ডিজাইন: ইমেজ চালু
সোমবার ১৮ মে ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

চেয়ার নেই তবুও জনপ্রিয়তার শীর্ষে: ধনবাড়ীর জনমনে অঘোষিত সম্রাট আব্দুল ওয়াদুদ তালুকদার সবুজ


নিজস্ব প্রতিবেদক,এস.এম আব্দুর রাজ্জাক, ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল):

বাংলাদেশের রাজনীতির প্রচলিত ব্যাকরণ সমীকরণকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এক অবিশ্বাস্য জনপ্রিয়তার নজির সৃষ্টি করেছেন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার এক জননন্দিত নেতা। ক্ষমতা কিংবা পদের মোহে নয়, বরং সাধারণ মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা নিঃস্বার্থ সেবার মাধ্যমে তিনি আজ স্থান করে নিয়েছেন এক অঞ্চলের কোটি মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায়। তিনি আর কেউ ননধনবাড়ী উপজেলার রাজনৈতিক সামাজিক মানচিত্রের এক উজ্জ্বল ধ্রুবতারা আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াদুদ তালুকদার সবুজ।

রাজনীতির ময়দানে ক্ষমতার পালাবদলে চেনা দৃশ্যপট বদলে যাওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। সাধারণত প্রশাসনিক পদ কিংবা চেয়ার হারালে অনেক প্রভাবশালী নেতাই একসময় জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, পাশে থাকে না নিজের ছায়াটুকুও। তবে এই চেনা নিয়মের সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম আব্দুল ওয়াদুদ তালুকদার সবুজ। ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন মাত্র মাস। পরবর্তীতে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশজুড়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলেও, তিনি দমে যাননি বা হাল ছাড়েননি। পদ হারিয়েও তিনি কীভাবে গোটা অঞ্চলেরঅঘোষিত সম্রাটহয়ে টিকে আছেন, তা আজ দেশের বড় বড় রাজনৈতিক তাত্ত্বিকদের কাছে এক পরম বিস্ময়।

তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক মহীরুহ আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াদুদ তালুকদার সবুজের এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা কোনো আকস্মিক জোয়ার বা প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের ফসল নয়। তিনি মাটির মানুষ, একদম তৃণমূল থেকে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে বড় হয়েছেন। ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি যেমন দলকে সুসংগঠিত শক্তিশালী করেছিলেন, ঠিক তেমনি ধোপাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর অসামান্য কর্মদক্ষতার জন্য টাঙ্গাইল জেলার শ্রেষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি তাঁর প্রশাসনিক দূরদর্শিতা সততার অনন্য স্বাক্ষর রাখেন। তাঁর নেতৃত্ব কখনো কেবল কার্যালয়ের চার দেয়ালে বা নির্দেশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়িয়ে রাজনীতি করেছেন। ফলে আজ তিনি কেবল একজন নেতা নন, বরং ধনবাড়ীর মানুষের কাছে এক পরম ভরসার আশ্রয়স্থল।

২০২৪-এর নির্বাচন: এক অভূতপূর্ব গণজোয়ারের ইতিহাস ২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত ধনবাড়ীবাসী হয়তো কোনোদিন ভুলবে না। সেই নির্বাচনেমোটরসাইকেলপ্রতীক নিয়ে তাঁর অংশগ্রহণের ফলে যে নজিরবিহীন গণজোয়ারের সৃষ্টি হয়েছিল, তা ছিল এককথায় অভূতপূর্ব। হাজার হাজার মোটরসাইকেলের স্বতঃস্ফূর্ত বহর আর জনতার বাঁধভাঙা উল্লাস প্রমাণ করেছিলওয়াদুদ তালুকদার সবুজ কোনো নির্দিষ্ট দলীয় ছক বা সংকীর্ণ সীমানায় সীমাবদ্ধ নন; তিনি ছিলেন মূলত সাধারণ জনতার মনোনীত প্রার্থী। নির্বাচনী ফলাফলের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছিল মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম টান এবং তাঁর প্রতি মানুষের অগাধ বিশ্বাস। জনতার সেই স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাসের রেশ আজও ধনবাড়ীর প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে এবং হাটে-বাজারে আলোচনার প্রধান খোরাক যোগায়।

