পাবনার আটঘরিয়ায় গৃহবধূকে হ ত্যা করে আ ত্মহ ত্যা বলে চালানোর অভিযোগ, স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলা এলাকায় এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হ ত্যা র অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, মোঃ শাহিন আলম (৪০) তার ছোট বোন মোছাঃ মীম (১৯)-এর হত্যার বিচার চেয়ে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। নিহত মীমের প্রায় এক বছর আগে মোঃ আলিফ হোসেন (২২)-এর সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহ হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিবাহের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামী মোঃ আলিফ হোসেন, তার মা মোছাঃ জেবা খাতুন (৪০) এবং স্থানীয় মোঃ আজিম প্রাং (৫৫) বিভিন্ন সময় মীমের উপর শারীরিক ও মানসিক নি র্যা তন চালাতেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২২ মার্চ ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে অভিযুক্তরা মীমকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জ খম করে। একপর্যায়ে তাকে তার ব্যবহৃত ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হ ত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি আ ত্ম হ ত্যা হিসেবে প্রচার করতে মরদেহ ঘরের ভেতরে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে দাবি পরিবারের।
ঘটনার খবর স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ বাবু মিয়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিহতের ভাইকে জানালে তিনি দ্রুত যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে অভিযুক্তরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, তাদের অনুমতি ছাড়াই মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনায় পাঠানো হয় এবং পরিবারের সদস্যদের মর দেহ দেখতেও দেয়া হয়নি, যা ঘটনাটিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মোজাহার আলী (৮০) ও মোছাঃ মাজেদা খাতুন (৭০)সহ একাধিক ব্যক্তি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।