ডিজাইন: ইমেজ বন্ধ
বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

কর্মস্থল খাগড়াছড়িতে, রোগী দেখেন মধুপুরে: সরকারি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে ব্যস্ত ডা. তারেক


মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: সরকারি কর্মস্থল খাগড়াছড়ির পানছড়িতে হলেও মাসের পর মাস সেখানে অনুপস্থিত থাকছেন ডা. তারিকুল ইসলাম তারেক। কর্মস্থল ফাঁকি দিয়ে তিনি নিয়মিত টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে এনেস্থেসিওলজিস্ট (অজ্ঞানকারী চিকিৎসক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দিনের পর দিন তার এই অনুপস্থিতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন পানছড়ি উপজেলাবাসী।

যেভাবে চলছে ফাঁকিবাজি: জানা যায়, ডা. তারেকুল ইসলাম তারেক গত ২০২৫ সালের মার্চ মাসে খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কনসালটেন্ট (এনেস্থেসিয়া) হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ছিলেন। সেখানেও দায়িত্ব অবহেলার কারণে তাকে পানছড়িতে বদলি করা হয়। কিন্তু নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকেই তিনি নানা অজুহাতে দিনের পর দিন অনুপস্থিত থাকছেন। পানছড়িতে ডিউটি না করে তিনি মধুপুরে এসে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ক্লিনিকে ক্লিনিকে দৌড়ঝাঁপ: মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধিকাংশ ক্লিনিকেই অপারেশন চলাকালে অজ্ঞানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার তার দম ফেলার ফুরসত থাকে না। এক ক্লিনিক থেকে আরেক ক্লিনিকে ছুটে বেড়ান তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, অনেক সময় অপারেশন শেষ হওয়ার আগেই ওটি (OT) রুম থেকে বের হয়ে ক্লিনিক ম্যানেজারের কাছ থেকে নির্ধারিত ৩ হাজার টাকা ফি বুঝে নিয়ে তড়িঘড়ি করে আরেক ক্লিনিকে ছোটেন তিনি। সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা-১টা পর্যন্ত এভাবেই চলে তার ব্যস্ততা। সপ্তাহের অন্যান্য দিনেও এই চিত্র বদলায় না। সর্বশেষ গত ৫ এপ্রিল (রোববার) মধুপুরের ডিজিটাল ক্লিনিক ও চৌধুরী ক্লিনিকসহ একাধিক চিকিৎসাকেন্দ্রে তাকে অজ্ঞানের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

মধুপুরের ডিজিটাল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান বিষয়টি স্বীকার করে জানান, তাদের চিকিৎসাকেন্দ্রে বিভিন্ন অপারেশনের সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে ডা. তারেকুল ইসলাম নিয়মিত এনেস্থেসিয়ার দায়িত্ব পালন করেন।

অভিযুক্ত ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে অভিযুক্ত ডা. তারিকুল ইসলাম তারেক বলেন, "আমার কর্মস্থল অনেক দূরে এবং বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুরে। আমি বলে-কয়েই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকি। তবে এটি আমার ভুল হয়েছে।"

অন্যদিকে, পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনুতোষ চাকমা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ডা. তারেকুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করছেন। মাসে মাত্র দু-একদিন অফিস করেন এবং নানা অজুহাতে অনুপস্থিত থাকেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসেও তিনি মাত্র দু-একদিন অফিস করেছেন। আজও তিনি অফিসে নেই। তাকে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করা হয়েছে।"

সরকারি চিকিৎসকদের এমন অবহেলায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।