ক্ষমতাহীন অবস্থায়ও মানবতার সার্বক্ষণিক ফেরিওয়ালা বর্তমান সময়ে কোনো প্রশাসনিক পদে না থাকলেও আব্দুল ওয়াদুদ তালুকদার সবুজের জনসেবার দুয়ার এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ হয়নি। বরং ক্ষমতা না থাকায় তিনি এখন আগের চেয়েও বেশি সময় দিচ্ছেন এলাকার সাধারণ অসহায় মানুষের জন্য। ব্যক্তিগত অর্থায়নে দুস্থ পরিবারগুলোকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা, দরিদ্র মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং এলাকার অভাবী মানুষের আপদে-বিপদে পাশে দাঁড়ানো যেন তাঁর প্রাত্যহিক জীবনের রুটিনে পরিণত হয়েছে। ধনবাড়ীর সর্বস্তরের মানুষ একবাক্যে স্বীকার করেনপদ-পদবী তাঁর কাছে অত্যন্ত গৌণ একটি বিষয়, মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা অর্জনই তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য ব্রত।

অসহায় মানুষের মুখে হাসির কারিগর বিগত প্রায় ২৫ বছর ধরে সমাজসেবার যে গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য তিনি ধরে রেখেছেন, তা সমসাময়িক রাজনীতিতে সত্যিই বিরল। প্রতি বছর দুই ঈদে যখন বিত্তবানরা নিজেদের উৎসবে মগ্ন থাকেন, তখন ওয়াদুদ তালুকদার সবুজ প্রত্যন্ত গ্রামে ছুটে যান সেইসব সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সন্ধানে, যাদের ঘরে ঈদের আনন্দ পৌঁছায় না। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ধারাবাহিকভাবে হাজার হাজার মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী, খাদ্য কোরবানির মাংস বিতরণ করে আসছেন। তাঁর কাছে রাজনীতির সংজ্ঞা কেবল ক্ষমতার লড়াই বা মঞ্চের ভাষণ নয়; তাঁর কাছে রাজনীতি মানে একজন ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া, অসহায় বৃদ্ধার চোখের জল মোছানো কিংবা দরিদ্র পিতার সন্তানের পাশে অভিভাবক হয়ে দাঁড়ানো। এই নিভৃত মানবিক কাজগুলোই তাঁকে ধনবাড়ীর মানুষের কাছেমানবতার ফেরিওয়ালাহিসেবে পরিচিত করেছে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি অর্থনৈতিক বিপ্লব ওয়াদুদ তালুকদার সবুজের অবদানের কথা বলতে গেলে তাঁর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত কর্মসংস্থানের বিষয়টি উপেক্ষা করা অসম্ভব। ধনবাড়ীর অসংখ্য শিক্ষিত বেকার তরুণের কর্মজীবনের সুবর্ণ সূচনা হয়েছে তাঁর প্রত্যক্ষ সহায়তায়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে আজ বহু মানুষ কর্মরত রয়েছেন, যাদের উপার্জিত আয়ের ওপর ভর করে সুখে-শান্তিতে চলছে শত শত পরিবার। তাঁর মাধ্যমে ঠিক কত মানুষের জীবিকার ব্যবস্থা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেওয়া কঠিন হলেও, যে মানুষটি তাঁর হাত ধরে প্রথম কর্মস্থলে প্রবেশ করেছিলেন, তিনি আজীবন এই মহানুভবতার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি শুধু একজন সাধারণ নিয়োগকর্তা নন, বরং একজন পরম অভিভাবক হিসেবে কর্মীদের পাশে থাকেন সবসময়।

দলমতের ঊর্ধ্বে এক সর্বজনীন প্রতীক তাঁর এই বিপুল জনপ্রিয়তার অন্যতম প্রধান গোপন রহস্য হলোতিনি কখনো বিভাজনের কিংবা প্রতিহিংসার রাজনীতি করেননি। বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে তাঁর কাছে এসে কখনো বিমুখ হননি। তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, মানুষের সেবা কোনো নির্দিষ্ট দলের ফ্রেমে বন্দী হতে পারে না, সেবা হতে হবে সার্বজনীন মানবতাবাদী। ফলে ধনবাড়ীর রাজনৈতিক মেরুকরণ বা পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আব্দুল ওয়াদুদ তালুকদার সবুজের নাম যখনই আসে, তখন দল-মত নির্বিশেষে সবাই তাঁর সততা, উদারতা অমায়িক ব্যবহারের প্রশংসা করতে বাধ্য হন।

আগামীর নেতৃত্ব জনআকাঙ্ক্ষার আলোকবর্তিকা বর্তমানে ধনবাড়ীর জনমনে একটি প্রশ্নই বারবার ঘুরপাক খাচ্ছেভবিষ্যৎ নেতৃত্বে কার ওপর ভরসা রাখা যায়? সাধারণ মানুষের অভিমত এবং চায়ের দোকানের প্রাত্যহিক আড্ডার আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, তারা