নিজস্ব প্রতিবেদক, ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল):
বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশীদ (কাদের): এক ত্যাগী যোদ্ধার । টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী পৌর শহরের মিয়াপাড়া, বাসীন্দা। রণাঙ্গন (১৯৭১): ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে ওয়ান মারাঠা লি: কোম্পানির অধীনে সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। জীবনদর্শন: অত্যন্ত নিঃলোভ ও সৎ মানুষ ছিলেন। রাষ্ট্রীয় ভাতা বা সুযোগ-সুবিধার পেছনে কখনো ছোটেননি। তার বিখ্যাত উক্তি ছিল— "আমি দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি, ভাতার জন্য নয়।" দুঃখজনক বাস্তবতা ও বঞ্চনাএটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে তার রাজনৈতিক আদর্শ বা পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে রাষ্ট্রীয় সম্মান থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে। অভিযোগ: রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও পূর্ববর্তী সরকার তাকে প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বা সম্মান প্রদান করেনি। পরিবারের আর্জি: তার সন্তান জাহেদুল ইসলাম মোহাব্বত এবং এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে যেন কোনো মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকা থেকে বাদ না যায়। এলাকাবাসী ও পরিবারের দাবি ১. রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি: মরহুম হারুন অর রশীদ (কাদের)-কে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান এবং গেজেটে অন্তর্ভুক্তিকরণ। ২. বৈষম্যহীন তালিকা: রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে প্রকৃত সকল মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা। ৩. স্মৃতি রক্ষা: ধনবাড়ী এলাকায় তার নামে কোনো রাস্তা বা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তার বীরত্বগাথা পৌঁছে দেওয়া। "একজন মুক্তিযোদ্ধার কোনো দল নেই, তার পরিচয় তিনি দেশের বীর সন্তান।
ছেলের রাজনৈতিক আদর্শের খেসারত দিতে হলো এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনের বীর সেনানী হয়েও, কেবল ছেলে বিএনপি করার কারণে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বারবার বাদ দেওয়া হয়েছে আব্দুল কাদেরকে। এমনকি মৃত্যুর পর জোটেনি রাষ্ট্রীয় সম্মানটুকুও। বুকভরা অভিমান আর আক্ষেপ নিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন এই সূর্যসন্তান।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী পৌর শহরের দক্ষিণ মিয়াপাড়া গ্রামে।
জানা যায়, দক্ষিণ মিয়াপাড়া গ্রামের মৃত শেখ নজর আহমেদ ছেলে আব্দুল কাদের ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ভারতীয় তালিকাতেও তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাঁর কাছে থাকা ১ মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রি ((1 MARATHA LI) ইউনিটের কমান্ডারের দেওয়া প্রত্যয়নপত্রে (জানুয়ারি ১৯৭২) স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে— "
"This is to certify that Shri. ABDUL KADIR, son of SHAIKH NAZAR AHMED of Village DONBARI is a freedom fighter and has worked with this unit (1 MARATHA LI) during operations."
এত সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং ভারতীয় তালিকাভুক্ত হওয়ার পরও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুল কাদেরের ছেলে জাহেদুল ইসলাম মোহাব্বত ছোটবেলা থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। আর এই কারণেই বিগত সরকারের সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের রোষানলে পড়ে পরিবারটি। আব্দুল কাদের বারবার মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করলেও, যাচাই-বাছাইয়ের সময় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়। দেশের জন্য জীবন বাজি রাখা এই মুক্তিযোদ্ধার পরিবার আজ সীমাহীন কষ্টের মাঝে দিন পার করছে।
বাবার এই করুণ পরিণতি আর শত বঞ্চনা বুকে চেপেও রাজনীতির মাঠ ছাড়েননি ছেলে জাহেদুল ইসলাম মোহাব্বত দলের দুর্দিনে সংগঠনকে গুছিয়ে
ছেলে বিএনপি করায় এ দেশের সূর্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশীদ কাদের পাননি স্বীকৃতি।