ডিজাইন: ইমেজ বন্ধ
শনিবার ০৯ মে ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

সুন্দরবনে ৭ দিন জিম্মি থেকে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরল ১১ জেলে


শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:

পূর্ব সুন্দরবনে বনদস্যুদের কবলে সাত দিন শিকলবন্দী থাকার পর সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ জেলে। গত ৩ মে রাতে সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকা থেকে বনদস্যু ‘জাহাঙ্গীর বাহিনী’ তাদের অপহরণ করেছিল। শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় অপহৃত জেলেরা বাড়িতে পৌঁছান।

ভুক্তভোগী জেলেরা জানান, গত ৩ মে রাতে মুক্তিপণের দাবিতে জাহাঙ্গীর বাহিনী ১১ জেলেকে অপহরণ করে পায়ে শিকল পরিয়ে আটকে রাখে। এর তিন দিন পর ৫ মে বনদস্যু ‘শরীফ বাহিনী’ জাহাঙ্গীর বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। দুই পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের পর শরীফ বাহিনী জেলেদের নিজেদের কব্জায় নিয়ে সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেয়।

জিম্মদশা থেকে মুক্তি পাওয়া শরণখোলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের জেলে রুবেল হাওলাদার (৩০) জানান, জাহাঙ্গীর বাহিনী তাদের ওপর প্রচণ্ড শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে। পরবর্তীতে শরীফ বাহিনী মুক্তিপণের টাকা বুঝে পাওয়ার পর শুক্রবার ভোররাতে তাদের নৌকায় করে ধানসাগর আড়ুয়াবেড় নদীর মোহনায় নামিয়ে দিয়ে যায়। সেখান থেকে কয়েক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে তারা নিজ এলাকায় পৌঁছান।

বাড়ি ফিরে আসা জেলেরা হলেন- উত্তর রাজাপুর গ্রামের ছগির (৩২), রাকিব (২৩), লুৎফর হাওলাদার (৩০), বাদল হাওলাদার (৩৫), সজিব হাওলাদার (২৭), হাফিজুল (২২), আলমগীর ফরাজী (৫০), ইয়াসিন হাওলাদার (২৩); পাথরঘাটার পদ্মা স্লুইস এলাকার রুবেল (২৫) এবং খুলনার বটিয়াঘাটার দেব চন্দ্র (২৫)।

নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মৎস্য মহাজন জানান, দস্যুরা প্রথমে প্রতি জেলের জন্য এক লাখ টাকা দাবি করেছিল। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে জনপ্রতি ৭০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। বিকাশের মাধ্যমে এই সাত লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করার পর দস্যুরা তাদের মুক্তি দেয়। ভবিষ্যতে সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে আবারও আক্রমণের শিকার হওয়ার ভয়ে কোনো জেলে বা মহাজন এ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামিনুল হক জানান, মুক্তিপণ দিয়ে জেলেদের ফিরে আসার বিষয়টি তার জানা নেই এবং এখন পর্যন্ত কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।