ডিজাইন: ইমেজ বন্ধ
বুধবার ২২ এপ্রিল ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

সবাই করবে বলে কেউই করল না: সরকারি দপ্তরের গাফলিতিতে থমকে আছে জনস্বার্থ;


'সবাই করবে' বলে কেউই করলো না: সরকারি দপ্তরের গাফিলতিতে থমকে আছে জনস্বার্থ:

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

 সেই বিখ্যাত গল্পটি এখন বাংলাদেশের অনেক সরকারি প্রকল্পের বাস্তব চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। গল্পটি ছিল চারজন মানুষের— 'এভরিবডি' (সবাই), 'সামবডি' (কেউ একজন), 'এনিবডি' (যে কেউ) এবং 'নোবডি' (কেউ না)। একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার কথা ছিল সবার, কিন্তু কেউ একজন করবে এই আশায় কেউ কিছুই করলো না। দিনশেষে দেখা গেল, যে কাজটি যে কেউ করতে পারতো, সেটি কেউই সম্পন্ন করেনি।

বাংলাদেশেও আমাদের চারপাশের পরিস্থিতি অনেকটা একই রকম। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে যে কাজগুলো অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা, সেগুলো লাল ফিতার দাপট আর দায়িত্বহীনতায় পড়ে আছে বছরের পর বছর।

সমস্যার মূলে যে বিষয়গুলো:

 * বিলাসী প্রকল্প বনাম শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: যেখানে নতুন নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ এবং জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ সংস্কার করার কথা, সেখানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে। সাধারণ শিক্ষকরা মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের চেয়ে অতিরিক্ত ভিড় আর অপ্রতুল বাজেটের সাথে যুদ্ধ করছেন।

 * হাসপাতালের বেহাল দশা: প্রতিটি ওয়ার্ড বা ইউনিয়নে আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার বদলে স্বাস্থ্যখাতে চলছে ব্যক্তিগত ক্লিনিক বা প্রাইভেটাইজেশনের প্রচ্ছন্ন আগ্রাসন। অথচ সরকারি হাসপাতালের বারান্দায় রোগীরা এখনও শয্যার অভাবে কাতরাচ্ছে।

 * কাজের কাজ বনাম সময়ের অপচয়: ভিডিওতে যেভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্সে নাগরিকত্বের চিহ্ন নিয়ে বিতর্কের সমালোচনা করা হয়েছে, ঠিক তেমনি বাংলাদেশেও আসল সমস্যার সমাধান না করে নানা রকম আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সাধারণ মানুষের সময় নষ্ট করা হচ্ছে।

কেন এমন হচ্ছে?

প্রশাসনের এক স্তর অন্য স্তরের ওপর দোষ চাপিয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাই এই 'নোবডি' পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে। একটি ড্রেন পরিষ্কার করা বা রাস্তার সংস্কার—এগুলো কোনো একটি সংস্থার জন্য নির্দিষ্ট থাকলেও, সমন্বয়ের অভাবে 'সবাই করবে' মনে করে শেষ পর্যন্ত ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে।

উপসংহার

বার্তাটি আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষা। কাজ করার জন্য শুধু পরিকল্পনা থাকলেই হয় না, নির্দিষ্ট কাউকে দায়িত্ব বুঝে নিতে হয়। বাংলাদেশ যখন ২০২৬ সালের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে এগোচ্ছে, তখন 'কেউ করবে' বলে বসে না থেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।