দেশের তরুণ সমাজকে নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে একটি বিশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ১৬ ও ১৭ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদীয়মান প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। জাতিসংঘের অধিবেশনের আদলে সাজানো এই শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণরা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় গুরুত্বসম্পূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাবেন। মূলত নীতিনির্ধারণের জটিল প্রক্রিয়া এবং এর বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে তরুণদের সম্যক ধারণা দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্মেলনের মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মোক্তাদির রায়হান জানিয়েছেন, দৈনন্দিন জীবনে নীতির নানা প্রভাব তরুণরা মুখোমুখি হলেও নীতিনির্ধারণের নেপথ্য প্রক্রিয়া জানার সুযোগ তারা খুব একটা পান না। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো নীতিনির্ধারক ও তরুণদের মধ্যকার সেই দূরত্ব কমিয়ে আনা। মডেল ইউনাইটেড নেশনস বা মডেল ইউএন ফরম্যাটে আয়োজিত এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধির ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন। এর ফলে তারা গবেষণা পরিচালনা, কূটনৈতিক আলোচনা, দর-কষাকষি এবং সমাধানভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের এক দারুণ বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সক্ষম হবেন।
এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে 'শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে তারুণ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে কৃষি উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়ন'। এই প্রতিপাদ্যের আলোকে মোট ছয়টি ভিন্ন কমিটির অধীনে সমস্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণরা কেবল নিজেদের মতামত তুলে ধরেই ক্ষান্ত হবে না, বরং কার্যকর সমাধানের পথ দেখাবে এবং নীতিনির্ধারকরাও তাদের বাস্তবসম্মত পরামর্শগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।
ফিউচার বাংলাদেশ, বেঙ্গলবাইট এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ ডিপ্লোম্যাটস ফেডারেশনের যৌথ ব্যবস্থাপনায় এই বড় আয়োজনটি সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। দেশের আটটি বিভাগ ও চৌষট্টি জেলার প্রায় পাঁচশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধিদের এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিয়ে সংসদীয় ও বহুপাক্ষিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে অনুশীলন করতে পারবেন।
নির্ধারিত এই সম্মেলনে একটি ফ্ল্যাগশিপ জাতীয় সংসদ কমিটি ছাড়াও খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, ইউএনডিপি, ইকোসক, ইউনিসেফ এবং ইন্টারন্যাশনাল প্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলো সক্রিয় থাকবে। অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা এসব বিশেষায়িত কমিটির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিতর্ক, দর-কষাকষি, প্রস্তাব খসড়া তৈরি ও নীতি পর্যালোচনার কাজ সম্পন্ন করবেন। ইচ্ছুক প্রার্থীরা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই আয়োজনে নিবন্ধনের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।