রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশীয় অস্ত্রহাতে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করার সময় সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হন তারা। এ সময় একাধিক সাংবাদিকের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং তাদের পেশাগত কাজে মারাত্মকভাবে বাধা দেওয়া হয়। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকেই পুরো দেশের সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
হামলার শিকার হওয়া সংবাদকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম। হামলাকারীদের এলোপাথাড়ি মারধরে জাহিদুল ইসলামের মাথা ফেটে যাওয়ায় তাকে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসা নিতে হয়। এছাড়া আরও কয়েকজন সাংবাদিককে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে জখম করা ছাড়াও তাদের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ঘটনাস্থলে অন্য সাংবাদিকেরা প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি রেফায়েত উল্যাহ রুপক ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের আক্রমণ স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মুক্তচিন্তা প্রকাশের ওপর সরাসরি আঘাত। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সংবাদকর্মীদের মারধর করা, হুমকি দেওয়া কিংবা মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা মৌলিক অধিকারের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই ধরনের সহিংসতা রোধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্রসংগঠনের নেতারা।
এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার বিষয়টি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।