বগুড়ায় ৩ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার, বীজ ও নগদ অর্থ বিতরণ।
মোঃ শামসুল আলম লিটন সহ সম্পাদক:বগুড়ার গাবতলী ও শিবগঞ্জ উপজেলার তিন হাজার প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার, বীজ ও নগদ অর্থ বিতরণ করেছে এনসিসি ব্যাংক। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রান্তিক কৃষকদের চাষাবাদে সহায়তা এবং কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। কৃষি উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা পেয়ে উপকৃত কৃষকদের মধ্যে দেখা গেছে স্বস্তি ও সন্তোষ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার পদ্মপাড়া গ্রামে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। পরে দুপুরে একই উপজেলার বাগবাড়িতে এবং বিকেলে পাশের শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান মাদ্রাসা মাঠে কৃষকদের হাতে কৃষি উপকরণ ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক কৃষককে বিভিন্ন ধরনের সার ও বীজের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বিতরণ করা কৃষি উপকরণের মধ্যে রয়েছে ২০ কেজি ডিএপি সার, ১৫ কেজি এমওপি সার, ১০ কেজি জিপসাম, এক কেজি জিংক, আধা কেজি বোরণ, এক কেজি সরিষার বীজ এবং আরও ছয় ধরনের সবজির বীজ। এসব উপকরণ কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরবর্তী মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের আবাদে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এনসিসি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। দেশের খাদ্য উৎপাদন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে কৃষকদের ভূমিকা অপরিসীম। কৃষকদের প্রয়োজনীয় উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলে তাঁরা আরও উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদ করতে পারবেন। এ ধরনের উদ্যোগ কৃষি খাতের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে এনসিসি ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের সহায়তা এবং কৃষি খাতের উন্নয়নে ব্যাংক ভবিষ্যতেও বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। কৃষকদের প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের সহায়তামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও তাঁরা উল্লেখ করেন।
কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)-এর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আব্দুল মজিদ, এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নূরুন নেওয়াজ সেলিম এবং ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শামসুল আরেফিন। তাঁরা কৃষি খাতের উন্নয়ন, কৃষকদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদনমুখী কার্যক্রমে সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সহায়তা পাওয়া কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমন ধান কাটার পরপরই তাঁরা সরিষা ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষের প্রস্তুতি নেবেন। এ সময় সরবরাহ করা সার ও বীজ কাজে লাগাতে পারবেন বলে তাঁরা আশা করছেন। বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য চাষাবাদের উপকরণ সংগ্রহে যে বাড়তি খরচ হয়, এ সহায়তা তা কিছুটা কমাতে ভূমিকা রাখবে।
কৃষকদের মতে, সময়মতো সার ও বীজ পাওয়া গেলে জমি প্রস্তুত করা এবং নতুন ফসলের আবাদ শুরু করা সহজ হয়। পাশাপাশি নগদ অর্থ সহায়তা তাঁদের কৃষিকাজের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে কিছুটা সুবিধা দেবে। ফলে আমন মৌসুমের পর সরিষা ও সবজি চাষের মাধ্যমে বাড়তি ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, কৃষকদের হাতে প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে সরিষা ও বিভিন্ন সবজির আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করার মাধ্যমে ফসলের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং তাঁদের আর্থিক সক্ষমতা জোরদার করতেও এ ধরনের কর্মসূচি ভূমিকা রাখতে পারে।
বিনামূল্যে সার, বীজ ও নগদ অর্থ সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগী কৃষকেরা। তাঁদের প্রত্যাশা, এ ধরনের সহায়তা নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকলে প্রান্তিক কৃষকেরা আরও পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ করতে পারবেন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নেও এগিয়ে যেতে পারবেন।