ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির সরকারি প্রশাসন। দেশের বিভিন্ন কৌশলগত অঞ্চল হুতিদের কবল থেকে মুক্ত করতে এবার সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিগত বেশ কিছুদিন ধরে চলা সংঘাতের জেরে এই নতুন সামরিক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে অঞ্চলটিতে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই সামরিক অভিযানে ইয়েমেন সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে আঞ্চলিক শক্তি সৌদি আরব। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অস্থিরতা ও হুতিদের প্রভাব বিস্তার রোধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এই পদক্ষেপে সহযোগিতা করছে। উভয় পক্ষের যৌথ এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে তা ইয়েমেনের চলমান গৃহযুদ্ধে বড় ধরনের মোড় নিতে পারে। বিশেষ করে কৌশলগত এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করাই এই যৌথ প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য।
স্থানীয় পুলিশের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিরা আল-সাফিয়া এলাকার বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। তারা ওই অঞ্চলের প্রধান সড়কটি বন্ধ করে দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত করছে। এমনকি স্থানীয় একটি থানা ভবনও জবরদস্তি দখল করে নিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। এর ফলে ওই এলাকায় সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে হুতিদের এই ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইয়েমেনের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই সামরিক অভিযানের সফলতার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।