ডিজাইন: ইমেজ চালু
সোমবার ৩১ আগস্ট ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

ময়মনসিংহ বিএনপির নিবাচনী জনসভা ভোটাধিকার ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ তারেক রহমানের


ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রতিনিধি:বিথী রাণীর দে 

সময়ের সাথে প্রতিদিন।

দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে এই সমাবেশ শুরু হয়। ময়মনসিংহ বিভাগ ও জেলার নেতারা এখানে বক্তব্য রাখেন।মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টা ২৭ মিনিটে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার বক্তব্য শেষ হয় বিকাল ৪টা ৫২ মিনিটে। প্রায় ২৫ মিনিট ধরে লাখো মানুষের সামনে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা, ভোটাধিকার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

 

জনসভায় তারেক রহমানের সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান বলেন, মানুষের কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছরে দেশে কার্যকর উন্নয়ন হয়নি এবং জনগণ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। তিনি রাতের ভোটের অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

 

ময়মনসিংহ ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়নি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। দেশের মানুষ একজন ভালো অভিভাবক চায়, যারা সন্তানদের শিক্ষিত করতে এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হবে।

 

কৃষি ও মৎস্য খাতে উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলের কৃষকরা নানা সমস্যায় রয়েছেন। মাছ চাষ বাড়াতে হবে, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তিনি কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি বীজ, সারসহ কৃষি উপকরণ কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।নারীদের ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী—তাদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উদ্যোগে মেয়েদের জন্য ক্লাস ১ শ্রেনী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন।

 

বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনী জনসভায় অন্য দল সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করলে দেশের মানুষের উপকার হয় না। রাজনৈতিক দলের উচিত জনগণের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা। তিনি দাবি করেন, বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং দলটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।তিনি আরও বলেন, যারা বিএনপিকে দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন বলছেন, তাদের দলের দুইজন মন্ত্রী বিএনপির সরকারের সময় মন্ত্রিসভায় ছিলেন—তারা তখন কেন পদত্যাগ করেননি, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।মাদক সমস্যা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যুবসমাজকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব। আইটি খাতে আগ্রহীদের আইটি প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।স্বাস্থ্যখাত নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে চিকিৎসা সংকট প্রকট। জেলা হাসপাতালের উন্নয়ন, পল্লি চিকিৎসক নিয়োগ এবং হেলথকেয়ার ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘরে ঘরে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।এছাড়া খাল পুনঃখননের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এসব কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪ জন প্রার্থীকে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিতে হবে। তিনি ভোট দেওয়ার পর ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানান।ধর্মীয় পেশাজীবীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সম্মানজনক বেতনের ব্যবস্থা করা হবে।বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর ২০২৪ সালে জনগণ স্বৈরাচারকে বিদায় জানিয়েছে। “করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই স্লোগান ধারণ করে সব ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণিপেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : দীর্ঘ ২২ বছর পর ময়মনসিংহে এসেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।সকাল থেকেই ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সমাবেশে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের ঢল নামে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জনস্রোত বাড়তে থাকে।তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে সার্কিট হাউজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। সমাবেশ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেত্রকোনা ময়মনসিং সদর এমপিদের নাম গুলো হাইলাইট করা লাগবে ধানের শীতের কান্ডারী তারা তাদের বিশাল মিছিলবহন নিয়ে আসছেসমাবেশস্থলে জড়ো হয়।নেতাকর্মীদের স্লোগান ও পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে সার্কিট হাউজ মাঠ। ময়মনসিংহে প্রবেশ করার সময় রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীরা তারেক রহমানকে স্বাগত জানায়। বিএনপি চেয়ারম্যানও হাত নেড়ে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানান।নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন এবং দলীয় পতাকা নিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল সহকারে সমাবেশস্থলে যোগ দেয়। বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে, টি শার্ট পরে ক্যাপ মাথায় দিয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে সমাবেশে আসে নেতাকর্মীরা। তারা বিভিন্ন স্লোগানে সমাবেশ প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তোলে। অন্যদিকে সার্কিট হাউজ মাঠ এবং এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে আয়োজিত সমাবেশে অংশগ্রহণ শেষে বিএনপি চেয়ারম্যান গাজীপুরের রাজবাড়ী মাঠে এবং উত্তরায় আজমপুর ঈদগাঁও মাঠে সমাবেশে যোগ দেবেন। এরপর রাজধানীর গুলশানে বাসভবনে ফিরবেন তিনি।