ডিজাইন: ইমেজ বন্ধ
বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

ইরান ও আমেরিকা যুদ্ধ বিরতি: ফিলিস্তিন ইস্যু কি আড়ালে পড়ে যাচ্ছেনাতো?


মোঃ আরমান মিয়া সিনিয়র সাংবাদিক স্বাধীন বাংলা নিউজ:

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য চুক্তির আলোচনায় ফিলিস্তিন ইস্যু কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বেশ আলোচনা চলছে। 

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধবিরতি: ফিলিস্তিন ইস্যু কি আড়ালে পড়ে যাচ্ছে?

তেহরান ও ওয়াশিংটন | ৮ এপ্রিল, ২০২৬

দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং পাল্টাপাল্টি হামলার পর, আজ ৮ এপ্রিল ২০২৬-এ পাকিস্তান এবং ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে একটি দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি (Islamabad Accords) স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে এই চুক্তিতে ফিলিস্তিন বা গাজা ইস্যু নিয়ে ইরানের তথাকথিত "চুপ" থাকা বা সরাসরি কোনো শর্ত না থাকা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠছে।

 কেন ইরান সরাসরি ফিলিস্তিন নিয়ে শর্ত দেয়নি?

১. নিজস্ব অস্তিত্ব রক্ষা: ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ আমেরিকার হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমান চুক্তিটি মূলত ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। নিজের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে ইরান আপাতত ফিলিস্তিন ইস্যু থেকে কিছুটা কৌশলগত দূরত্ব বজায় রাখছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

২. আঞ্চলিক প্রক্সি ও কৌশল: যদিও ১০ দফার শান্তি প্রস্তাবে ইরান "মিত্রদের ওপর হামলা বন্ধের" কথা বলেছে, কিন্তু সেখানে বিশেষভাবে 'ফিলিস্তিন' বা 'গাজা'র নাম সরাসরি উল্লেখ করেনি। এর কারণ হতে পারে ইরান চায় না ফিলিস্তিন ইস্যুকে ব্যবহার করে আমেরিকা তাদের মূল দাবিগুলো (নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার) নাকচ করে দিক।

৩. ইসরায়েলি চাপ:ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন এবং ইসরায়েলের কড়া হুঁশিয়ারি ছিল যে, ইরান যদি হামাস বা হিজবুল্লাহর হয়ে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক শর্ত চাপিয়ে দেয়, তবে শান্তি আলোচনা বাতিল করা হবে।

ইরানের বর্তমান অবস্থান:

ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিকে তাদের "কৌশলগত বিজয়" হিসেবে দেখছে। তবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীগুলো এবং সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে যে, তেহরান কি তবে নিজের স্বার্থে ফিলিস্তিনকে একপাশে সরিয়ে রাখল? যদিও হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু চুক্তির টেবিলে ইরানের এই নিরবতা ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাদের দীর্ঘদিনের অনড় অবস্থানের বড় ধরনের পরিবর্তন নির্দেশ করে।

 বিশেষ দ্রষ্টব্য:ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি কেবল দুই সপ্তাহের জন্য। যদি আমেরিকা তাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্ত না মানে, তবে ইরান আবারও কঠোর অবস্থানে ফিরবে।