দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আবাসনের খরচও। সাধারণ মানুষের আয়ের সিংহভাগই চলে যাচ্ছে কেবল মাথার ওপর ছাদটুকু নিশ্চিত করতে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য ও পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, গত চার বছরের ব্যবধানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাসাভাড়া প্রায় ছাব্বিশ থেকে সাতাশ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় এই ভাড়ার ঊর্ধ্বগতি সাধারণ ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য চরম এক আর্থিক সংকটের তৈরি করেছে। মফস্বল শহর বা অন্যান্য জেলা শহরের তুলনায় মেট্রোপলিটন এলাকায় বাড়িভাড়ার এই অস্বাভাবিক লাফে হাঁপিয়ে উঠেছে শহুরে জনগোষ্ঠী। বাড়িওয়ালারা নানা অজুহাতে প্রতি বছরই নিয়মিত ভাড়ার পরিমাণ বাড়িয়ে চলেছেন, যার কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ বা তদারকি লক্ষ্য করা যায় না।
এর ফলে নগরজীবনের মূল খরচের তালিকায় বাড়িভাড়া এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। হাতখরচ, যাতায়াত এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় কমিয়েও অনেকে কেবল ঘরভাড়া পরিশোধ করতেই হিমশিম খাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে আয়ের বড় একটি অংশ এই খাতে চলে যাওয়ায় পরিবারগুলো সঞ্চয় তো দূরের কথা, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতেও বাধ্য হচ্ছে কাটছাঁট করতে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শহরাঞ্চলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। আবাসন খাতের এই লাগামহীন ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে সঠিক নীতিমালার অভাব এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেই মূলত দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আবাসন খরচ আনতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।