বিশেষ প্রতিবেদন: পানির অপচয় ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অবহেলা; সংকটের মুখে জনজীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা:
বাংলাদেশে পানির ক্রমবর্ধমান সংকটের মুখে দাঁড়িয়েও প্রতিদিন কোটি কোটি লিটার পানি অপচয় হচ্ছে মূলত দুটি প্রধান কারণে। একটি হলো বাসাবাড়ি ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের পানির ট্যাঙ্কে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অভাব, আর অন্যটি হলো অজু করার সময় অসচেতনভাবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পানির অপচয় শুধু সম্পদের অপচয় নয়, বরং এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুৎ বিল।
১. অটো-সুইচ বিহীন পানির ট্যাঙ্ক: অঝোরে ঝরছে সম্পদ:
শহরাঞ্চল থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যন্ত অধিকাংশ আবাসন, অফিস এবং বিশেষ করে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের পানির পাম্পগুলো ম্যানুয়ালি পরিচালিত হয়। এর ফলে ট্যাঙ্ক ভরে যাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় মটর চালু থাকে এবং ছাদ দিয়ে পানি উপচে পড়ে।
* বিদ্যুৎ অপচয়: এক লিটার পানি ছাদে তুলতে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয়, ট্যাঙ্ক উপচে পড়ার সময় সেই বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ অপচয় হয়।
* সমাধান: প্রতিটি ভবনে 'অটোমেটিক ওয়াটার লেভেল কন্ট্রোলার' ব্যবহার করলে এই অপচয় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব।
২. অজু ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ: প্রয়োজন বনাম বিলাসিতা
বাংলাদেশে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে কোটি মানুষ মসজিদে সমবেত হন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সচেতনতার অভাবে একজন মুসল্লি অজু করতে গড়ে ৩ থেকে ৫ লিটার পানি ব্যবহার করেন। অথচ সুন্নাহ মোতাবেক অজুর জন্য মাত্র ১ মুদ (প্রায় ৬৫০ মিলি বা পৌনে এক লিটার) পানিই যথেষ্ট।
* শয়তানের ভাই: ইসলাম ধর্মে অপচয়কারীকে ‘শয়তানের ভাই’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, "নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না।" (সূরা আল-আরাফ: ৩১)।
* বিশাল ঘাটতি: প্রতি অজুর সময়ে যদি একজন ব্যক্তি ৩ লিটার অতিরিক্ত পানি খরচ করেন, তবে কোটি মুসল্লির মাধ্যমে প্রতিদিন যে পরিমাণ পানি নষ্ট হচ্ছে তা দিয়ে দেশের অনেক খরাপ্রবণ অঞ্চলের পানির চাহিদা মেটানো সম্ভব।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে প্রভাব:
পানির অপচয়ের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ খাতের ওপর। পাম্প যত বেশি সময় চলবে, বিদ্যুতের ওপর চাপ তত বাড়বে। বর্তমান জ্বালানি সংকটের সময়ে পানির কলটি সঠিক সময়ে বন্ধ করা কেবল ব্যক্তিগত সাশ্রয় নয়, বরং এটি একটি নাগরিক দায়িত্বও বটে।
করণীয়:
* মসজিদ ও পাবলিক টয়লেটে 'পুশ ট্যাপ' বা আধুনিক সেন্সরযুক্ত কল ব্যবহার করা।
* ট্যাঙ্ক পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে মটর বন্ধ করতে অটোমেটিক সিস্টেম লাগানো।
* ধর্মীয় বয়ানে পানির অপচয় রোধে ইমাম ও খতিবদের জোরালো ভূমিকা রাখা।
> সতর্কতা: ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর নিচে নেমে যাচ্ছে। এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে ভয়াবহ পানির সংকটের সম্মুখীন হতে হবে।