ডিজাইন: ইমেজ বন্ধ
সোমবার ০৫ অক্টোবর ২০২৬

দৈনিক সময়কাল

প্রেমিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢামেকের বাথরুমে প্রেমিকার আত্মহত্যা


প্রেমিকের আত্মহত্যার খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাথরুমে ঢুকে আত্মহত্যা করেছেন এক তরুণী। নিহত ওই তরুণীর নাম তন্ময়ী মন্ডল এবং তার প্রেমিকের নাম আকাশ মিত্র। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পুলিশ উভয় মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহত তন্ময়ী রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে আকাশ মিত্র একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। এই দুই মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক দুটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, তন্ময়ী মন্ডলের গ্রামের বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় এবং তিনি দুই বোনের মধ্যে ছোট ছিলেন। তার ছোট বোন তন্দ্রা মন্ডল রাজধানীর একটি প্রতিষ্ঠানে নার্সিংয়ে পড়াশোনা করছেন। তন্ময়ীর সঙ্গে কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা আকাশের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে আকাশ বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও তা গোপন করে নানা অজুহাতে তন্ময়ীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তন্ময়ী সেই টাকা প্রেমিক আকাশকে দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে তাদের মধ্যে মানসিক অশান্তির সৃষ্টি করে।

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনায় তন্দ্রা মন্ডল জানান, আকাশ তার বোনকে স্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করেননি এবং তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দেনার দায়ের চরম চাপ সহ্য করতে না পেরে আকাশ নিজ বাসায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। আকাশ মৃত্যুর আগে তার ডায়েরিতে আর্থিক সংকটের কথা লিখে গেছেন। প্রিয় মানুষের আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে তন্ময়ী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর তিনি হাসপাতালের নিচতলার একটি বাথরুমে প্রবেশ করেন এবং মর্মান্তিক এই পথ বেছে নেন।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, এর আগে কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে আকাশ মিত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে আকাশের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে শাহবাগ থানা পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের বাথরুম থেকে তন্ময়ী মন্ডলের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের বোন মর্গে গিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করেন। দুটি আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ও তাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ দুটি ঘটনারই পেছনের কারণ খতিয়ে দেখছে।