লোকজন ভিকটিমকে জীবিত ভেবে চিতলমারী মা ক্লিনিকে নিলে ভিকটিমকে ডাক্তার দেখে চিতলমারী সরকারী হাসপাতালে নিতে বলে| ভিকটিমের পরিবার ভিকটিমকে ১৪২৫ ঘটিকায় চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানায় তাদের বাচ্চা অনেক আগেই মারা গেছে| উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয় (মামলা নং-০২, তারিখ ০৪/০৯/২০২৪)| উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে র্যাব-৬ এর অধিযাচনের ভিত্তিতে র্যাব-৩ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল কর্তৃক ধৃত আসামি আয়েশা আক্তারকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়|
৪| ধৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে|
মোঃ মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
ইন্ট এন্ড মিডিয়া অফিসার
পক্ষে পরিচালক